• শিরোনাম

    কোরাম হয়নি তবুও বোর্ড মিটিং

    আইন লঙ্ঘন করে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের মিটিংয়ে প্রক্সি পরিচালক

    বিবিএনিউজ.নেট | ২০ জুন ২০১৯ | ১:৫৮ অপরাহ্ণ

    আইন লঙ্ঘন করে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের মিটিংয়ে প্রক্সি পরিচালক

    প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বোর্ড মিটিংয়ে প্রক্সি পরিচালক দিয়ে মিটিং পরিচালনা করে থাকেন। অথচ কোম্পানি আইন ১৯৯৪ সনের ১৮নং আইনের ১০০তম ধারায় উল্লেখ আছে, ‘কোনো পরিচালক অন্য কোনো ব্যক্তিকে তাহার পদের স্বত্বনিয়োগ করিলে তাহা অকার্যকর এবং ফলবিহীন হইবে, উহার কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।’

    সর্বশেষ গত ৩০ মে ২০১৯ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৩১৫তম বোর্ড মিটিংয়ে একই অবস্থা দেখা গেছে। কোম্পানির পরিচালকের দায়িত্বে থাকা নিলুফার হোসাইন বার্ষিক সাধারণ সভাসহ বেশ কয়েক বছর বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত হননি। তবে প্রতিটি মিটিংয়ে তার প্রক্সি পরিচালক হিসেবে তার স্বামী হোসেন মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সময়ে কোম্পানির পরিচালক দিল আরা বেগমও বোর্ড মিটিংয়ে তার প্রক্সি হিসেবে স্বামী শামসুল আলমকে পাঠিয়ে থাকেন। তবে ৩১৫তম বোর্ড মিটিংয়ে শামসুল আলম নিজে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন। তবে আইনের বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলেও জানান। একই বিষয় নিয়ে মোহাম্মদী খানম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বোর্ড মিটিংয়ে প্রক্সি পরিচালক ছিলেন সত্যি, তবে আমাদের অনুমোদন নেয়া আছে। এছাড়া কোম্পানি সচিব এনামুল হক জানান, বোর্ডের কোনো বিষয় আমি বলতে বাধ্য নই, আমি ছুটিতে আছি।

    কোরাম পূর্ণ নিয়ে প্রশ্ন : প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ‘সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে উল্লেখ আছে ভোট প্রদানের অধিকারী এমন ন্যূনতম ৮ (আট) জন সদস্য উপস্থিত থাকিলে বোর্ডসভার কোরাম পূর্ণ হইবে এবং কোরাম যদি সভার নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টার মধ্যে না হয় এবং সভা যদি সদস্যগণের উপরোল্লিখিত তলবনামার পরিপ্রেক্ষিতে আহবায়িত হইয়া থাকে তাহা হইলে সেই সভা মুলতবি করে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করতে হবে।’ অথচ পরিচালকদের কাছে পাঠানো নোটিশে ৩১৫তম বোর্ড মিটিং বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অফিসে আসেন পরিচালক রাহেলা হোসাইন, যা বিল্ডিয়ের লবি ও অফিসের সিসি টিভির ভিডিওতে প্রমাণ মিলে। বোর্ড মিটিংয়ে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান মো. জাকিউল্লাহ শহিদ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহেদা পারভিন তিশা, পরিচালক মাহবুবা হক, আবু হাসান খান, ড. ফাতেমা রওশন জাহান। কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় উক্ত সভাটি ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

    তড়িঘড়ি করে কেন বোর্ড মিটিং: গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পরিচালনা পর্ষদের অনুষ্ঠিত বোর্ডসভায় সিইও মোহাম্মদী খানমের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে পরিচালকরা অভিযোগ করলে পরিচালকদের সাথেও সিইওর তুমুল হট্টগোল হয় । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে মোহাম্মদী খানমকে বহিষ্কার করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান জাকিউল্লাহ শহিদ। তবে সিইও মোহাম্মদী খানম খুবই চতুরতার সাথে ভাইস চেয়ারম্যান শাহেদা পারভিন তিশার মাধ্যমে বহিষ্কারপত্র প্রত্যাহারের তদবির শুরু করেন। এমতাবস্থায় তিনি সফলও হন। কর্মজীবনে কালিমা লেপন থেকে রেহায় পেয়েছেন এই যাত্রায়। তবে একইদিনে তিনি আবার পদত্যাগপত্র জমা দেন কোম্পানির সেন্ট্রাল ডেসপাসে।

    বিষয়টি নিয়ে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকদের মাঝে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়। এইসব নাটকীয়তার মধ্যে ৩০ মার্চ কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভাও শেষ হয়। এ অনিয়মের সাথে কোম্পানি সচিব এনামুল হক খানও বিভিন্নভাবে জড়িত ছিলেন। কোম্পানির ৩১৪তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয় ৪ মে ২০১৯। এ বোর্ডসভায় পরিচালকরা সিইও মোহাম্মদী খানমকে ২৭ মে পর্যন্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সে ঘটে যায় এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। গত ১২ মে রাতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে স্টিলের কেবিনেটসহ ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অডিট কমিটির ৩টি ল্যাপটপ চুরি হয়। এই ঘটনায় সন্দেহের তীর যায় সিএফও বাদল চন্দ্র রাজবংশীর দিকে। পুলিশ রাজবংশীসহ প্রতিষ্ঠানটির ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই ‘ইমার্জিং এশিয়া ইন্স্যুরেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ নামক একটি পদক অর্জন করেছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এ ঘটনার অজুহাতে মোহাম্মদী খানমকে বৈধ করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে চেয়ারম্যান জাকিউল্লাহ শহিদসহ কয়েকজন পরিচালক। এই কারণে ৩০ মে তড়িঘড়ি করে এই বোর্ডসভায় সিইওকে কৌশলে ১০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করে সিইওর চাকরির বৈধতা দেয়, যা বোর্ডের ৯নং এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পকেট খরচ বাবদ কোনো বরাদ্দ দেওয়ার আইন না থাকায় একই নোটিশের ১৫নং এজেন্ডায় ‘মিরসরাই কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার নামে ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে সে টাকা সিইওকে পকেট খরচ বাবদ প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি।

    বোর্ড সচিব এনামুল হকের অনিয়ম- সিইওর পদত্যাগের বিষয়টি কোম্পানি সচিব বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা থাকলেও প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এই বিষয়ে তিনি কোনো চিঠি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে না দিয়ে গোপন করেছে। এই বিষয়ে মোহাম্মদী খানম থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ে পরিচালকদের পরিবর্তে আইন লঙ্ঘন করে প্রক্সি ব্যক্তিতে বোর্ডে প্রতিনিধি হিসেবে দেখিয়ে পরিচালকদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকেন। শুধু তাই নয় বোর্ড মিটিংয়ে পরিচালকরা ৮ হাজার টাকা করে ভাতা নেয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ঈদের আগের এই বোর্ডসভায় ঈদ সালামি বাবদ পরিচালকদের ১ লাখ টাকা করে ভাতা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং প্রক্সি পরিচালকদের কাছ থেকে একটি অংশ এনামুল হক পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন।

    সম্প্রতি কোম্পানি সচিব এনামুল হকের বিরুদ্ধে এইসব অনিয়ম ও তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এক বিনিয়োগকারী মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পারিবারিক বলয়ে বন্দী সানলাইফ

    ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি