মঙ্গলবার ২১ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ক্ষ্যাপাটে সিনেমাওয়ালা ঋত্বিক ঘটকের জন্মদিন আজ

বিবিএনিউজ.নেট   |   বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২০   |   প্রিন্ট   |   344 বার পঠিত

ক্ষ্যাপাটে সিনেমাওয়ালা ঋত্বিক ঘটকের জন্মদিন আজ

বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে উল্কার মতোই জ্বলে ওঠে ধুপ করে নিভে যাওয়া এক ক্ষ্যাপা নক্ষত্রের নাম ঋত্বিক কুমার ঘটক। আপাদমস্তক চলচ্চিত্র পাগল এক মানুষ ছিলেন। মাত্র ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা তৈরি করেই দর্শক ও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের কাছে এক বিস্ময়ের নাম হয়ে আছেন ঋত্বিক। তিনি বাংলা সিনেমায় স্বপ্নবিলাসী নির্মাতাদের সাহসের প্রতীক।

আজ ৪ নভেম্বর নন্দিত এই চলচ্চিত্র নির্মাতার ৯৫তম জন্মদিন।

১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকার ঋষিকেশ দাশ লেনে জন্মগ্রহণ করেন ঋত্বিক ঘটক। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তার পরিবারের সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে যান। তবে নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করে শরণার্থী হওয়ার মর্মবেদনা ঋত্বিক কোনো দিন ভুলতে পারেননি এবং তার জীবন-দর্শন ও সিনেমা নির্মাণে এই ঘটনা ছিল সবচেয়ে বড় প্রভাবক। পরবর্তীকালে তার সৃষ্টির মধ্যে দেশভাগের বেদনার বারবার ফুটে উঠেছে। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষও তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিলো।

মাত্র ৫১ বছরের জীবন ঋত্বিক কুমার ঘটকের। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন ৮টি। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন ১০টি। আরও অনেকগুলো কাহিনীচিত্র, তথ্যচিত্রের কাজে হাত দিয়েও শেষ করতে পারেননি। এই হাতে গোনা কয়েকটি চলচ্চিত্র দিয়েই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকারদের কাতারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

ঋত্বিক ঘটক ১৯৫১ সালে ভারতীয় গণনাট্য সংঘে যোগ দেন। এ সময়ে বেশ কিছু নাটক লেখেন, অভিনয় করেন ও নির্দেশনা দেন।

ঋত্বিক ঘটকের প্রথম ছবি ‘নাগরিক’। প্রথম ছবি নির্মাণের পাঁচ বছর পর ১৯৫৭ সালে ঋত্বিক ঘটক নির্মাণ করেন ‘অযান্ত্রিক’। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চমকে যান চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। ক্ষ্যাপাটে এক নির্মাতার নির্মাণে মুগ্ধ হলেন দর্শক। সফল চলচ্চিত্রকার হিসেবে তিনি খ্যাতি লাভ করেন এই ছবিটি দিয়ে।‘অযান্ত্রিক’-এর পর ঋত্বিক নির্মাণ করেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (১৯৬০) ‘কোমল গান্ধার’ (১৯৬১) ও ‘সুবর্ণরেখা’ (১৯৬৫)। তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ব্যবসা সফল সিনেমা ‘মেঘে ঢাকা তারা’। পারিবারিক গল্পে পরিবারের জন্য একজন নারীর আত্মত্যাগের করুণ চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে। তবে অনেক গল্প-আড্ডায় জানা যায় যে এই ছবিটিকে ঋত্বিক নিজে পছন্দ করতেন না খুব একটা। বলতেন মশলাদার ভাবনায় সস্তা সেন্টিমেন্টের গল্প। কিন্তু এই বাস্তবিক অর্থে এই ছবিটি ষাট দশকের পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ ও ভারতের বাঙালি চিন্তা চেতনাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিলো।

২০১৩ সালে আবারও একটি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ নির্মিত হয়। কমলেশ্বর মুখার্জির সেই ছবিতে নীলকণ্ঠ বাগচীর চরিত্রে শ্বাশত চ্যাটার্জি মূলত ঋত্বিক ঘটককেই ফুটিয়ে তুলেছেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসে নির্মাণ করেন তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। এটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়। অদ্বৈত মল্লবর্মণের ধ্রুপদী উপন্যাস থেকে নেওয়া এ ছবিটি পেয়েছিল ব্যাপক প্রশংসা। এরপর ১৯৭৪ সালে মুক্তি পায় ঋত্বিকের শেষ ছবি ‘যুক্তিতক্ক আর গপ্পো’।

এরপরই ঋত্বিক ঘটক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। প্রায় তিন বছর মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মানসিক ভারসাম্য হারানো অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫০ বছর বয়সে মারা যান এই সেলুলয়েড শিল্পী।

নির্মাণের পাশাপাশি ঋত্বিক ছিলেন চলচ্চিত্রের বিশ্লেষকও। চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি তার ভাবনাগুলোকে বলে গেছেন অবলীলায়, সহজ দৃষ্টিতে। সিনেমাকে তিনি দেখতেন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে। সিনেমা দিয়ে তিনি মানুষের মনের গোপন কুঠুরীতে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। তার মতে, ‘সিনেমার কাজ দর্শকের মন যোগানো না, মন জাগানো।’ তিনি মনে করতেন, ‘ফিল্ম মানে ফুল নয়, অস্ত্র।’

তবে ঋত্বিক সিনেমা নির্মাণ করতেন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। নিজের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। কখনও খ্যাতি কিংবা পুরস্কারের কাছে মাথা নত করেননি। তাই তার কাছে দর্শক ছাড়া আর সব স্বীকৃতি কোনোদিন আদর পায়নি।

১৯৬৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৫ সালে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ কাহিনীর জন্য ভারতের জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

তার বিখ্যাত এক উক্তি প্রজন্মের পর প্রজন্মে জনপ্রিয় হয়ে আছে। সেটি হলো ‘ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো।’

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৩:০৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২০

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।