| বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 267 বার পঠিত
বীমা ব্যবসা নিবন্ধন নবায়ন ফি বিধিমালা, ২০১২’র সংশোধনী প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে সভা ডেকেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগ) মোঃ সাঈদ কুতুবের সভাপতিত্বে আগামী ১৫ ডিসেম্বর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বীমা ব্যবসা নিবন্ধন নবায়ন ফি বিধিমালা সংশোধনীর প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে আলোচনা হবে। ইতিমধ্যে সভায় অংশ নিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসেসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও ইন্স্যুরেন্স একাডেমির পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সভায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গত ৮ ডিসেম্বর বিভাগের উপসচিব ইফতেখাইরুল করিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সূত্র জানায়, চিঠির সঙ্গে আইডিআরএ থেকে প্রস্তাবিত বীমা ব্যবসা নিবন্ধন নবায়ন ফি বিধিমালা সংশোধনীর খসড়ার অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে দেখা যায়, আইডিআরএ’র খসড়া সংশোধনীতে বীমা ব্যবসার নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজারে গৃহীত গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২০২৬ ও ২৭ সালের জন্য ২.৫ টাকা, ২০২৮ ও ২৯ সালের জন্য ৪ টাকা, ২০৩০ সাল ও পরবর্তী সময়ের জন্য ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নিবন্ধন নবায়ন ফি বৃদ্ধির এই প্রস্তাবে শুরু থেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে বীমা খাতের অংশীজনের মধ্য থেকে। তারা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ভারে নুহ্য বীমা কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়তই যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে হঠাৎ করে ফি বাড়ানোর এই প্রস্তাব অযৌক্তিক। এতে ব্যবস্থাপনা ব্যয় আরো বাড়বে এবং এর প্রভাব একেবারে বীমা গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের পর্যায়ে পৌঁছাবে। সম্প্রতি বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আইডিআরএ’র মতবিনিময় সভায়ও এই ফি বৃদ্ধির প্রস্তাবে আপত্তি এসেছে।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর বিধিমালা সংশোধন নিয়ে আইডিআরএ’ আয়োজিত স্টেকহোল্ডার সভায়ও বিআইএ ও ইন্স্যুরেন্স ফোরামের পক্ষ থেকে ফি না বাড়ানোর দাবি তোলা হয়। সেই দাবি উপেক্ষা করেই ফি বাড়ানোর প্রস্তাবসহ বিধিমালা সংশোধনীর খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠায় আইডিআরএ।
অংশীজনরা বলেছেন, এতে বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়বে। এতে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য চাপ সৃষ্টি হবে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহককে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ঝুঁকি গ্রহণ করে। সেখানে প্রিমিয়ামের বিপরীতে আইডিআরএকে কেন ফি দিতে হবে।
আইডিআরএ’র ধাপে ধাপে ফি বাড়ানোর প্রস্তাবনাতেও আপত্তি তুলেছেন অংশীজনদের অনেকে। তারা বলছেন, সরকারি কোনো ফি সাধারণত একবারেই নির্ধারিত হয়। ধাপে ধাপে যে প্রক্রিয়ায় এটি পাঁচগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সেটিও সরকারি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বলে মনে করছেন তারা।
অংশীজনরা বলছেন, বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বাড়ানো হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো প্রত্যাশিত ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না। ফলে এজিএমের সময় শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এতে পুঁজিবাজারেও অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
বীমা ব্যবসা নিবন্ধন নবায়ন ফি গ্রস প্রিমিয়ামের প্রতি হাজারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ইতিমধ্যে ওই প্রস্তাব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগেও পাঠানো হয়েছে।
আইডিআরএ বলছে, কর্তৃপক্ষের জনবল বৃদ্ধি, জনবলের পেনশন-গ্র্যাচুয়িটি, নিজস্ব ভবন নির্মাণ, শাখা কার্যালয় স্থাপন, কোম্পানিগুলোকে ইন্স্যুরেন্স ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (আইআইএমএস) সেবা বিনামূল্যে প্রদান এবং পেশাদার সংস্থা যেমন বিসিআইআই, বিআইআইএম, একচ্যুয়ারিয়াল সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য এই ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আয় এবং ৩৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে আইডিআরএ। তবে সংস্থাটির ব্যয়বহনে হঠাৎ করেই কয়েকগুণ নিবন্ধন নবায়ন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে বীমা খাতের অংশীজনের মধ্য থেকে।
প্রশ্ন উঠেছে, কর্তৃপক্ষের জনবল বৃদ্ধি বা ভবন নির্মাণের মতো যেসব খাতে এই অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারের কাছে এর জন্য অর্থায়নের প্রস্তাব না করে বীমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের দিকেই কেন নজর দিচ্ছে আইডিআরএ?
এক সংবাদ সম্মেলনেও এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম। এ সময় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনেই বলা আছে এটি একটি স্বঅর্থায়িত প্রতিষ্ঠান হবে। নিজেদের আয়েই নিজেদের ব্যয়ভার বহন করতে হবে। অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এভাবে নিজেদের আয়ে চলছে।
তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ এ কর্তৃপক্ষের তহবিল সংক্রান্ত ধারায় যেসব উৎস থেকে অর্থ জমা হওয়ার কথা বলা হয়েছে তার শুরুতেই সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ এখানে সরকারের অনুদান আনার সুযোগ রয়েছে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে-চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পারিশ্রমিক, বেতন, ভাতা, ইত্যাদি এবং কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় এই তহবিল থেকে নির্বাহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইডিআরএ ভবন নির্মাণ, পেশাদার সংস্থা যেমন বিসিআইআই, বিআইআইএম, একচ্যুয়ারিয়াল সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্যও বীমা কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ নিতে ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এমনকি ইউএমপি বা আইআইএমএস সেবা টিকিয়ে রাখতেও এই অর্থ খরচের কথা বলা হয়েছে।
অংশীজনরা বলছেন, দেশের অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেমন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি’র মতো প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর কোন ধরণের নবায়ন ফি চার্জ করে না।
তারা বলছেন, আইডিআরএ সরকারের কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি বীমার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের এপ্রিলে সংস্থাটির তহবিল থেকে উদ্ধৃত্ত অর্থের ১০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছিলে আইডিআরএর তৎকালীন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ। এর আগে আইডিআরএ দু’বারে আরো ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছিল। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইনের তহবিল সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী এ টাকা জমা দেয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান হিসেবে এম শেফাক আহমেদের দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’দিন আগে সরকারের কোষাগারে এই ১০০ কোটি টাকা জমা দেয় বীমাখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
Posted ৯:০৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy