শুক্রবার ২৪ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিআরবি হাসপাতালের দাবি উত্থাপনের আড়াই বছর অতিক্রম

গ্রাহকের ১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স

এস জেড ইসলাম   |   বুধবার, ১৮ আগস্ট ২০২১   |   প্রিন্ট   |   317 বার পঠিত

গ্রাহকের ১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স

রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত বিআরবি হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম। বর্তমান কোভিড পরিস্থিতে যা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অথচ জরুরি এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের বীমা থাকলেও বীমাকারী প্রতিষ্ঠান কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগ করেছে বিআরবি হাসপাতাল। বিষয়টি বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএকে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি হাইকোর্টে রিট পিটিশনও করা হয়েছে। তবে বীমা কোম্পানি জানাচ্ছে ভিন্নকথা। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের গাফিলতির দায় চাপাতে চাচ্ছে বীমা কোম্পানির ওপর। সম্প্রতি এ বিষয়ে পুনরায় আইডিআরএ’র কাছে চিঠি দিয়ে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে সার্ভে করার অনুরোধ জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ঢাকার পান্থপথে অবস্থিত বিআরবি হসপিটালের পূর্ব নাম গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট লিমিটেড। গত ৭ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ সকালে একজন রোগীকে পরীক্ষা করার সময় হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিন হঠাৎ শব্দ করে বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রায় এক মাস পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে একইভাবে হঠাৎ শব্দ করে বন্ধ হয়ে যায় এমআরআই মেশিন। তবে এর আগেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল অল-রিস্কের আওতায় কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সে বীমা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার প্রায় চার মাস আগে এই পলিসি (নং-ঈওখ/ঠওচ/ওঅজ/চ-০০১/০৮/২০১৮) গ্রহণ করে প্রিমিয়াম প্রদান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে আগেই হাসপাতাল ভবন সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বীমামূল্য ও প্রিমিয়াম ধার্য করে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স।

দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবেই বীমাকারী প্রতিষ্ঠানকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে কোম্পানির ডিএমডি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক-উজ-জামান একটি টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ দল সাথে নিয়ে যন্ত্র দুটি পর্যবেক্ষণ করে স্বল্পসময়ে বীমাবিরোধ নিষ্পত্তি করবেন বলে জানান। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুরাহা করেনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। বরং মেশিনারিজ নষ্ট হয়েছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, যা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অল-রিস্কের আওতায় নাÑএমনটা অবহিত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমন দাবি নাকচ করে দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগ করে যৌথভাবে সার্ভে করার অনুরোধ জানায়।

বিআরবি হাসপাতাল জানায়, এমন অনুরোধের পর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে দুটি সার্ভে কোম্পানিকে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু সার্ভে প্রতিষ্ঠানগুলো মেশিন দুটি বাহ্যিক পরিদর্শন ও উপরিভাগের কিছু অংশ খুলেই এটি ঝুঁকির আওতাভুক্ত নয় বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর আইডিআরএ’র কাছে অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-৫১১২/২০২০) করা হয়। এরপর বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে আরেকটি সার্ভে প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তাদেরও এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিন সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকায় সেগুলো না খুলে শুধু বাহ্যিকভাবে পরিদর্শন করে পূর্বের সার্ভে প্রতিষ্ঠানগুলোর মতোই প্রতিবেদন দেয়, যা সঠিক নয়। এক্ষেত্রে সার্ভে করতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ টিমের সহায়তা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যারা এ ধরনের মেশিন সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখে।

এ বিষয়ে কথা হয়, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের দাবি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ ইকবাল মজুমদারের সাথে। তিনি জানান, বিষয়টি যেহেতু বিচারের আওতাধীন আছে, তাই এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে যতটুকু বলতে পারি তাহলো, বিআরবির মেশিনে আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং এ বিষয়ে মেশিন প্রস্তুতকারী কোম্পানির লোকাল এজেন্ট তাদেরকে প্রতিবেদন দিয়েছে। তাছাড়া মেশিনটি খুলে দেখার জন্য বিআরবিকে চিঠিও দিয়েছে সার্ভে প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। এ বিষয়ে হয়তো আরো আগেই শুনানি করতো আইডিআরএ। কিন্তু করোনা লকডাউনের কারণে তা করা সম্ভব হয়নি বলেই মনে করছি।

এদিকে বিআরবি হাসপাতালের পরিচালক মফিজুর রহমান জানান, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লোকাল এজেন্ট আমাদের যে চিঠি দিয়েছে, সেটা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তাদের সে চিঠি পাওয়ার পর আমরা যথাযথ পদক্ষেপও নিয়েছি। তাই এ বিষয়টি কোনোভাবেই বীমা দাবি প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। এমনকি সার্ভে কোম্পানি মেশিনটি খোলার জন্য যে চিঠি দেয়ার কথা বলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে আমাদের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। তাছাড়া আমাদের বীমা করার আগেই তো কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স সবকিছু দেখেশুনে পলিসি করিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অল-রিস্কের আওতায় প্রিমিয়ামের টাকাও নিয়েছে। তখন যদি কোনো সমস্যা থাকতো, তাহলে তারা আমাদের সেটা জানাতো। কিন্তু তখন কিছু বলেনি। এখন দাবি প্রদানের সময় সমস্যা তৈরি করছে।

তবে কন্টিনেন্টাল ও বিআরবি হাসপাতাল কেউই এই প্রতিবেদককে তাদের দাবির পক্ষে কাগজপত্র দেখাতে রাজি হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন বলে উভয়েই এড়িয়ে গেছে। উভয়পক্ষই আশা করছেন সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও রায় হলে তারাই জয়ী হবে।

 

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৮ আগস্ট ২০২১

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।