• শিরোনাম

    ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে

    তিন ঈদে দুর্ঘটনায় ৮শ প্রাণহানি

    বিবিএনিউজ.নেট | ২০ মে ২০১৯ | ৩:৪২ অপরাহ্ণ

    তিন ঈদে দুর্ঘটনায় ৮শ প্রাণহানি

    ফিটনেসবিহীন যান, অদক্ষ চালক ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামোর কারণে ঈদযাত্রায় প্রতি বছরই বাড়ছে সড়কে প্রাণহানি। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা ও ফাঁকা সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন গতির গাড়ি একে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই বড় হচ্ছে প্রাণহানির সংখ্যা।
    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, ঈদুল ফিতরে ঘরে ফেরার পথে ২০১৬ সালে সড়কে প্রাণ হারান ১৮৬ জন। ২০১৭ সালে সংখ্যাটি বেড়ে হয় ২৭৪। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ঈদুল ফিতরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৩৯ জন। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে শুধু ঈদুল ফিতরেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮০০ জন। বছর বছর দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ঈদের সময় চালকদের বিরুদ্ধে একটানা গাড়ি চালানোর অভিযোগ বেশ পুরনো। চালকের ক্লান্তিতেই ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যায় বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দোকানদারের ক্ষেত্রে যেমন সারা বছরের রোজগার ঈদের সময়ই করে নেয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়, একই প্রবণতা লক্ষ করা যায় পরিবহন চালকদের মধ্যেও। সারা বছরের আয় তারা ঈদের সময়টাতেই করে নেয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য তারা একটানা গাড়ি চালান। দূরপাল্লার রুটে গাড়ি চালানোর সময় প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর চালককে বিশ্রাম দেয়ার নিয়ম থাকলেও আমাদের দেশে তা মানা হয় না। উল্টো ঈদের সময় তাদের টানা একাধিক ট্রিপ দিতে বাধ্য করা হয়। একটানা দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত চালকের পক্ষে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    তিনি আরো বলেন, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার ধরনগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, বেশির ভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে ঈদের পর। ফিরতি যাত্রায়। এর প্রধান কারণ হলো—সে সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা ঢিলেঢালা থাকে। ফলে মহাসড়কে বাড়ে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা। এসব অব্যবস্থাপনা সড়ক দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দেয়। চালকদের ক্লান্তিও দুর্ঘটনা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। আমাদের পর্যাপ্ত দক্ষ চালক নেই। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি। ঈদের সময় এটি মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায়। এ অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগে অদক্ষ চালকরা মহাসড়কে নেমে পড়ে। একইভাবে আনফিট গাড়িগুলোই মহাসড়কে নামে। যেগুলো দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দেয়।

    দেশে যানবাহনের তুলনায় লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। গত বছর জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ‘৩৪ লাখ মোটরযানের বিপরীতে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ১৭ লাখ।’ মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকদের কারণে দুর্ঘটনা বেশি।
    ঈদুল ফিতরে এ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ডিআইজি হাইওয়ে, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতিকে দায়িত্ব দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ-সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘যথাযথ শ্রেণীর লাইসেন্স ব্যতীত অনভিজ্ঞ গাড়িচালক মহাসড়কে গণপরিবহন চালাতে পারবে না।’

    গত ঈদেও এমন নির্দেশনা দিয়েছিল মহাসড়ক বিভাগ। ‘অবৈধ চালকদের’ বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করলে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘটের হুমকি দেন। এরপর বন্ধ হয়ে যায় অভিযান। এবারো ঈদযাত্রায় মহাসড়কে থাকবে অবৈধ ও অদক্ষ চালক।
    ঈদের সময় সড়কে দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দেয় মহাসড়কে চলা ধীরগতির যানবাহন (থ্রি-হুইলার)। এজন্য ২২টি মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এসব বাহন নিষিদ্ধ হলেও মহাসড়কে চলাচল ঠেকাতে এখন পর্যন্ত সক্ষম হয়নি সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলো।

    দেশের মহাসড়কগুলোয় ৬৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ মোড় চিহ্নিত করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ৩৬৫টি ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩২৮টি। ৬৯৩টি মোড়ের মধ্যে ৩৯১টি অর্থাৎ ৫২ শতাংশই তিন রাস্তার মোড়। বাকিগুলো চার রাস্তার মোড়। এর মধ্যে রয়েছে ৬১টি গোলচক্কর। সংস্থাটির জরিপে আরো উঠে এসেছে, জাতীয় মহাসড়কের ৫৭ দশমিক ৫ ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫১ দশমিক ২ শতাংশ মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল। মহাসড়কে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এসব মোড় সবচেয়ে বেশি দায়ী বলে জানিয়েছেন সওজ কর্মকর্তারা।
    ফিটনেসবিহীন যানবাহন ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার হার বাড়িয়ে দেয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ভাঙাচোরা সড়ক, সড়কের নকশাগত ত্রুটিসহ আরো বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন তারা।

    তবে এবারের ঈদযাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ২৫ মের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নবনির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু, জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুটি সেতু, দুটি ফ্লাইওভার এবং চারটি আন্ডারপাস যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। ফলে দেশের প্রধান দুই সড়কে মানুষ স্বস্তি নিয়ে চলতে পারবেন। অন্য সড়কগুলোর অবস্থাও অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    হর্ন হুদাই বাজায় ভুদাই

    ০৫ জানুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি