বুধবার ২৯ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি ও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে পদত্যাগ

ন্যাশনাল টি কোম্পানির সাবেক এমডি আউয়ালের অপকর্মের দায় নেবে কে

বিশেষ প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২০   |   প্রিন্ট   |   357 বার পঠিত

ন্যাশনাল টি কোম্পানির সাবেক এমডি আউয়ালের অপকর্মের দায় নেবে কে

অবশেষে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায় কাঁধে নিয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন এম. আবদুল আউয়াল। গত ২৮ অক্টোবর এনটিসির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ওইদিনই নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে কোম্পানির সাবেক এমডি এইচএম জিয়াউল আহসানকে নিয়োগ দেয় পরিচালনা পর্ষদ। ফলে এনটিসির নেতৃত্বের বিষয়টি সুরাহা হলেও এমডি থাকাবস্থায় আবদুল আউয়ালের বিভিন্ন অনিয়মে কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের যে ক্ষতি হয়েছে তার দায় কে নেবে- এর কোনো সুরাহা হয়নি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ সহসাই কাটছে না, এমনটি বলাই যায়। এরপরও বিন কাশেম নামে পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য কর্তৃক এম আউয়ালকে সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর ন্যাশনাল টি কোম্পানির এমডি হিসেবে নিয়োগ পান এম আবদুল আউয়াল। এর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমডি হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েই একের পর এক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এম আউয়াল। পদে থাকাকালীন দীর্ঘ ৪ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে খোলেন একাধিক হিসাব নম্বর। রাজধানী ঢাকার বুকে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিক বনে যান। এ নিয়ে কোম্পানি চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি দমন কমিশনে মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান নামে এক বিনিয়োগকারী চিঠি দিলে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিনিয়োগকারী অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল আউয়ালের এমডি পদে পদোন্নতিই ছিল নিয়মবহির্ভূত। কোরাম পূর্ণ না করেই পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের যোগসাজশে তিনি অবৈধভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। এরপর বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজনের নামে অর্থ আত্মসাৎ, চাকরিবিধি ভঙ্গ করে দায়িত্ব পালনকালে প্রোভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুইটির টাকা হাতিয়ে নেয়া, যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে অর্থ লোপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি ও দুর্নীতিতে সহায়তাকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়মভঙ্গ করে বেতন-বোনাস প্রদান ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাগানের মূল্যবান গাছ কাটা ও পাচার করে অর্থ আত্মসাৎ, কোম্পানির আওতাধীন পর্যটনকেন্দ্রের টোলের টাকা আত্মসাৎ, চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ও চিঠিতে তুলে ধরেন ওই বিনিয়োগকারী।

সে সময়ে উচ্চমূলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কোম্পানির ২৭ কোটি টাকার দুর্নীতি ও যন্ত্রপাতি পরিবহন ব্যয় ৫ লাখ টাকা দেখিয়ে ভুয়া বিল তৈরি, বাগানের ওষুধ ও কীটনাশক সরবরাহের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ, মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে বাগানে লোক নিয়োগে পর্ষদের অনুমোদনহীন বিভিন্ন কমিটি ও সাব-কমিটি গঠন, প্রতি বছর ৩-৪ লাখ অতিরিক্ত চারাগাছ রোপণের নামে প্রায় ৩০-৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, কোম্পানির আওতাধীন পর্যটনকেন্দ্র থেকে প্রতি বছর টোলবাবদ আদায়কৃত ৮-১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বার্ষিক সাধারণ সভার নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কোম্পানির কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

এর ফলে পুঁজিবাজারে থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর লগ্নিকৃত অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নষ্ট হওয়ায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফলে আলোচ্য বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত সাবেক এমডি আবদুল আউয়ালকে জবাবদিহিতার আওতায় না এনে চাকরি থেকে অব্যাহতির সুযোগ দেয়ায় তাদের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৪:৪২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২০

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।