• শিরোনাম

    জীবন বীমা কোম্পানিতে নিয়ন্ত্রণহীন অতিরিক্ত ব্যয়

    বিশেষ প্রতিবেদক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৫:০২ অপরাহ্ণ

    জীবন বীমা কোম্পানিতে নিয়ন্ত্রণহীন অতিরিক্ত ব্যয়

    নিয়মিত অডিট কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেশের লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়। ২০১৬ সালে আইডিআরএ’র চাপের মুখে অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ পুনর্ভরণ এবং ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করবে বলে অঙ্গীকার করেছিল কোম্পানিগুলো। কিন্তু দুটি কোম্পানি বাদে পুনর্ভরণ দূরের কথা অতিরিক্ত ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতেই পারেনি বাকি কোম্পানিগুলো।
    বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত খরচের টাকা পুনর্ভরণের অঙ্গীকার করেও ব্যয় কমাতে পারেনি বেসরকারি ১৬টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ অর্থবছরে কোম্পানিগুলো ব্যবস্থাপনা খাতে আরো ৫০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।
    ২০০৯ থেকে ২০১৫ অর্থবছরে বীমা কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তবে ২০১৬ সালে আইডিআরএ’র চাপের মুখে অতিরিক্ত ব্যয়ের এই অর্থ পুনর্ভরণ এবং নতুন করে আর কোনো অতিরিক্ত ব্যয় করবে না বলে অঙ্গীকার করেছিল কোম্পানিগুলো। কিন্তু পুনর্ভরণ দূরের কথা অতিরিক্ত ব্যয়-ই থামাতে পারেনি কোম্পানিগুলো।

    উপরোক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ১৯৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর পরের অবস্থান রয়েছে সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ৬৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। তবে নির্ধারিত ব্যয় সীমার নিচে খরচ করা দুটি বীমা কোম্পানি হলো, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ডেল্টা লাইফ ১২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং রূপালী লাইফ ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম ব্যয় করেছে।
    আইডিআরএ’র তথ্য অনুসারে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ৫৯ কোটি ১০ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৬৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। অর্থাৎ পুনর্ভরণের অঙ্গীকারের পর ৩ বছরে কোম্পানিটি ১৯৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ২৯ কোটি ৩ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ২৯ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকাসহ মোট ৬৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ৯ কোটি ৪ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকাসহ মোট ৪৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকাসহ মোট ৪৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৭ কোটি ৬২ লাখ টাকাসহ মোট ৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ১৩ কোটি টাকা, ২০১৬ সালে ১২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকাসহ মোট ৩৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ১২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকাসহ মোট ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ২০১৬ সালে ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। তবে কোম্পানিটি ২০১৭ সালে ৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা কম ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ আলোচ্য ৩ বছরে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

    হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকাসহ মোট ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকাসহ মোট ১০ কোটি ৭২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৫ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকাসহ মোট ১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। তবে কোম্পানিটি ২০১৬ সালে ১৭ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ২২ লাখ টাকা কম ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ আলোচ্য ৩ বছরে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
    প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ব্যবস্থাপনা খাতে ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। তবে কোম্পানিটি ২০১৬ সালে ৪২ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ১১ লাখ টাকা কম ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ আলোচ্য ৩ বছরে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

    মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৫ সালে ৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ও ২০১৬ সালে ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করে। তবে ২০১৭ সালে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা কম খরচ করে। অর্থাৎ কোম্পানিটি আলোচ্য সময়ে ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

    অন্যদিকে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আলোচ্য ৩ বছরে ব্যয়সীমার চেয়ে কম খরচ করেছে, ২৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ডেল্টা লাইফ ২০১৫ সালে ২৪ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ১০ কোটি ৮ লাখ টাকা কম খরচ করেছে। আর রূপালী লাইফ ২০১৫ সালে ১ কোটি ১ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম খরচ করেছে।

    এ অবস্থায় দেশের বীমা কোম্পানিগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণসহ সকল কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে স¤প্রতি বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরইমধ্যে নিরীক্ষক নিয়োগও চূড়ান্ত করেছে। খুব শিগগিরই বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগের বিষয়ে বীমা কোম্পানিগুলোকে আইডিআরএ চিঠি দেবে বলে জানা গেছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    পারিবারিক বলয়ে বন্দী সানলাইফ

    ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি