নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 110 বার পঠিত

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পে’ বিশেষ কোটার অপব্যবহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনারসহ উচ্চপর্যায়ের ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
গতকাল সোমবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব ও দুদকের সাবেক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহজাহান আলী, সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ড. মো. মইনুল হক আনছারী, সদস্য (পরিকল্পনা, নকশা ও বিশেষ প্রকল্প) বিজয় কুমার মণ্ডল, প্রকল্প পরিচালক (প্রকৌশল ও সমন্বয়) কাজী ওয়াসিফ আহমাদ এবং সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল (সিনিয়র জেলা জজ) সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।
অভিযোগের মূল বিষয়: দুদকের এজাহার অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পদ বৈষম্যমূলকভাবে বরাদ্দ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, সাধারণ ফ্ল্যাটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের চারটি ফ্ল্যাট একত্রিত করে দুটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট নির্মাণ ও বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা বিদ্যমান বিধিমালার পরিপন্থী। এই দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের আয়তন যথাক্রমে ৪১০৫.০৫ বর্গফুট ও ৪৩০৮.৬৮ বর্গফুট। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্থাপত্য নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রতারণামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বাড়ি নং-৭১১ (নতুন ৬৩), সড়ক নং-১৩ (নতুন ৬/এ) এলাকায় অবস্থিত ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পে’ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২২২তম ও ২২৫তম বোর্ড সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেখানে অন্যান্য ফ্ল্যাটের তুলনায় ব্যতিক্রমধর্মী সুবিধা দিয়ে ডুপ্লেক্স নির্মাণ ও বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা), ১০৯ (অপরাধে সহায়তা) ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অনুসন্ধান ও প্রেক্ষাপট: দুদক জানায়, বিষয়টি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের পর কমিশন অভিযোগটি আমলে নেয় এবং অভিযানে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে উঠে আসে, ধানমন্ডি-৬ এলাকার ৬৩ নম্বর প্লটটি সরকারি খাস জমি যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে জমিটি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখানে ১৪তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটিতে দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট, নিচতলাসহ দুই তলা গাড়ি পার্কিং এবং অন্যান্য আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ডুপ্লেক্স দুটি বরাদ্দ পান দুদকের সাবেক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও মো. জহুরুল হক। অন্য ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ হয় সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নামে। মামলার তদন্তে দুদকের একটি অনুসন্ধান দল কাজ করছে।
Posted ৮:৫৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy


