বিবিএনিউজ.নেট | সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২০ | প্রিন্ট | 526 বার পঠিত

স্বাধীনতা-উত্তর দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য তাদের মধ্যে অন্যতম মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহামেদ। যিনি বীমা খাতের দুই প্রতিষ্ঠান পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্সের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠান পূবালী ব্যাংকের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা। আজ তার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী।
এই বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক এবং শিক্ষানুরাগী স্বীয় প্রচেষ্টায় নিজেকে আর্থিক সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কঠোর পরিশ্রমী এই ব্যক্তিত্বের কাজের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ভোর থেকে মধ্যরাত অবধি ছিল তার কাজের ব্যাপ্তি। আর এক্ষেত্রে সর্বদাই প্রেরণা জুগিয়েছেন প্রিয় সহধর্মিণী মঞ্জুরা আহমেদ।
মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে আজ থেকে ৬২ বছর আগে পাট ব্যবসার মাধ্যমে শুরু করেন কর্মজীবন। দেশের পাটশিল্প বিকাশে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশের পাট ব্যবসাকে উজ্জীবিত করে রেখেছিলেন তিনি। ১৯৯৫-৯৬ এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে পাট রফতানিতে দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন। দেশ স্বাধীনের পূর্ব থেকেই তিনি পাট ব্যবসার পাশাপাশি ব্যাংক-বীমা ব্যবসায়ও সম্পৃক্ত ছিলেন। আশির দশকে শেয়ারবাজারে যে কয়জন সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। কেবল ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক সেক্টরেই সফল উদ্যোক্তা ছিলেন না, ছিলেন বহুমুখী, সৃজনশীল, ব্যতিক্রমধর্মী একজন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন খুবই পরিশ্রমী, সৎ এবং নিষ্ঠাবান।
১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের কথা চিন্তাকরে পিপলস্ ইন্স্যুরেন্সের কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ২০০০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। পূবালী ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠার পেছনে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দীর্ঘ ২৫ বছর ছিলেন তিনি এই ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। তাঁরই পরামর্শে দুর্দিনে পড়া পূবালী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিল।
নিজ প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমে বিপুল সম্পদ অর্জন করলেও সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করতেন। এটি ছিল তার অন্যতম নীতি। সবর্দা এই নীতি অনুসরণ করতেন। গোপনে দান করতে পছন্দ করতেন, জীবনযাপন ছিল অতি সাধারণ।
মরহুম গিয়াসউদ্দিন আহামেদ চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার গাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মায়ের নামে নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘রয়মনেন নেছা ডিগ্রি কলেজ ও ছাত্রাবাস’।
দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই ব্যক্তিত্ব কাজ নিয়ে এতটাই নিমগ্ন থাকতেন যে, শরীরে বাসা বাঁধা মরণব্যাধি ক্যান্সার ছিল তার অজানা। জীবনের ৭২টি বসন্ত পার করে অবশেষে ২০১০ সালে ৩১ আগস্ট ক্যান্সারের কাছে হার মেনে ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। নিজ জন্মভূমিতে প্রিয় মা-বাবার কবরের পাশেই শায়িত হন তিনি। আজ আমাদের মাঝে তিনি নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তার গড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ব্যাংক-বীমাসহ বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যেসবের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে আগামীর বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক, কর্মসংস্থান হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষিত তরুণ বেকারদের। আর এসব শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন তার শুভাকাঙ্ক্ষী, গুণগ্রাহীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে। আর্থিক খাতে অসামান্য অবদানস্বরূপ ২০১৯ সালের ১১ মার্চ আর্থিক খাতের গুণীজন শ্রেণিতে তাকে ‘ব্যাংক বীমা অর্থনীতি অ্যাওয়ার্ড (মরণোত্তর)’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
Posted ১:১৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২০
bankbimaarthonity.com | Sajeed


