বুধবার ১৯ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্দেশনা অমান্য করায় উত্তরা ব্যাংকের এমডিকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক:   |   শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   192 বার পঠিত

নির্দেশনা অমান্য করায় উত্তরা ব্যাংকের এমডিকে জরিমানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম ভঙ্গ ও নির্দেশনা অমান্য করায় উত্তরা ব্যাংকের এমডিকে জরিমানা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমোদন না নিয়ে প্রতিবছর বৈশাখ ভাতা ও বিশেষ বোনাস নিতেন উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন।

যে কারণে ব্যাংকটির এমডি মোহাম্মদ রবিউল হোসেনকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকটির নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক বছরে দুই ঈদের বোনাস পাবেন। কিন্তু তিনি দুই ঈদের বোনাসের বাইরে প্রতি বছর বৈশাখ ভাতা ও বিশেষ বোনাস (কভিড-১৯ প্রণোদনা ভাতা) নেন।

এই কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ১২ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছে। এরই মধ্যে সেই টাকা ফেরত দিয়েছেন রবিউল ইসলাম।

এছাড়া নিয়ম ভেঙে গাড়ি কেনা, বাসার বাবুর্চি, গার্ড, সার্ভিস চার্জ, লিভ ফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রভৃতি বাবদ ব্যাংক থেকে নেয়া টাকার বিপরীতে কোনো রাজস্ব দেননি বলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বর্তমানে মাসিক বেতন মোট ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল বেতন, বাসাভাড়া, বাবুর্চি, গার্ড, সার্ভিস চার্জ, পুনর্ভরণ ভাতা, বাসা মেরামত, আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন বিল, ঈদের ভাতা ও জিপ গাড়ির খরচ অন্তর্ভুক্ত।

কিন্তু এর বাইরে তিনি ২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে কভিডকালীন ভাতা, স্পেশাল বোনাস ও বৈশাখী বোনাস নিলেও বাংলাদেশ ব্যাংককে এই বিষয়ে কিছু জানাননি।

এছাড়া ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত চিকিৎসা বাবদ তিনি ২৪ লাখ ২৯ হাজার ৪৫৩ টাকা ব্যাংক থেকে নিয়েছেন। কিন্তু আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যত টাকা রাজস্ব দেয়ার কথা, তা পরিশোধ করেননি।

শুধু তা-ই নয়, বাসায় কুক, গার্ড, সার্ভিস প্রভৃতির জন্য ব্যাংক থেকে নেয়া দুই লাখ ৬৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা এবং লিভ ফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স বাবদ নেয়া ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিপরীতে কোনো রাজস্ব দেননি এমডি।

ব্যবস্থাপনার পরিচালকের পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও হয়েছে অনিয়ম। নাভানা লিমিটেড থেকে টয়োটা করোলা ১.৬ এল একটি গাড়ি কেনা হয়েছে।

নাভানা লিমিটেডের একজন পরিচালক শফিউল ইসলাম, যিনি উত্তরা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইফতেখারুল ইসলামের ভাই।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এটি অনিয়ম। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী একজন পরিচালক তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, তার অংশীদারিত্বে পরিচালিত ফার্ম, তিনি পরিচালক হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন এরূপ প্রাইভেট ও পাবলিক কোম্পানি, জামিনদাতা হিসেবে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরিচালকের স্ত্রী, স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং পরিচালকের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির অনুকূলে সব প্রকার ঋণ সুবিধা, গ্যারান্টি এবং অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের পুর্বানুমোদন গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। কারণ নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে ব্যাংকের ব্যবহার্য জিনিসপত্র কিনলে অনিয়ম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণীতে এই বিষয়ে কোনো এজেন্ডা দেখা যায়নি।

একই ঘটনা ঘটেছে উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল হোসেনের নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও। চেয়ারম্যানের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়িটি কেনা হয়েছে।

চেয়ারম্যানের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো টিএক্সেল-২০১৯ কেনার সময়ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গাড়ির স্পেসিফিকেশনসহ কোটেশন দাখিল করার জন্য কোনো পত্র, চূড়ান্ত ক্রয়াদেশ এবং ডেলিভারি প্রত্যয়ন দিতে পারেনি।

অর্থাৎ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কারও গাড়ি কেনার আগে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রথমে চাহিদাপত্র পাঠাতে হয়। সেই চাহিদার ভিত্তিতে তারা ব্যাংকের কাছে গাড়ির দাম প্রস্তাব করে।

সেই দাম পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন পেলেই গাড়ি কেনার বৈধতা পায় ব্যাংক। কিন্তু এখানে ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি এবং প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি উত্তরা ব্যাংক।

 

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১১:৩২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।