সোমবার ২০ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড

পাট ও হোগলা দিয়ে তৈরি পণ্য রফতানি হচ্ছে ২৬ দেশে

  |   বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   2184 বার পঠিত

পাট ও হোগলা দিয়ে তৈরি পণ্য রফতানি হচ্ছে ২৬ দেশে

স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় পাট, কুমিল্লা থেকে আসে হোগলা। এ দুই কাঁচামালের মিশেলে তৈরি হচ্ছে ম্যাট, পাপোশ, টুপি, ফুলের টব, ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্য। পরিবেশবান্ধব কারখানা ‘গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের’ তৈরি এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে বিশ্বের ২৬টি দেশে।

২০১৪ সালে রাজবাড়ী শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া এলাকায় নিজের তিন একর জমি, জমানো কিছু টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের সহযোগিতায় কারখানাটি গড়ে তোলেন প্রকৌশলী মো. হাকিম আলী সরদার। লক্ষ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে নিজ এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সেই স্বপ্ন পূরণে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটিতে এখন নিয়মিত কাজ করছেন ৩০০ শ্রমিক। চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করছেন আরো ৭০০ জন, যাদের বেশির ভাগই পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন।

পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. হাকিম আলী সরদার বলেন, রাজবাড়ী জেলাটি অনেক অবহেলিত। এখানে তেমন কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। যদিও এ জেলার অনেক ব্যক্তি আছেন, যারা ঢাকায় বড় বড় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছেন। নিজের জেলার মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ক্ষুদ্র এ উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমি। জেলার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ ডলার টার্নওভারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের পণ্য বিশ্বের ২৬টি দেশে রফতানি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় ইউরোপে। জার্মানির নানু-নানা, স্পেনের নিহাউ, যুক্তরাজ্যের ডিজাইনিং কালার ও গ্রিন পাইওনিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য বিক্রি করে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড।

সরেজমিন গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের কারখানা ঘুরে দেখা যায়, এখানে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী শ্রমিকও কাজ করছেন। কেউ করছেন টবের কাজ, কেউ ম্যাট বা পাপোশের। কেউ আবার বুনছেন টুপি, কেউ বানাচ্ছেন ব্যাগ।

এ কারখানারই শ্রমিক ইব্রাহিম বলেন, আমি একসময় ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতাম। ঢাকায় কাজ করে যে বেতন পেতাম, রাজবাড়ীতেও একই বেতন পাচ্ছি। ঢাকায় বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচের কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু এখানে নিজের বাড়িতে থেকে কাজ করতে পারছি। ফলে এখন অনেক ভালো আছি।

সালমা আক্তার নামে আরেক শ্রমিক বলেন, সর্বনাশা পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি, জমিজমা সব হারিয়েছি। বাড়ির কাছে এ কারখানায় চাকরি করে এক বছরে ৭০ হাজার টাকা জমিয়েছি। আগামী বছর একটু জমি কিনে ঘর তোলার ইচ্ছা আছে। আমার মতো আরো অনেক নারী এখানে কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে পরিবেশবান্ধব এ কারখানায় তৈরি পণ্যের ব্যবসা করতে আগ্রহী রাজবাড়ীতে জন্ম নেয়া অনেক প্রবাসী। প্রতিদিনই কেউ না কেউ কারখানাটি পরিদর্শন করছেন। বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ছবি তুলেও নিয়ে যাচ্ছেন তারা বা তাদের লোকজন।

কারখানায় পণ্যের ছবি তুলতে এসেছেন এমনই একজন রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার বাসিন্দা রফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ব্যবসা করেন। এখানে কী কী তৈরি হয় তার ছবি তুলে পাঠাতে বলেছেন, তাই আমি এসেছি। ছবিগুলো পাঠাব। তাদের পছন্দ হলে অর্ডার দিয়ে ব্যবসা করবেন।

কারখানাটির ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কারখানার বিশেষত্ব হচ্ছে সব কাঁচামালই দেশীয় উৎস থেকে আসে।
রাজবাড়ীতে প্রচুর পাট চাষ হয়, তাই এ জেলা থেকে পাট কেনা হয়। আর হোগলা কিনে আনা হয় কুমিল্লা থেকে। পাট ও হোগলা দিয়ে তৈরি করা এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে জাপান, কানাডা, আমেরিকা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরবসহ অনেক দেশে।

পরিবেশবান্ধব কারখানাটির সম্ভাবনার পাশাপাশি বেশকিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তা হাকিম আলী সরদার। তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদিত পণ্য দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে দেশের বাইরে যায়। অনেক সময় ঘাটেই তিন-চারদিন ট্রাক আটকে থাকে। বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে, ঘন ঘন লোডশেডিং হয়। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া ব্যাংক সুদের হার অনেক বেশি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো বড় আকারে কারখানাটি করতে চান বলেও জানান তিনি।

এসব সমস্যা নিয়ে কথা হলে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের কথা আমি শুনেছি। কথা বলেছি ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সঙ্গে। তাদের ওখানে বিদ্যুতের সমস্যাটা বেশি। আমি তাদের বলেছি একটি আবেদন নিয়ে আসতে। ওনাদের কারখানায় যাতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ২:৫৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11223 বার পঠিত)

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।