সোমবার ২০ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনার ধাক্কা ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০   |   প্রিন্ট   |   378 বার পঠিত

করোনার ধাক্কা ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধিতে

করোনার ধাকায় টালমাটাল ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধি। গত মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমানত প্রবৃদ্ধিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জুন শেষে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। কিন্তু গত ডিসেম্বরে ও এই প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১২ শতাংশের উপরে। তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। আগের বছরের একই মাসে যা ছিল ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৬ কোটি। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে আমানত প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিংখাতের আমানত ছিল ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। যা আগের বছরের (২০১৮) একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের (২০১৯-২০) মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নিলেও বিক্রি কমতে থাকায় পরবর্তীকালে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ধরা হয়। গত জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে মোট ৫৭ হাজার ৮০৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির বিপরীতে মূল পরিশোধ হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। মূল অর্থ পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ নিট বিক্রি হিসেবে গণ্য হয়। সেই হিসেবে গত অর্থবছরের ১১ মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ ১১ হাজার ১১ কোটি টাকা। কিন্তু আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) একই সময়ে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা এবং নিট বিক্রি ছিল ৪৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত (২০১৯-২০) অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমেছে ৭৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমানত প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মূল কারণ করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে এর আক্রমণের শুরু থেকেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্যাংকিং খাতের উপর। কোভিড চলাকালীন পরিস্থিতিতে চাকরি হারিয়েছেন অনেক মানুষ। যাদের চাকরি রয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেরই বেতন কমে গেছে। তাই নতুনভাবে সঞ্চয়ের চিন্তা না করে জীবন বাঁচানোর চিন্তায় সাধারণ মানুষ। নতুন করে সঞ্চয় তো দূরের কথা উল্টো ব্যাংকের ডিপোজিট ভেঙে ফেলছেন অনেক গ্রাহক।

অন্যদিকে, সঞ্চপত্রের বিক্রিও নেমেছে তলানিতে। গত কয়েক বছর ধরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছিল। ওই বিক্রিতে লাগাম টানতে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বেশ কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। ফলে কিছুটা কমতির দিকেই ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। সম্প্রতি করোনা মাহামারিতে সঞ্চয়তো দূরের কথা উল্টো সঞ্চয় তুলে নিচ্ছেন অনেক গ্রাহক। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ গত মে মাসে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি হমেছে ৭৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১০:৫৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11228 বার পঠিত)

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।