• শিরোনাম

    ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

    বিবিএনিউজ.নেট | ০৭ জুলাই ২০১৯ | ১:৪২ অপরাহ্ণ

    ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

    বাংলাদেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

    ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। বাংলাদেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে মূল আলোচনার আগে ‘ইসলামি অর্থনীতি’ বা ‘ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং’ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া দরকার।
    উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ইসলামি অর্থনীতি মানে কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক পরিচালিত অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা। ইসলামি কৃষ্টি ও তমদ্দুনসমৃদ্ধ যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তা-ই ইসলামি অর্থনীতি। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুনের মতে, ‘ইসলামি অর্থনীতি হলো জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নীতি-পদ্ধতি অনুসরণে সৃষ্টির লালন-পালনের যাবতীয় জাগতিক সম্পদের সামগ্রিক কল্যাণধর্মী ব্যবস্থাপনাই ইসলামি অর্থনীতি।’

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. এম নেজাতুল্লাহ সিদ্দিকীর মতে, ইসলামি অর্থনীতি সমকালীন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিম চিন্তাবিদদের জবাব। আর ড. এমএ মান্নানের বয়ান অনুযায়ী, ইসলামি অর্থনীতি হলো একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে।

    ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা হিফজুর রহমান (রহ.) বলেন, শরিয়তের পরিভাষায় যে বিদ্যা বা জ্ঞানের মাধ্যমে এমন সব উপায় সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া যায়, যার দ্বারা ধন-সম্পদ আহরণ ও ব্যয়ের উপযুক্ত ও সঠিক পন্থা এবং বিনষ্ট হওয়ার প্রকৃত কারণ নির্দেশ করা হয় তাকে ‘ইসলামি অর্থনীতি’ বলা হয়। ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মূলমন্ত্র হিসেবে নিয়েই শরিয়াহ্ভিত্তিক লেনদেন বা ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। যার আলোকেই শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পথচলা।

    বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বেশ পুরোনো। কিন্তু অতীতে আজকের মতো এতটা জনপ্রিয় ছিল না। ৮০’র দশকের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং চালু ও পরবর্তী সময়ে বিকশিত হলেও বিংশ শতাব্দীতে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। গতানুগতিক ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংও ইদানীংকালে সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    ইসলামি শরিয়াহ্ মেনে চলা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুুলনায় ভিন্ন। অন্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ প্রকল্পের বিপরীতে নির্দিষ্ট মেয়াদে গ্রাহককে ঋণ দেয়। ঋণের বিপরীতে ফি-বছর নির্ধারিত হারে সুদ নেয়। মূল ঋণের সঙ্গে সুদ মিলিয়ে সেই অর্থ ঋণপত্রের শর্ত মোতাবেক ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার দায় বহন করে না। চলমান এ ধারার বিপরীতে ইসলামি শরিয়াহ্ মেনে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহককে ঋণ নয়, বরং বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেয়। আর সুদের বদলে বিনিয়োগ গ্রহীতার কাছ থেকে মুনাফার অংশ নেয়। সে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সব ক্ষেত্রে ইসলামি অনুশাসন ও বিধিনিষেধ মেনে চলা হয়। এখানেই বাংলাদেশের অন্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের পার্থক্য।

    ২০০০ সালে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিতে বাণিজ্যিক পথচলা শুরু করে ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। নন-ব্যাংকিং ও ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে গণমানুষের অপর্যাপ্ত ধারণা, প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব ও ব্যাংক খাতে বড় দুর্যোগের মধ্যেও বিগত প্রায় দু’দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছে। শুরুটা সুখকর না হলেও পাঁচ বছরে এগিয়েছে ইসলামিক ফাইন্যান্স। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৮ সাল শেষে কোম্পানিটির বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে ডিপোজিট বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এ সময়ে ইসলামিক ফাইন্যান্সের সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে সর্বশেষ প্রায় এক হাজার ৬৭৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর ভর করে পরিচালন আয়-মুনাফার প্রবৃদ্ধিও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।

    ইসলামিক ফাইন্যান্স বাংলাদেশে পাঁচ খাতে বিনিয়োগ করছে। এর বাইরে রফতানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তা, কৃষি ও সবুজ ব্যাংকিংয়ে অর্থায়ন করছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি। এর মধ্য দিয়ে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে নিরলস কাজ করছে ইসলামিক ফাইন্যান্স। এর স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের প্রথম ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক নন-ব্যাংকিং আর্থিক কোম্পানি হিসেবে পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্মানসূচক পুরস্কারও পেয়েছে ইসলামিক ফাইন্যান্স। প্রায় দু’দশকের পথচলার অভিজ্ঞতা, গ্রাহকের আস্থা ও ভবিষ্যতের চাহিদাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে থাকাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি