শুক্রবার ১২ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তীব্র জ্বালানি সংকটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

পান্না কুমার রায় রজত   |   বুধবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   212 বার পঠিত

তীব্র জ্বালানি সংকটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

করোনার ঢেউয়ের পর ঢেউ এবং চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ইউরোপের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব প্রকট হচ্ছে। ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতির হার জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। জার্মানি, স্পেনে মুদ্রাস্ফীতির জানান দিচ্ছে বাড়তে থাকা খাবারের দাম। মিউনিখভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইকোনোমিক রিসার্চ (আইএফও) জানিয়েছে, জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি বছরের বাকি অংশে আবার কমতে পারে। কিন্তু খাবারের দাম এখনো বাড়তির দিকে। অন্যদিকে ৩৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মুখে স্পেন। স্পেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর জানিয়েছে, ১৯৮৪ সালের পর দেশটিতে জুলাই ২০২২ ভোগ্যপণ্যের দাম দ্রুতগতিতে বেড়েছে। মুদ্রাস্ফীতি এখন স্পেনের অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোজোনের দেশগুলোতে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে এবার ১১ বছরের মধ্যে প্রথম সুদের হার বাড়িয়েছে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। ইসিবি তাদের মূল সুদের হার ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছে। এক দশকের মধ্যে প্রথম একলাফে সুদের হার এতোটা বেড়ে যাওয়া অনেকটা অপ্রত্যাশিত। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জিনিসের দাম। এক বছর আগের তুলনায় এক বোতল দুধের দামও অনেক বেড়ে গেছে। ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (ওএনএস) জানিয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক বাদেই সরকারি খাতের ধার দাঁড়িয়েছে ৪৯৪ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড ৫৮৯ কোটি ডলার। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে যুক্তরাজ্য সরকারের ধার নেয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উল্লম্ফন দেখা গেছে। জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তারা। এই মুহূর্তে যদি কর কমানো হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আরো উসকে দিবে। যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি পারিবারিক আয়ে আঘাতহানার পাশাপাশি সরকারি ঋণে সুদের বিলও বাড়ছে। যুক্তরাজ্য তার ঋণের সুদ বাবদ জুলাই ২০২২-এ ৫৮২ বিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি।

রাশিয়ার গ্যাসের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প উৎসের সন্ধানে ইউরোপ যখন মরিয়া, তখনই এ উদ্যোগ এলো। অর্থাৎ সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে ইউরোপে বাড়তি গ্যাস সরবরাহে এগিয়ে এসেছে আফ্রিকার তিন দেশ আলজিরিয়া, নাইজিরিয়া এবং নাইজেরিয়া। পাইপলাইনটি বানাতে খরচ হবে এক হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এ পাইপ লাইনের মাধ্যমে বছরে তিন হাজার কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস যাবে ইউরোপে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সম্প্রতি তাদের মোট তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি সরবরাহের ১৪ শতাংশ নাইজেরিয়া থেকে আমদানি করে। সাহারা পাইপলাইন তৈরি হলে গ্যাস সরবরাহ দ্বিগুণ বাড়বে। সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে পাইপলাইন তৈরির এই প্রকল্পটি প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে। ২০০৯ সালে দেশগুলোর মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও সই হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে এ প্রকল্পে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু এতো দ্রুত তা বাস্তবায়ন করাও সম্ভব নয়। রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তার মধ্যে গ্রীষ্মেও এই যন্ত্রণাদায়ক গরম ইউরোপের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। এর আগে ২০০৮ সালে জর্জিয়ার দুটো অংশ আবখাজিয়া এবং সাউথ ওশেটিয়াকে একইভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাশিয়া। কিন্তু তারপরও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪০ ভাগ গ্যাস ও ২৭ ভাগ তেলের চাহিদা মেটাচ্ছে। ইউরোপজুড়ে এই জ্বালানি ঘর গরম রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এই নির্ভরশীল কাটাতে অন্তত আরো পাঁচ বছর প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে পারে এমন আশঙ্কা একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না। ইউক্রেনে হামলা শুরু হবার পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হবে বলে ধরে নেয়া হয়েছে।

