• বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সভায় অর্থমন্ত্রী

    তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বলতা রয়েছে

    বিবিএনিউজ.নেট | ১৩ এপ্রিল ২০১৯ | ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

    তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বলতা রয়েছে
    apps

    বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যান্স টিমার বলেছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান অবকাঠামোতেই দুই-তৃতীয়াংশ রফতানি বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের রফতানি সম্ভাবনার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কত শতাংশ হলো, সেদিকে নজর না দিয়ে বরং প্রবৃদ্ধির উেসর দিকে নজর দেয়া দরকার। বিশেষ করে টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, তদারকি বাড়ানো, নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক পথে নেই। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির আরো স্বাধীনতা প্রয়োজন। আর এখনই ফ্লেক্সিবল বিনিময় হার প্রয়োজন।

    হ্যান্স টিমার বলেছেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে রফতানি বৃদ্ধির প্রতি জোর দিতে হবে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে, মুদ্রার মান কমে যাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ফলে প্রবৃদ্ধিকে টেকসইভাবে ধরে রাখা কঠিন হবে। প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে নানা বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, অনুমান সবসময় মিলবে এমনটি নয়। প্রবৃদ্ধি ৮ না ৭ শতাংশ হলো সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো এ প্রবৃদ্ধি কীভাবে অর্জন হচ্ছে।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    দেশের রফতানি বাড়াতে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য উদারীকরণ, বাজারভিত্তিক মুদ্রাবিনিময় হার প্রবর্তন, কর হার কমিয়ে আনতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের প্রস্থান (ব্রেক্সিট) এবং চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমস্যায় শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্বল্পমেয়াদে উন্নত দেশগুলো বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতি ঝুঁকলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা নিজেদের দেশেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ফলে রফতানির সুবিধা সে সময় আরো কঠিন হতে পারে।

    দিন শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এ দুর্বলতা কাটাতে আমরা আইএমএফের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। তারা একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠাবে। এছাড়া এ বছর আইএমএফের সভাপতি বাংলাদেশ সফরে যাবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তারা আমাদের ব্যাংক খাতের যেসব সমস্যা আছে, সেসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে তাদের সহযোগিতা নেয়া হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যাংকের আধুনিকায়নে কোন জায়গা থেকে সফটওয়্যার নেব, তারা তা বলে দেবেন। সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষ জনবল তৈরিতে তারা সহযোগিতা করবেন।


    অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাত পুরোপুরি অনলাইনে চলে গেলে অপরাধ অনেক কমে যাবে। এক জায়গায় বসে সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, যারা ঋণখেলাপি তাদের জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন না। কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা ঠিকমতো পরিশোধ করেন, ভালো ব্যবসায়ী তারা সব ব্যাংক থেকেই ঋণ নিতে পারবেন। ব্যাংকিং খাত অটোমেশনে গেলে এসব বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এতে করে ব্যাংকিং খাতে অপরাধ কমে যাবে। খেলাপি ঋণের হারও কমে যাবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গেল ক্লায়েন্ট এক্সপোজার থাকবে না।’

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বসন্তকালীন সভা চলাকালে সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পরিবেশকর্মীরা। তাদের দাবি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ বন্ধ করা হোক। বিশেষ করে জাপান সরকারের কাছে তাদের দাবি, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাপান সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করছে, পরিবেশের জন্য যা মারাত্মক হুমকি। এসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

    এদিকে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভার প্রথম দিনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়াসহ প্রতিনিধি দলের অন্যরা।

    অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে ভ্যাটের একক হার বসাতে আইএমএফের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় ভ্যাটের একক হার ১৫ শতাংশ বাস্তবায়ন কঠিন। বিষয়টি আমরা আইএমএফকে জানিয়েছি, এক স্তর হার ভ্যাট বসালে তা কার্যকর করা কঠিন হবে। আমরা তিন স্তরবিশিষ্ট ভ্যাটের হার করতে যাচ্ছি। যা হবে ৫ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ। আমাদের যুক্তি আইএমএফ মেনে নিয়েছে। আমরা আইএমএফকে বলেছি, এক স্তরবিশিষ্ট ভ্যাট কেবল উন্নত বিশ্বে বাস্তবায়ন সম্ভব। আমাদের মতো উদীয়মান দেশগুলোতে এখনই বাস্তবায়ন করা যাবে না। জনগণ এ হার মানবে না। আমাদের কথা শোনার পর আইএমএফ জানিয়েছে, আমাদের প্রস্তাবে তারা রাজি।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি