মঙ্গলবার ২৮ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোটিশ পাঠিয়েও রুহুল আমিন হাওলাদার ও স্ত্রী রত্নাকে ধরতে পারছে না দুদক

আবুল কাশেম   |   সোমবার, ১০ জানুয়ারি ২০২২   |   প্রিন্ট   |   263 বার পঠিত

নোটিশ পাঠিয়েও রুহুল আমিন হাওলাদার ও স্ত্রী রত্নাকে ধরতে পারছে না দুদক

বার বার তলবি নোটিশ পাঠিয়েও জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব বর্তমান কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং তার স্ত্রী বরিশাল-৬ আসনের এমপি নাসরিন রত্নাকে হাজির করতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। নানা কৌশলে দুদকের তলবি নোটিশ এড়িয়ে যাচ্ছেন এ দম্পতি। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়েক বার দুদকের তলবি নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আশ্রয় নিয়েছেন তারা।
আজ ১০ জানুয়ারি (সোমবার) সকালে রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্রসহ দুদকে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু এবারও হাইকোর্টের দোহাই দিয়ে তারা দুদকে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সন্দেহজনক লেনদেনের ব্যাখ্যা দিতে তাদের তলব করেছে দুদকের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রুহুল আমিন হাওলাদার এবং তার স্ত্রীর নামে থাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০০ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করা হয়েছে। ওই অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবার তাদের তলব করা হয়। কিন্তু তখন হাজির হননি। তারা সময় চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালত তাদের আবেদন আমলে নিয়ে দুই মাস সময় দেন। দুই মাস পর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো তাদেরতলব করা হয়।

দুদকের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর রুহুল আমিন হাওলাদারের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রদানের জন্য দুই মাস সময় দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে দুই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ জানুয়ারি তাদের দুদকে পুনরায় হাজির হবার জন্য তলবি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে তাদের বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে কয়েকবার দুদকে তলব করা হলেও তিনি কোনোবারই দুদকে আসেননি। এবারও হাইকোর্টের দোহাই দিয়ে দুদকে না আসার নানা ফন্দি ফিকির শুরু করেছেন। সরকারি সম্পদ লোপাটের মাধ্যমে শত কোটি টাকার আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রুহুল আমিন হাওলাদারকে প্রথম দফায় তলব করে দুদক। ওই সময় জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণ দেখিয়ে দুদকে হাজির না হয়ে তিনি হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। পরে ২০১৯ সালের ২০ মে ওমরাহ হজে যাওয়ার প্রস্তুতির কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে যান তিনি।

২০১৯ সালে ২৮ মার্চ রুহুল আমিন হাওলাদারকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। ওই নোটিশে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাওলাদার রিট আবেদন করলে আদালত প্রাথমিক শুনানি নিয়ে চার সপ্তাহের জন্য দুদকের তলবি নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করে।

আরো অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রাজধানীর গুলশানে হাওলাদার কমপ্লেক্স, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মেটাল প্রোডাক্ট নামে বিশাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পটোয়াখালীতে পর্যটন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক জায়গা সম্পদের মালিকানা রয়েছে তাদের। পটোয়াখালীতে পর্যটন এলাকায় বিশাল আবাসিক হোটেল এবং ওই এলাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তারা। তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সও পরিশোধ করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়েও হাইকোর্টে এবং আপিল বিভাগে মামলা দায়ের করে বছরের পর বছর পার করছেন।

এদিকে ‘দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি’ পত্রিকা থেকে মুঠোফোনে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ১০ জানুয়ারি দুদকে তিনি এবং তার স্ত্রী আসবেন না। কারণ দুদকের তলবি নোটিশের বিরুদ্ধে গত বছর নভেম্বর রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুলসহ দুই মাস সময় দিয়েছে। দুই মাস পার হলেও আদালতের জারি করা রুলের নিষ্পত্তি হয়নি। এটা এখন বিচারাধীন বিষয়। রুলের বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি এবং আদেশের পর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টের জারি করা রুলের কাগজপত্র দুদকে পাঠানোর পর কেন আবার তাদেরকে তলবি নোটিশ পাঠিয়েছেন এ নিয়ে তিনি উল্টো প্রশ্ন তুলেন।

 

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ২:৩৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ জানুয়ারি ২০২২

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।