বিবিসি তথ্য মোতাবেক, ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রফতানির পথ খুলতে রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। পাঁচ মাস আগে যুদ্ধ শুরুর পরপরই রাশিয়া ইউক্রেনের রফতানি মুখ থুবড়ে পড়ে। ইউক্রেন জুড়ে বিভিন্ন গুদামে প্রচুর খাদ্যশস্য মাসের পর মাস রফতানির জন্য পড়ে রয়েছে। কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা বন্দরের গুদামেই এখন দুই কোটি টনের মতো খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এগুলো এখন আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যেসব দেশে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে সেখানে রফতানি করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যে মাত্রায় অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তাতে এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত কতটা কাজ করবে এবং কতদিন টিকবে তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি লাটভিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে রাশিয়া। গ্যাজপ্রম জানিয়েছে গ্যাস উত্তোলনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা প্রতিবেশী দেশটিতে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। লাটভিয়ার জ্বালানি সংস্থা লাটভিজাস গেজ এর আগে জানিয়েছিল যে, তারা রাশিয়া থেকে গ্যাস কিনছে এবং গ্যাজপ্রমের সঙ্গে তাদের এই বাণিজ্য রুবলের পরিবর্তে ইউরোতে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। এমন ঘোষণার একদিন পরেই গ্যাজপ্রমের সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমালেও পাওয়ার অব সাইবেরিয়া পাইপলাইন দিয়ে চীনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জার্মানির মাত্র ৪২ শতাংশ মানুষের নিজের বাড়ি রয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন যারা বাড়ি কিনতে চাচ্ছেন, তাদের পক্ষে বিষয়টি কঠিন হয়ে যাচ্ছে কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাড়ির দামে লাগাম টানতে গৃহঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২১ সালে জার্মানিতে গ্যাসের ৫৫ শতাংশই ছিল রাশিয়া থেকে আসা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, এখন সে হার ৩৫ শতাংশ এসে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া হঠাৎ করেই গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। সেবাখাত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়মিতই বিপত্তিতে পড়ছে। অর্থনৈতিক সংকটের দিকে যাচ্ছে জার্মান। দেশটিতে গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে এবং কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম রফতানির চেয়ে বেশি আমদানি করেছে জার্মানি। প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে। রাশিয়ার সরবরাহ করা গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ হলে ঠিক কী ঘটতে পারে? জার্মানের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রোগনোস বলছে, চার সপ্তাহ পরই সবার জন্য গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। আইন অনুযায়ী বসতবাড়ি, সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান এবং হিটিং সরবরাহকারীদের গ্যাস দিতেই হবে। ফলে গ্যাস বন্ধের প্রথম প্রভাব পড়বে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর। ইস্পাত অপরিশোধিত লোহা, রাসায়নিক এবং কাচের কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে। সমগ্র অর্থনীতিই এর ফলে সংকটে পড়বে। অর্থাৎ রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে বছরের শেষে জার্মানির অর্থনীতি ১২ দশমিক ৭ শতাংশ সঙ্কুচিত হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাশিয়া ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার প্রেক্ষিতে ইউরোপের দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া কী বা তারা কী ভাবছে? জার্মান সরকার বলছে কারিগরি কোনো কারণ নেই, যাতে গ্যাজপ্রম গ্যাস সরবরাহ কমাতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি নীতিবিষয়ক প্রধান কাদরি সিমসন একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে প্রকাশ্য যুদ্ধ আখ্যায়িত করেছেন, যা রাশিয়া ইউরোপের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক দ্য এনার্জি ইনস্টিটিউটের ফেলো বোইট ডৌরিয়ান বলেন, রাশিয়া গ্যাসকে ক্রমশ অস্ত্রে রূপান্তর করছে। তার মতে, রাশিয়া এখনো নিজেকে জ্বালানি সুপার পাওয়ার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে এবং দেখাতে চাইছে যে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে তারা। তবে রাশিয়া থেকে জার্মানির গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে জার্মানির ৫৬ লাখ মানুষ রাতারাতি চাকরি হারাতে পারেন। দেশটির রাসায়নিক, ইস্পাত, কাচ ও কাগজশিল্পে তো বটেই খাদ্য বা চীনামাটির বাসন উৎপাদন শিল্পেও এর প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি ইউরোপের গ্যাস সরবরাহ আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ইউরোপে আসন্ন শীত মৌসুমে বিভিন্ন পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটবে এবং চলমান গ্যাস সংকট আরো বাড়বে। বিশেষ করে শীত মৌসুমটা সামাল দেয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। রাশিয়ার গ্যাসের ওপর জার্মানিদের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা যে কোনো বিপর্যয়ের সময় ভোগান্তির কারণ হয়ে দেখা দিবে। কিন্তু তারপরও সেই নির্ভরশীলতা কমানো হয়নি। বিকল্প কোনো ব্যবস্থার চিন্তাও মাথায় রাখা হয়নি। ইউরোপ বিশেষ করে জার্মানির অবস্থা এখন বেশি খারাপ একদিকে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং ইউরোপ পশ্চিমা অংশীদার রাষ্ট্রগুলোকে নিয়মিত হুমকি-ধামকি দেয়াটা জার্মানির নীতিগত অবস্থানের কারণেই প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর জ্বালানি ছাড়াও অন্য নানা নির্ভরতার কারণে চাইলেই কড়া পদক্ষেপ নিয়ে রাশিয়াকে একঘরেও করে দেয়া যাচ্ছে না। মুখে কড়া কথা বললেও আদতে কড়া অর্থনৈতিক সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো পদক্ষেপেই নিতে পারছে না জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফলে ইউরোপের ক্ষেত্রে বিশেষ করে জার্মানি ফ্রান্সের মতো গণতান্ত্রিক দেশে অর্থনীতি নিম্নগামী হতে থাকলে তার প্রভাব সমাজ এবং রাজনীতিতে পড়তে বাধ্য। তাহলে ভবিষ্যৎ কী?

১৩ আগস্ট ২০২২, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। এই পরিস্থিতি আংশিকভাবে আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি। এমনকি কীভাবে এটি শেষ হবে বা পরবর্তীতে কী হতে চলেছে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা ছাড়াই’। হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭০-এর দশকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিখ্যাত পিংপং কূটনীতির উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। এর সূত্র ধরেই ১৯৭২ সালে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফর করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। কিসিঞ্জারের কূটনীতির লক্ষ্য ছিল বিশ্ব রাজনীতিতে সমাজতন্ত্রের প্রভাব ঠেকিয়ে বেইজিংকে মস্কো থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। যাতে বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তিসাম্য বজায় থাকে। কিসিঞ্জারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর রাশিয়া কিংবা চীনের বিরুদ্ধে অন্যের পক্ষে অবস্থান নেয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। যেমনটি ছিল সত্তরের দশকে। এই থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবেই ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখে, তাহলে আসছে শীতে যেসব ইউরোপীয় দেশ জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন হবে তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা হয়ে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতেও পারে। তাই দ্রুত যদি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি থামানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের চাকা সচল করা না যায়, তাহলে ভয়াবহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা রয়েছে, যা আমাদের কাম্য নয়।

 

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ২:১৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।