সোমবার ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
চেয়ারম্যান না থাকায় আইডিআরএ’র  কার্যক্রমে স্থবিরতা

আটকে আছে শতাধিক জনবলের বেতন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ১১৭ বার পঠিত

আটকে আছে শতাধিক জনবলের বেতন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

দেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় সংস্থাটির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে দেশের বীমা খাতে নীতিনির্ধারণ, তদারকি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এমনকি চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকায় সংস্থাটির শতাধিক জনবলের বেতনও আটকে আছে। বীমা খাতের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন এবং বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পলিসিহোল্ডারদের সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আইডিআরএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নেতৃত্ব সংকট থাকলে বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, দাবি নিষ্পত্তি তদারকি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা বাধাগ্রস্ত হয়।

জানা যায়, গত ২ মার্চ আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. এম আসলাম আলম। পদত্যাগ করার পর আইডিআরএ-তে নতুন করে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। আবার কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও করা হয়নি। ফলে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান পদ খালি থাকায় বোর্ড সভা হচ্ছে না। এতে সংস্থাটির শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন আটকে রয়েছে বলে আইডিআরএ’র একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আসলাম আলম ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আইডিআরএর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু দেড় বছরের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন।

বীমা খাত সংম্লিষ্টরা জানান, চেয়ারম্যান না থাকায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।

খাত বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত চেয়ারম্যান নিয়োগ না দিলে বীমা খাতের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সূত্র বলছে, শিগগিরই চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

এদিকে বীমা খাতের অংশীজনরা দ্রুত এই পদে যোগ্য এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, শক্তিশালী নেতৃত্ব ছাড়া এই খাতকে টেকসই ও গতিশীল রাখা সম্ভব নয়।

এদিকে চেয়ারম্যান নিয়োগে বিলম্ব নিয়ে সম্প্রতি সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে । এতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওপর চাপ বাড়ছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চেয়ারম্যানবিহীন অবস্থায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধান চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, গত ২ মার্চ আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। কিন্তু এরপর এক মাসের বেশি সময় পার হলেও নতুন কোনো চেয়ারম্যান বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে সংস্থাটিতে চারজন সদস্য থাকলেও কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে আছে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।

নোটিশে দাবি করা হয়, এই অচলাবস্থার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ বন্ধ রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানবিহীন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো বীমা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে।”

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০’ অনুযায়ী সংস্থাটির কার্যক্রম সচল রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শীর্ষ পদ শূন্য রেখে প্রশাসনিক ও আইনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এদিকে আইডিআরএ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বীমা খাতের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন এবং বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পলিসিহোল্ডারদের সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ বা বর্তমান সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ১২:৫৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com