• শিরোনাম

    চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি অর্ধেকে নেমেছে

    | ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ | ২:১১ অপরাহ্ণ

    চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি অর্ধেকে নেমেছে

    চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে রিকন্ডিশনড গাড়ির আমদানি কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আহরণে। দেশের বাজারে ক্রেতার চাহিদা কমে আসা রিকন্ডিশনড গাড়ির আমদানি কমে যাওয়ার কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের অর্থবছরের (২০১৭-১৮) একই সময়ের তুলনায় রিকন্ডিশনড গাড়ির আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ১০১টি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানিকৃত গাড়ির সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৭৫৯টি। গাড়ি আমদানি-সংক্রান্ত পাঁচ ক্যাটাগরির শনাক্তকরণ কোডে (এইচএস কোড) এসব গাড়ি আমদানি হয়েছে বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

    একসময় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে রাজস্ব আহরণের একক বড় খাত হিসেবে শীর্ষে ছিল গাড়ি আমদানি। কিন্তু বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় এ খাতে রাজস্ব আহরণও অনেকটা কমেছে। গত ছয় মাসে এ খাতে বছরওয়ারি প্রায় ৩১৫ কোটি টাকা কম রাজস্ব আহরণ হয়েছে। জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৪৭৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আহরণ হয়েছিল ৭৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার রাজস্ব।

    আমদানি নথি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রিকন্ডিশনড কার আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৫৪২টি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৪ হাজার ৬৪৪টি। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৯২টি রিকন্ডিশনড মাইক্রো বাস (১ হাজার ৮০০ সিসি) আমদানি হলেও এবার হয়েছে ২০২টি। অন্যান্য গাড়ির মধ্যে ডাবল কেবিন পিকআপ, ট্রাক অ্যান্ড পিকআপ ও বিল্ট আপ ভেহিক্যাল আমদানি বছরওয়ারি কমেছে যথাক্রমে ২৫২, ৬২২ ও ৪৯২টি ।

    বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্টার অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল হক চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বর্তমানে লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। গত কয়েক মাসে এসব গাড়ির বিকিকিনি স্থবির হয়ে পড়েছে। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর অন্যতম হলো, রিকন্ডিশনড গাড়ির আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে শুল্কহার অনেক বেশি। এটা আমরা সবসময়ই বলে আসছি। এছাড়া সম্প্রতি জাপানে ক্রয়মূল্যও বেড়ে গেছে। আরেকটি বিষয় হলো, ব্যাংকিং খাতে অটো ফিন্যান্সিংয়ে রক্ষণশীল মনোভাব রয়েছে। এখন গাড়ি আমদানি করে যদি ক্রেতা না থাকে, তবে ব্যবসায়ীদের বন্দরের গুদাম চার্জ ও ব্যাংক ইন্টারেস্ট গুনতে হবে।

    বারভিডার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাঁচ বছর পর্যন্ত পুরনো গাড়ি আমদানি করা হয়। গাড়ির ইঞ্জিনের সক্ষমতা ভেদে (সিসি বেশি হলে ইঞ্জিনের সক্ষমতা বেশি হয়) সম্পূরক শুল্ক কম-বেশি হয়। বেশি সিসিতে বেশি সম্পূরক শুল্ক, কম সিসিতে কম সম্পূরক শুল্ক। দেশে আসা রিকন্ডিশনড গাড়ির বেশির ভাগই জাপানের। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে জাপানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিলামে প্রচুর রিকন্ডিশনড গাড়ি পাওয়া যায়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি