• ডলার সংকটে বাড়ছে ভারত বাংলাদেশের চোরাচালান

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ নভেম্বর ২০২২ | ১:০৯ অপরাহ্ণ

    ডলার সংকটে বাড়ছে ভারত বাংলাদেশের চোরাচালান
    apps

    ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশ হওয়াতে হরহামেশাই চলছে চোরচালানি। আমদানি রপ্তানি সহজীকরণে নীতিমালা অনুমোদন ও শুল্ক সুবিধা বৃদ্ধিতেও চোরাচালান রোধ হচ্ছে। সীমান্তরক্ষীদের কঠোরতাও হালে পানি পাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে কিছু পণ্য আটক হলেও আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে চোরাকারবারীরা। এদিকে ডলার সংকট সৃষ্টিতে ভারত বাংলাদেশের অবৈধ ব্যাবসা আরও উস্কে উঠে বলে জানা যায়।

    বাংলাদেশ ও ভারতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চোরাচালানির মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে দুই দেশেই প্রবেশ করছে প্রচলিত ও নিষিদ্ধ নানা ধরনের পণ্য। এ তালিকায় চাল, পেঁয়াজের মতো নিত্যপণ্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিস্ফোরক ও মাদকের মতো নিষিদ্ধ পণ্যও। ভারত থেকে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে গবাদিপশু, মাদক, কসমেটিকস, শাড়ি ইত্যাদি দ্রব্য। আবার বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে তুলা, কাপড়, চামড়া, স্বর্ণ, মাছ, ইলেকট্রনিকস ও কম্পিউটার পার্টস, সার, জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্য। বিশেষ করে সম্প্রতি স্বর্ণ চোরাচালানের মাত্রা অনেকটাই বেড়েছে।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    প্রতি বছর সীমান্তে পণ্য চোরাচালান করতে গিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের হাতে প্রচুর ব্যক্তি আটক হচ্ছে। তাদের সঙ্গে ধরা পড়ছে স্বর্ণ, গবাদিপশু, মাদকসহ নানা ধরনের দ্রব্য। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ১২ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মোট ৮ হাজার ৭৪১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার পণ্য (বহির্মুখী ও অন্তর্মুখী) আটক করেছে বাহিনীটি। বর্তমানে এ আটকের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। ২০২২ পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম নয় মাসেই আটককৃত পণ্যের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৮ কোটি টাকায়।

    সীমান্তবর্তী সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এখন বাংলাদেশী টাকার চাহিদা বেড়েছে। সেখানকার অনানুষ্ঠানিক পন্থায় পণ্য রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখন পণ্যের মূল্য হিসেবে বাংলাদেশী টাকা গ্রহণ করছেন। স্বর্ণ চোরাচালানে যুক্ত বাংলাদেশীরা এ টাকা আবার গ্রহণ করছেন পাচারকৃত পণ্যের মূল্য হিসেবে। আবার বাংলাদেশ থেকে স্থলসীমান্তে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খুলতে গিয়ে আন্ডার ইনভয়েসিং (আমদানি পণ্যের পরিমাণ কম দেখানো) ও হুন্ডির মাধ্যমেও টাকা পাচার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


    বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচার বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে দেশটিতে পণ্যটি আমদানিতে উচ্চমাত্রায় শুল্কারোপকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্যমতে, শুল্ক ফাঁকি দিতে গিয়ে দেশটিতে স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকেই এখন চোরাচালানের মাধ্যমে আনা পণ্য সংগ্রহের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।
    পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুতগতিতে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এরই মধ্যে রিজার্ভের পরিমাণ নেমে এসেছে ২৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। রিজার্ভ পতনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোয় জরুরি পণ্য আমদানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চোরাচালান আরো বেড়ে যেতে পারে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোরের একাধিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও ব্যবসায়ী নেতা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অনেক আগে থেকে প্রচুর টাকা ভারতে পাচার হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে, কোনো কোনো ব্যবসায়ী পণ্য আমদানিতে যে পরিমাণ টাকার এলসি করেন তার ১০ গুণ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠান। সে টাকা ব্যবহার হয় স্বর্ণ চোরাচালানে।

    এ প্রসঙ্গে নাসির অ্যান্ড আলম কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম মজুমদার রিপন বলেন, বাংলাদেশ চলতি বৈশ্বিক সংকটের বাইরে নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও ডলার সংকট বেড়ে গেছে। ব্যাংকের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে আগে বিনা টাকায় এলসি খোলা যেতো। এখন শতভাগ টাকা পরিশোধ করে এলসি খুলতে হয়। সব ব্যবসায়ীর পক্ষে এত টাকা দিয়ে এলসি খোলা সম্ভব নয়। এজন্য ভারত বাংলাদেশে অনানুণ্ঠানিক বাণিজ্য বা চোরাচালান বেড়ে গেছে।

    পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী টাকার ব্যবহার বেড়েছে বলে জানালেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী টাকার ব্যবহার হচ্ছে। মানি এক্সচেঞ্জসহ হুন্ডির মাধ্যমে এ টাকার লেনদেন হয়।

    ক্রমবর্ধমান স্বর্ণ চোরাচালান দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুন্নের পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতি করছে বলে জানালেন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি যশোরের সভাপতি রকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়। তিনি বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা আটক হয় না। তারা টাকার বিনিময়ে লোক দিয়ে এ ধরনের কাজ করায়। বিজিবির কাছে যে পরিমাণ স্বর্ণ আটক হয়, পাচার হয় তার চেয়ে অনেক বেশি। এ চোরাকারবারিদের কারণে আমাদের সমিতির সদস্যদের বদনাম হয়। আবার আমরা ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শুনেছি ওপারে (পশ্চিমবঙ্গে) বাংলাদেশী টাকায় স্বর্ণ কেনাবেচা হয়। শিগগিরই বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণের বার উৎপাদন হবে। তখন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা থাকবে বারের গায়ে।

     

     

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১:০৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রডের দাম বাড়ছে

    ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি