• শিরোনাম

    গ্রাহককে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি দাবি পূরণে সতর্ক থাকতে হবে

    জাতীয় বীমা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ মার্চ ২০২১ | ৫:১১ অপরাহ্ণ

    জাতীয় বীমা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
    Spread the love
    • Yum

    বীমা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি বীমা দাবি পূরণে সতর্ক থাকতে বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার ‘জাতীয় বীমা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীমা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বীমা দাবি পূরণে সতর্ক থাকতে হবে। গ্রাহকের পাওনা সহজে পাওয়ার বিষয়ে যত্নবান হতে হবে। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ক্ষতি দেখিয়ে কেউ যেন বীমা দাবি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এই সমস্যা আছে। একটা সুবিধার ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহার করতে চায় অনেকে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমি হাতেনাতে ধরতে পেরেছি বলে বললাম। বীমা জীবন ঘনিষ্ঠ সেবা। এই সেবা যাতে অন্যভাবে ব্যবহার করতে না পারে, খেয়াল রাখতে হবে। অবশ্য এটা এখন অনেক কমে গেছে।’

    এছাড়া বীমায় প্রিমিয়াম জমা দেয়া ও ক্ষতি নিরূপণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, মানুষ বীমা সম্পর্কে আরও আস্থাশীল হোক। এতে তারা যেন সুফলটা ভোগ করতে পারে। সেজন্য বীমা পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও যাবতীয় আইন করে দিয়েছি।’


    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বীমার সুফল সম্পর্কে সচেতনতার অভাব আছে। সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতির পিতা এই সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেছিলেন। ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে যোগদান করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এখানে বসেই ৬ দফা রচনা করেছিলেন। তাই এটা শুধু বীমার নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।’

    ১৯৬০ সালের ১ মার্চ প্রথমবারের মতো বীমা কোম্পানিতে যোগদান করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর গ্রেট ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সে চীফ অ্যাডভাইজার হিসেবে ছিলেন কিছুদিন। বীমায় প্রথম যোগদানের দিনটিকে স্মরণ করে গত বছর ১লা মার্চকে ‘জাতীয় বীমা দিবস’ ঘোষণা করে সরকার। এ দিনটিকে জাতীয় দিবস ঘোষণায় যারা অবদান রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ধন্যবাদ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজ করে গেছেন। শূন্য থেকে শুরু করেন। অর্থনৈতিক উন্নতিসহ সব জায়গায় হাত দিয়েছেন। একটি রাষ্ট্র গঠনে সব কাজই তিনি করে গেছেন। উন্নয়নের এই পথেই আসে আঘাত। তাকে হত্যা করা হয়। শুধু তাকে নয় পুরো পরিবারকে। এতে পরিবার শুধু নয় বাঙালি জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতি তাদের সম্ভাবনাকে হারিয়েছে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা চালু করা হয়েছে। বার্ষিক ৮৫ টাকা দিয়ে একটি পলিসি করতে পারবে। এক্ষেত্রে নতুন বিবাহিত কাপল বীমা করলে সন্তান শিক্ষা সমাপনী পর্যন্ত আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না, এরকম ব্যবস্থা করতে হবে। বার্ষিক ২৮৫ টাকা দিয়ে একজন খেলোয়াড়ও নিজের জীবন সুরক্ষিত রাখতে পারবে প্রবাসীদের জন্যও বীমার সুযোগ রাখা হয়েছে।’

    সম্মাননাপ্রাপ্ত ও শিক্ষা বীমাপ্রাপ্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে সম্মাননা দিতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু করোনা আমাকে একরকম বন্দি করে দিয়েছে। কারণ আমি বের হলে হাজারখানেক লোকের কাজে সম্পৃক্ততা হয়। এতে ঝুঁকি তৈরি হয়। নিজের জন্য তো অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। তবে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা টিকা নিয়ে আসছি। দেয়াও হচ্ছে। টিকা গ্রহণের পরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, এগুলোর মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’

    অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন ও আর্থিক বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। এবারের বীমা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বীমা হোক সবার।’

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৫:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি