• অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাঠকের দৃষ্টি নতুন বইয়ে

    বিবিএনিউজ.নেট | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

    অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাঠকের দৃষ্টি নতুন বইয়ে
    apps

    অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কিছুটা হলেও দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। বিকালের তুলনায় সন্ধ্যার পর অনেকই ভিড় করছেন প্রাণের মেলায়। তবে পুরানো বইয়ে পাঠকের তেমন আগ্রহ নেই। ঘুরেফিরে নতুন বইয়ের খোঁজ করছেন পাঠকরা। পছন্দের বইয়ের পাশাপাশি বেশিরভাগ দর্শনার্থী নতুন বই দেখতে চান। তাই স্টলগুলোতে সবার সামনে নতুন বই সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

    অমর একুশে গ্রন্থমেলার তৃতীয় দিন ছিল বুধবার । এদিন বিকালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আগত দর্শনার্থী, প্রকাশক ও লেখকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলা মূলত বইপ্রেমী মানুষদের আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু। বই কেনা বা দেখার চেয়ে পাঠক-লেখকের মিলনমেলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকাশকরা বলছেন, দর্শনার্থীরা মেলায় এসে প্রথমে স্টলগুলোতে নতুন বইয়ের খোঁজ করেন। এরপর বইয়ের বিষয়বস্তু, লেখক বা লেখক পরিচিতির দিকে চোখ বুলান। তবে বিষয়বস্তু পছন্দ না হলে বড় লেখকদের বইও এড়িয়ে যাচ্ছেন পাঠকরা। সুন্দর পছন্দসই বিষয়বস্তু পেলে একেবারে নতুন লেখকদের বইও কিনছেন অনেকেই।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    দর্শনার্থীদের ভাষ্য, সবার আগে নতুন বই কিনে নেওয়ার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। তাই মেলায় এসেই নতুন বই খোঁজেন তারা। আর পছন্দের লেখকের নতুন বই আসলে তো কথাই নেই।

    তবে কেউ কেউ স্টলে না গিয়ে মেলার স্থাপত্যশিল্পে ঝোঁকছেন। বিখ্যাত ও পছন্দের লেখকের সঙ্গে ছবি তুলছেন। অনেকেই আবার প্রিয়জনদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন। তারাও মেলার বিভিন্ন স্থাপনার কাছে গিয়ে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছেন। বনশ্রী থেকে বন্ধুর সঙ্গে মেলায় এসেছেন সাজেদুল হক। বিভিন্ন স্টল ঘুরে আল মাহমুদের নতুন উপন্যাস ‘রাগিনী’ এবং ‘সহোদরা’। এরসঙ্গে বেশ কয়েকটি ভ্রমণ কাহিনীও কিনেছেন তিনি। পুরাণ ঢাকার ওয়ারী থেকে বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় এসেছেন রোকসানা বেগম। পেশায় শিক্ষিক রোকসানা বাচ্চাদের কিছু বই কিনে দিয়ে নিজের জন্য বই খুজঁছিলেন। আলাপকালে তিনি জানান, মূলত বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। পাশাপাশি নতুন বইয়ের প্রতি ঝোঁক থাকায় মেলায় এসেছেন।


    মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের ৫৯৬-৯৭ নম্বর স্টলের সামনে দেখা হয় বটেশ্বর প্রকাশনীর কর্ণধার বিলু কবিরের সঙ্গে। আলাপকালে তিনি জানান, পাঠকরা নতুন বই চাইছেন বেশি। এরইমধ্যে তার প্রকাশনী থেকে ১৫-১৬টি নতুন বই প্রকাশ করছেন। আরও বেশকিছু বই প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। তিনি আরও বলেন, পাঠকরা বই কেনার আগে লেখকের চেয়ে বিষয়স্তুর কথা বিবেচনায় নিচ্ছেন বেশি। এ ক্ষেত্রে অনেক খ্যাতনামা লেখকরাও প্রাধান্য পাচ্ছেন না। এই চারদিন তেমন বেচাকেনা না হলেও আগামী শুক্রবার থেকে পুরোদমে মেলা জমে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    মেলায় ৯৫ নতুন বই: আল মাহমুদের দুটি নতুন উপন্যাসসহ বুধবার মেলায় মোট ৯৫টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। আল মাহমুদের উপন্যাস ‘রাগিনী’ এবং ‘সহোদরা’ প্রকাশ করেছে সরলরেখা প্রকাশনী। তাছাড়া অনুপম প্রকাশনী থেকে সৌমেন সাহার বিজ্ঞান বিষয়ক বই ‘আকাশ দেখা ভারি মজা’, অন্য প্রকাশ থেকে শিহাব শাহরিয়ারের কবিতার বই ‘অদৃশ্য গুচ্ছ’, অনন্যা থেকে আসিফ নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘আওয়ামী আমল’, কথা প্রকাশ থেকে মুনতাসীর মামুনের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ ‘স্মৃতিময় ঢাকা’, হক ফারুক আহমেদের ‘মেঘদরিয়ার মাঝি’, হাসান আজিজুল হকের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘লেখা না-লেখা’, বিভাস থেকে মহাদেব সাহার ‘মুজিব সমগ্র’, ইকরি মিকরি প্রকাশন থেকে ধ্রম্নব এষের ‘অং বং চং’, মোজাম্মেল হক নিয়োগীর ‘পাখিদের খুশির দিন’ এবং গ্রন্থকুটির থেকে মোজাফফর হোসেন সম্পাদিত অনুবাদ গ্রন্থ ‘বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’ উলেস্নখযোগ্য।

    মূলমঞ্চ: বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অজয় দাশগুপ্ত রচিত বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন কৌশল ও হরতাল শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নূহ-উল-আলম লেনিন এবং আবু সাঈদ খান। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন অজয় দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামেন্দু মজুমদার।

    প্রাবন্ধিক বলেন, তরুণ বয়সেই শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষ্য স্থির করেছিলেন- স্বাধীনতা। পূর্ববঙ্গের বাঙালির নিজস্ব রাষ্ট্র চাই। এ জন্য সময়োচিত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন করায় তিনি ছিলেন কুশলী, বিচক্ষণ। লক্ষ্যে পৌঁছাতে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন করতে গিয়ে সর্বদা নজর ছিল জনগণকে যত বেশি সম্ভব সম্পৃক্ত করা। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, পঞ্চাশের দশকে আওয়ামী লীগকে পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতায় নিয়ে আসা, ষাটের দশকে সামরিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ প্রদান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা তুলে ধরা এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ- সবকিছুতেই তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে চলতে চেয়েছেন।

    আলোচকবৃন্দ বলেন, বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার কাছে স্বাধীনতা মানে ছিল গণমানুষের মুক্তি এবং নিপীড়িত, পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন। আর এ স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার জন্যই তিনি নিবিষ্ট থেকেছেন। অদম্য সাহস, সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও ফলপ্রসূ রাজনৈতিক কর্মসূচিই ছিল বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের কৌশল। বাঙালির জন্য স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের পরম লক্ষ্য সামনে রেখেই বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছেন এবং আন্দোলন সংগ্রামের জন্য বাঙালির চেতনাকে প্রস্তুত করে তুলেছেন।

    গ্রন্থের লেখক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুকে নানামুখী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছে। দিনের পর দিন রাজপথে সংগ্রাম করে তিনি গণমানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। তার আন্দোলন কৌশলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মানুষকে সম্পৃক্ত করা।

    সভাপতির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সাফল্যকে বুঝতে হলে তার আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসকে গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। আজীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনকারী বঙ্গবন্ধু ধর্ম, বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়েই আন্দোলনের পথে অগ্রসর হয়েছেন। তার আন্দোলনে গণসম্পৃক্ততা ছিল বলেই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি পেয়েছি।

    কবিতা পাঠ করেন কবি আলতাফ হোসেন, কবি জাহিদ হায়দার, কবি ফারহান ইশরাক ও কবি রনজু রাইম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এনামুল হক বাবু, ফয়জুল আলম পাপ্পু, ও নায়লা তারান্নুম চৌধুরী। সংগীত পরিবেশন করেন ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সুজিত মোস্তফা, এ কে এম শহীদ কবীর পলাশ, সম্পা দাস ও মো. মেজবাহ রানা। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন কাজী ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), ফিরোজ খান (সেতার) এবং ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড)।

    লেখক বলছি: বুধবার লেখক বলছি- অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মোহিত কামাল, স. ম. শামসুল আলম, সাকিরা পারভিন সোমা, রাহেল রাজিব।

    আজ যা থাকছে: অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৫ম দিন আজ। মেলা চলবে যথারীতি বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে নূহ-উল-আলম লেনিন রচিত রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মোহীত উল আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আসাদ মান্নান এবং সাহেদ মন্তাজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ হাসান ইমাম। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি