বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আগুনে পুড়লো গুলশান ১-এর কাঁচাবাজার

বিবিএনিউজ.নেট   |   শনিবার, ৩০ মার্চ ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   281 বার পঠিত

আগুনে পুড়লো গুলশান ১-এর কাঁচাবাজার

ঢাকায় বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত না শুকাতেই আগুনে পুড়ল পাশের এলাকা গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেট লাগোয়া কাঁচাবাজার।

শনিবার ভোরে আড়াই ঘণ্টার এই অগ্নিকাণ্ডে ওই কাঁচাবাজারের দেড়শর মতো দোকানের সবই ভস্মীভূত হয়েছে।

আগুনে কাঁচাবাজারের সামনের পাঁচতলা গুলশান শপিং সেন্টারের কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার লাগোয়া গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছিল গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট। তখন দোতলা মূল বিপণি বিতানের পাশের কাঁচাবাজারও সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল।

তারপর ওই বাজারটি নতুন করে গড়ে তোলার দুই বছরের মধ্যে আবার তা পুড়ে গেল।

শনিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে কাঁচাবাজারটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তা নেভাতে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।

তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের ডিউটি অফিসার আলমগীর হোসেন তখন বলেন, “ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগে। আমাদের ১৫ টি ইউনিট কাজ করছে। ইউনিটের সংখ্যা বাড়তে পারে।”

এরপর ফায়ার সার্ভিসের ২০টির মতো ইউনিটের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও যোগ দেন আগুন নেভানোর কাজে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক এনায়েত হোসেন বলেন, “আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও কাঁচাবাজার অংশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দোকানে ঢুকে ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছিল, বেরিয়ে আসছিল পোড়া মাছ-মুরগি, বিভিন্ন রকম খাদ্যপণ্যের ক্যান।

গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেটের দোতলা ভবনের পূর্ব পাশঘেঁষে লোহার কাঠামোর উপর টিন দিয়ে গড়ে ওঠা এই কাঁচাবাজারে মাংস ও মাছের দোকানের পাশাপাশি মুদি ও সুগন্ধীর দোকান ছিল।

আমদানি করা খাদ্যপণ্য ও প্রসাধনীর অনেক দোকানের পাশাপাশি প্লাস্টিকের খেলনার দোকানও ছিল সেখানে। তার একটিকেও অক্ষত দেখা যায়নি।

এই কাঁচাবাজারে দেড়শর মতো দোকান ছিল বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস এম তালাল রিজভী।

তিনি বলেন, “কোনোটিই আর নেই। সবগুলো পুড়ে গেছে।”

তবে তাদের দোতলা বিপণি বিতানটি অক্ষত রয়েছে বলে জানান রিজভী। দোতলা মূল বিপণি বিতানে দোকান রয়েছে ২৩৪টি।

অগ্নিকাণ্ডে কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডস্থলে উৎকণ্ঠা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন দোকানি জানিয়েছেন, রাতে দোকানগুলোতে কেউ থাকে না, বাজারের কলাপসিবল গেইটে তালা মেরে পাহারাদাররাও বাইরেই থাকেন।

কাঁচাবাজারের সামনে পাঁচ তলা গুলশান শপিং সেন্টারেও আগুন ছড়িয়েছিল। সেখানে দোতলার বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপণি বিতানে রয়েছে, হার্ডওয়্যারের দোকান, হার্ডওয়্যারের দোকান, বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান।

কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ধারণা, কাঁচাবাজারের সুগন্ধীর কোনো দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন। তারা বলছেন, দুই বছর আগে অগ্নিকাণ্ডের পর তেমন সহায়তা পাননি তারা, নিজের চেষ্টায়ই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলা জটিলতার কারণে এখানে স্থায়ী একটি মার্কেট গড়া যাচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ এখন নেবেন তিনি।

আগুন লাগার পর উদ্ধার কাজের জন্য গুলশান-১ নম্বর সংলগ্ন সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ৩০ মার্চ ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।