• শিরোনাম

    পবিত্র আশুরা মঙ্গলবার

    কামারুন নাহার মুকুল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:২৪ অপরাহ্ণ

    পবিত্র আশুরা মঙ্গলবার

    আগামীকাল মঙ্গলবার সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালন করা হবে। ১৪৪০ বছর আগে আরবি বছরের প্রথম মাস মহররমে এই দিনে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের এই ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য চান্দ্রমাসের হিজরি সন গণনার সূচনা হয়। আরবি বছরের প্রথম মাস মহররম। মহররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলে। আশুরা শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে। এর অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। অন্য কথায় বলতে গেলেও এ মাসের ১০ তারিখ ১০টি বড় বড় ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কারণেও এ তারিখকে আশুরা বলা হয়। সৃষ্টির পর থেকে আশুরার দিনে অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছে বিধায় এই দিনের মর্যাদা ও মাহাত্ম অনেক বেশি। হাদিস শরিফে মহররমকে আল্লাহর মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আল কোরআনের সূরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ চারটি মাসকে সম্মানিত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর একটি মহররম। এ কারণে মহররম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। ঈস্রাফিল (আঃ) এর সিঙ্গার ফুৎকারে ধ্বংস হয়ে যাবে।

    মহররমের দশম দিবসটি সৃষ্টির গোড়া থেকেই মহান আল্লাহর নিকট খুবই সম্মানীত।
    ১. এ দিনে আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি করেন। আবার এ দিনেই ঈস্রাফিল ( আঃ) সিঙ্গায়
    ফুঁ দেবেন এবং কেয়ামত সংঘটিত হবে।
    ২. এ দিনে হজরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করেছেন এবং বেহেশত থেকে দুনিয়ায়
    পাঠিয়েছেন।্ এই দিনেই আল্লাহ পাক আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল করেন এবং এ
    দিনে তিনি স্ত্রী হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফার ময়দানে সাক্ষাৎ করেন।
    ৩. এ দিনে হজরত নুহ (আ.)-এর কিস্তিতে আরোহীগন মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি
    পেয়েছিলেন । হযরত ইদ্রিস (আঃ) এ দিনে বেহেশতে প্রবেশ করেন।
    ৪. এ দিনে হজরত ইবরাহিম (আ.) এর জন্ম এবং নমরুদের অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ৪০
    দিন পর এ দিনে সেখান থেকে মুক্তি লাভ করেন।
    ৫. হজরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কঠিন রোগ ভোগ করার পর মহররমের এ দিনে
    আল্লাহর রহমতে সুস্থতা লাভ করেন।
    ৬. হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.) তাঁর ১১ ভাইয়ের ষড়যন্ত্রে কূপে
    পতিত হন এবং এক বণিক দলের সহায়তায় মিসরে গিয়ে হাজির হন। তারপর আল্লাহর
    বিশেষ কুদরতে তিনি মিসরের প্রধানমন্ত্রী হন। ৪০ বছর পর ১০ মহররম পিতার সঙ্গে
    মিলিত হন।
    ৭. হজরত ইউনুস (আ.) নদী অতিক্রম করে দেশান্তরিত হওয়ার সময় নদীর পানিতে
    পতিত হন এবং মাছ তাঁকে গিলে ফেলে। মাছের পেট থেকে তিনি আল্লাহর রহমতে
    ৪০ দিন পর মুক্তি পান এই দিনে।
    ৮. হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের অত্যাচারের কারণে তাঁর দলবলসহ অন্যত্র চলে যান।
    পথিমধ্যে নীল নদ পার হয়ে তিনি ফেরাউনের হাত থেকে আশুরার দিন মুক্তি পান।
    আর ফেরাউন তার দলবলসহ নীল নদের পানিতে ডুবে মারা যায়।
    ৯. হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির লোকেরা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করলে মহররমের
    ১০ তারিখ আল্লাহ পাক তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তি দান করেন।
    ১০. মহররম মাসের ১০ তারিখ ইরাকের কুফা নগরীর অদূরে ফোরাত নদী তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে নবী করিমের প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র, খাতুনে জান্নাত হজরত ফাতেমা (রা)-এর কলিজার টুকরা দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) শাহাদাত বরণ করেন। মহররমের দশ তারিখ কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য খ্যাত। এমহান দিবসেই হযরত হোসাইন (রাঃ) অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যে সংগ্রাম ও জেহাদ পরিচালনা করেছিলেন তা আশুরার ঘটনাবলীর মধ্যে অন্যতম।

    মহানবী (সাঃ) এর ইন্তেকালের মাত্র ৫১ বছরের ব্যবধানে রাসূল (সাঃ) প্রবর্তিত খেলাফতের ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জোরপূর্বক ক্ষমতার মসনদে বসে অনৈসলামিক শাসন পদ্ধতি চালু করে হযরত আমীরে মুয়াবিয়ার (রাঃ) জ্যেষ্ঠ পুত্র ইয়াজীদ। কিন্তু হযরত হোসাইন (রাঃ) এই জালেম অত্যাচারী ফাসিক ও মুনাফিক শাসকের আনুগত্য মেনে নিতে অস্বীকার করলে পরিণতিতে ইয়াজিদের রাজশক্তির সঙ্গে তিনি অসম যুদ্ধে কারবালার প্রান্তরে ৭২ জন সঙ্গী সাথীদের নিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে শাহাদাত বরণ করেন।
    শুধু কারাবালার ঘটনা দ্বারাই আশুরা শুরু হয়নি; আশুরার মর্যাদা ও তাৎপর্য পৃথিবীর শুরু থেকে পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

    ইসলামের ইতিহাসের সব ঘটনাকে অতিক্রম করে একটি শোকাবহ স্মৃতি নিয়ে এ ঘটনা আজও মুসলমানদের বুক বিদীর্ণ করছে। স্মরণকালের ইতিহাসে কারবালার দুঃখজনক ঘটনার সঙ্গে আশুরার সম্পর্ক যেন একাকার হয়ে গেছে। এদিন থেকে আশুরা নতুন এক আঙ্গিক লাভ করেছে। মহররম ও আশুরা এখন অন্য রকম এক চেতনা নিয়ে পালিত হচ্ছে। মহররম মাস ও আশুরার দিন এখন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ত্যাগ, শক্তি ও প্রতিবাদের কথা। কারবালার মর্মান্তিক স্মৃতি থেকে মুসলমানরা শুধু শোকের আবহই লাভ করছেন না, তাঁরা জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ারও চেতনাও খুঁজে পাচ্ছেন। মহররম ও আশুরা আমাদের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হতে শেখায়। সত্য ও ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অসত্য ও অন্যায়কে প্রতিরোধ করার সাহস জোগায়। আশুরা আমাদের আল্লাহর ওপর ভরসা করে জুলুমের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

    মহররম নেক আমল বা ইবাদত-বন্দেগির মাস। দোয়া কবুলের মাস। মহররমের গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে এর ১০ তারিখে (আশুরায়) নফল রোজা রাখা।
    মহানবী (সা.) আশুরার ফজিলত সম্পর্কে বলেন, ‘রমজানের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হলো মহররমের রোজা।’ তবে মহানবী (সা.) ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ এটি যেন ইহুদিদের অনুকরণে না হয়।’ হাদিস শরিফে আছে, ‘আশুরার দিন যে ব্যক্তি নিজের পরিবারবর্গকে পরিতৃপ্ত করে খেতে ও পরতে দেবে, আল্লাহ তাআলা তাকেও সারা বছর পরিতৃপ্তিসহকারে খেতে ও পরতে দেবেন।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি