নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 206 বার পঠিত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের কল্যাণ, পেশাগত উৎকর্ষ এবং আর্থিক খাতে উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করতে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও আর্থিকখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘পেশাগত উৎকর্ষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যত’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (বিআইপিডি) দশমবারের মতো এ সেমিনারের আয়োজন করেছে।
বক্তারা বলেন, পেশাগত উৎকর্ষ অর্জন ও জনস্বার্থ রক্ষায় এআই ব্যবহার বাড়াতে হবে; একইসঙ্গে এ প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বিআইপিডির চেয়ারম্যান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথম্যাটিক্স অ্যান্ড ফিজিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
স্বাগত বক্তব্যে বিআইপিডির মহাপরিচালক কাজী মো. মোরতুজা আলী বলেন, দেশের আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম করতে এবং এআই সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়াই এই সেমিনারের উদ্দেশ্য। সহজ, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ সম্পাদনে এআই এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার তখনই নিশ্চিত করা সম্ভব, যখন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করবে এবং মানবসম্পদকে দক্ষ করে তুলবে। উন্নত অর্থনীতির মতো বাংলাদেশেও আর্থিক খাত দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে; ফলে এআই চালিত অটোমেশন, জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ ও গ্রাহকসেবা উন্নয়ন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা উল্লেখ করেন, এআই প্রযুক্তি যেমন বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, তেমনই বয়ে আনে সাইবার ঝুঁকি, ডেটা অপব্যবহার এবং স্বচ্ছতা-সংকটের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ। তাই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নৈতিক ব্যবহার এবং উপযুক্ত সুরক্ষা–ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এআই চালিত রিস্ক মডেল, গ্রাহক যাচাইকরণ , জালিয়াতি শনাক্তকরণ অ্যালগরিদম এবং ডিজিটাল ক্লেইম প্রসেসিং ব্যবহার শুরু করেছে। এ সব প্রযুক্তি মানবিক ভুল কমানো, সেবার গতি বাড়ানো এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তাদের মতে, আগামীতে বাংলাদেশে আর্থিক খাতে ডিজিটাল সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এ সময়ের মধ্যে যদি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই কাঠামো শক্তিশালী করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বাড়বে।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন অবশ্যই মানুষের জন্য। তাই এআই ব্যবহারে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, অটোমেশনের মধ্যেও মানুষের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ভূমিকা কখনোই কমবে না-বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান- জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর- বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম জাহিদ, প্রফেসর ও চেয়ারম্যান (ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ)-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এবিএম নুরুল হক, সিনিয়র কনসাল্টেন্ট, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এবং মোস্তফা কামাল মুজেরী, ভাইস চেয়ারম্যান-একাডেমিক কাউন্সিল-বিআইপিডি ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর- আইএনএম।
সেমিনারে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিআইপিডির একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞবৃন্দ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ এতে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের প্রথম সেশনটি মডারেট করেন ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন , সাবেক চেয়ারম্যান- জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর- বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া, এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মোঃ আব্দুল কাদির, হেড অব রিইন্স্যুরেন্স- রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মিসেস শারমিন তাজরিয়া অনন্যা- অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি এবং আলতাফ উদ্দিন, চীফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, কানসাস সেক্রেটারী অব স্টেট, ইউএসএ। এ সেশনে বক্তারা বীমা খাতে এআই চালিত উদ্ভাবন, দক্ষ কর্মী তৈরি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়ণ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
দ্বিতীয় সেশনটি মডারেট করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র সিআইটিও মো. রেজওয়ান আল বখতিয়ার। এই সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন ড. জাহিদুজ্জামান জাহিদ-সোনালী ব্যাংক পিএলসি, খন্দকার শহীদ হায়দার, এ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার-অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, আবু সাইদ মোঃ আশরাফুজ্জামান, সাবেক চীফ ডিজিটাল অফিসার-এনআরবি ব্যাংক পিএলসি এবং ফয়সাল আহমেদ-বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। এই সেশনে জালিয়াতি শনাক্তকরণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং নিরাপদ ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে ছিল বিশেষ আলোচনা।
সেমিনারের তৃতীয় সেশন মডারেট করেন প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি এন্ড সিইও মো. জালালুল আজিম। এই সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন এস. এম জিয়াউল হক , মাইক্রোইন্স্যুরেন্স বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সিইও-চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মোঃ সাইফুল আলম তালুকদার, এভিপি-বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি এবং ফাহমিদুল আলম, নেটকম লার্নিং। এআই নির্ভর রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ডেটা ড্রিভেন সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশি আর্থিক বাজারে প্রযুক্তির সম্ভাবনা ছিল আলোচনার মূল বিষয়।
এই সেমিনার আয়োজনে বিআইপিডির নলেজ পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ জেনারেল ইনসিওরেন্স কোম্পানি পিএলসি (বিজিআইসি)। প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছে টাইজার গ্রুপ এবং গোল্ড স্পন্সরশীপ করেছে ইন্স্যুরেন্স ইনষ্টিটিউট অব ইন্ডিয়া । এছাড়া সিলভার স্পন্সর হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, নিটল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিঃ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি।
প্রায় শতাধিক শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এই সেমিনার আয়োজনে বিআইপিডির মিডিয়া পার্টনার ছিল ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি, ইন্স্যুরেন্স জবস বিডি এবং দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি।
Posted ৫:২৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy