শুক্রবার ২৪ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক আদালতের রায় : নাইকোর কাছে এক বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৩ মে ২০২০   |   প্রিন্ট   |   413 বার পঠিত

আন্তর্জাতিক আদালতের রায় : নাইকোর কাছে এক বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি নাইকোর বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক আদালত ইকসিড। বাংলাদেশের পক্ষে রায় ঘোষণার ফলে এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ া পরিশোধ করবে নাইকো।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তির প্লাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুটেড (ইকসিড) এই রায় ঘোষণা করেছে। এতে নাইকোর কাছে বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে। যদিও ইকসিড স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি নির্ণয় করে বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বেলেছে। সব মিলিয়ে আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আজ রোববার (৩ মে) দুপুরে বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিজ বাসভবন থেকে ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি নাইকোর বিরুদ্ধে মামলায় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এ বিষয়ে দেওয়া রায়ে নাইকোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালত ইকসিড।

‘নাইকোকে দায়ী করে এবং তাদের অভিযুক্ত করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ যুগান্তকারী এ রায় দেওয়া হয়। নাইকো দক্ষতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে এবং পেট্রোলিয়াম শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে।’

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইকসিডের রায়ের ফলে নাইকোর দাবি করা পাওনা আর পরিশোধ করতে হবে না বাংলাদেশকে। এছাড়া ব্লক ৯ বা কুমিল্লার বাঙ্গুরায় নাইকোর সম্পত্তিও বাংলাদেশ নিয়ে নিতে পারবে।

নসরুল হামিদ বলেন, আশা করা হচ্ছে ক্ষতিপূরণ বাবদ বাংলাদেশ নাইকোর কাছ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে।

দরপত্র ছাড়াই ছাতকসহ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকারকে একটি প্রস্তাব দেয় নাইকো। জ্বালানি বিভাগ এ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে তিনটি নির্দেশনা দেয়।

এতে বলা হয়, বাপেক্স ও নাইকো যৌথভাবে সমীক্ষা করে প্রান্তিক গ্যাসক্ষেত্র নির্ধারণ করবে। এরপর উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্রে কেউ নাইকোর চেয়েও আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিলে তারাই গ্যাসক্ষেত্র ইজারা পাবে।

এ ব্যাপারে বাপেক্স মত দেয়, ছাতককে প্রান্তিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণার সুযোগ নেই। কারণ সেখানে কোনো গ্যাসই তোলা হয়নি। অন্যদিকে, তৎকালীন আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদের আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মওদুদ আহমদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট মত দেয়, ছাতককে প্রান্তিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা যায়। সরকার এই মত আমলে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে ২০০৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করে বাপেক্স। গ্যাসক্ষেত্রে অনুসন্ধান কূপ খননকালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে মজুদ গ্যাস পুড়ে যায়। আশপাশের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এজন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, যা দিতে নাইকো অস্বীকৃতি জানায়। ক্ষতিপূরণ আদায়ে পেট্রোবাংলা নাইকোর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৬:০৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২০

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11231 বার পঠিত)

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।