সোমবার ২০ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যাংক

আদম মালেক   |   সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০   |   প্রিন্ট   |   218 বার পঠিত

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যাংক

নিরাপত্তাহীনতার কবলে সারাদেশে ব্যাংকের শাখাগুলো। একের পর ঘটে যাচ্ছে ব্যাংকে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা। এসব সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এখন আবার ব্যাংকে সাইবার হামলা হতে পারে বলে কপালে ভাঁজ পড়ার খবর এসেছে। এজন্য নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যাংকগুলোতে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি হয়েছে সতর্কতা। ব্যাংকের শাখাগুলোয় বেড়েছে নজরদারি। কেউ কেউ এটিএম বুথ বন্ধ রাখছে। তবুও কাটছে না উদ্বেগ।

গত বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গ্রæপ ‘বিগল বয়েজ’ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন ও সুইফট নেটওয়ার্কে হ্যাকিং করতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয় চিঠিতে।

এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা এসেছে। এই নির্দেশনা পাওয়ার পরই আমরা নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে এ নির্দেশনা পাওয়ার পর রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংকও রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এটিএম বুথ বন্ধ করে দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গায় সোনালী ব্যাংকে খেলনা পিস্তল, পিপিই ও মাস্ক পরে তিন দুর্বৃত্ত ৮ লাখ টাকার বেশি লুট করেছে। সে ব্যাংকের নিরাপত্তায় চরম গাফিলতি ছিল বলে মামলার তদন্তে নিয়োজিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জে সুড়ঙ্গ করে সোনালী ব্যাংকে ডুকে ১৬ কোটি টাকা লুট করেছে। এর আগে সাভারের আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এভাবে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে টাকা লুট ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা গাফিলতি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানায় একের পর এক ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ২০১৮ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। এদিন দুপুরে এক ব্যক্তি প্রিমিয়ার ব্যাংকের বাড্ডা লিংক রোড শাখায় হানা দিয়ে টাকা লুটের পর সিসি ক্যামেরার ডিভিআরও (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) নিয়ে যায়। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ৯ জনকে জিম্মি করে ২৩ লাখ টাকা লুট করে। বাংলাদেশের ব্যাংক লুটের এমন বহু ঘটনা রয়েছে।

শুধু ব্যাংক ডাকাতিই নয়, দেশে কয়েকবার এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনাও ঘটেছে। ২০১৬ সালে বড় ধরনের এটিএম কার্ড জালিয়াতি হয় দেশের ব্যাংকিং খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, জালিয়াতচক্র ওই বছরের ৭ থেকে ১২ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত চারটি ব্যাংকের এটিএম বুথে ডিভাইস ও ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন করে ১ হাজার ২০০ কার্ড জালিয়াতি করে। এর মাধ্যমে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয় চক্রটি। তবে কার্ড জালিয়াতি হওয়ার দুদিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে জানায় এবং ব্যাংকগুলো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাই জালিয়াতি হওয়া কার্ডের ১০ শতাংশও ব্যবহার করতে পারেনি চক্রটি। এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রæয়ারির শেষের দিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। এভাবে একাধিকবার বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা রয়েছে বাংলাদেশে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সর্বমোট ব্যাংকের সংখ্যা ৬৩টি। এর মধ্যে তফসিলি ব্যাংক ৫৭টি ও অ-তফসিলি ব্যাংক ৬টি। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক ৫৫টি ও বিশেষায়িত ব্যাংক ২টি। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬টি, ব্যক্তি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ৪০টি, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৯টি। সারাদেশে সব ব্যাংক মিলে শাখা রয়েছে ১০ হাজার ৪০৬টি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং শাখা আছে এক হাজার ৩০১টি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলোতে যেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হয়, সেজন্য প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেও কিছু ব্যাংকে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। তবে কোনো ব্যাংকই চায় না এমন ঘটনা ঘটুক এবং মার্কেটে তাদের বদনাম হোক। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনার পরই তা অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা এটা নিয়ে কাজ করছে। রিপোর্ট হাতে পেলে জানতে পারব সেদিন কেন এ ঘটনা ঘটেছিল এবং সরকারি একটি ব্যাংকে কেন সিসি ক্যামেরা ছিল না।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১:৫৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।