• শিরোনাম

    মেয়াদপূর্তির টাকা পেতে বিক্ষোভ ও লিগ্যাল নোটিশ

    পারিবারিক বলয়ে বন্দী সানলাইফ

    ব্যাংক বীমা অর্থনীতি ডট কম | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

    পারিবারিক বলয়ে বন্দী সানলাইফ

    পরিবারতন্ত্র, এলাকাপ্রীতি আর গ্রুপিংয়ের ভয়াল ছোবলে ক্ষত-বিক্ষত দেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি বীমাপ্রতিষ্ঠান সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। পরিচালনা পর্ষদের ৮(৯) জন সদস্যের মধ্যে একই পরিবারের ৬ জন পরিচালক, একমাত্র উপদেষ্টা মালিকদের নিকটাত্মীয়, প্রধান কার্যালয়ের ৭৫% লোক মানিকগঞ্জের অধিবাসী। আসলাম রেজা ও সুনামউদ্দিন গ্রুপের নোংরা রাজনীতিতে দ্বিধাবিভক্ত ব্যবস্থাপনা পর্ষদ। সংস্কারের নামে কোম্পানির অভিজ্ঞদের ছাঁটাই করে ব্যবস্থাপনা পর্ষদে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে অনভিজ্ঞ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের। মেয়াদপূর্তির পর দীর্ঘসময় পার হলেও বীমার টাকা না পেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে শত শত গ্রাহক। ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল এম.এ মালেক অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিডেট। ‘আপনি যেখানেই থাকুন, সেখানেই আপনার জীবনকে সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে নিবেদিত সানলাইফ’ এই শ্লোগান নিয়ে ৩০ এপ্রিল ২০০০ সালে নিবন্ধিত কোম্পানি হিসেবে জীবন বীমা ব্যবসা শুরু করে ২০০১ সালে। বর্তমানে কোম্পানির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্বে আছেন আলহাজ জাহিদ মালেক স্বপন এমপি’র বোন প্রফেসর রুবিনা হামিদ।

    পরিবারতন্ত্রের গোলকধাঁধা:

    sunlife

    সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের ২ জন ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর ছাড়া বাকি ৮-৯ জনের মধ্যে ৬-৭ জনই কর্নেল (অব.) মালেক পরিবারের সদস্য। আলহাজ জাহিদ মালেকের অনুপস্থিতিতে অন্য ৬ জন পরিচালক হচ্ছেন- (১) প্রফেসর রুবিনা হামিদ, কর্নেল (অব.) এম.এ মালেকের মেয়ে। (২) মিসেস ফৌজিয়া মালেক, কর্নেল (অব.) এম.এ মালেকের স্ত্রী এবং রুবিনা হামিদের মা। (৩) মিসেস শাবানা মালেক, রুবিনা হামিদের ভাইয়ের স্ত্রী। (৪) ড. কাজী আক্তার হামিদ, প্রফেসর রুবিনা হামিদের স্বামী। (৫) রাহাত মালেক, রুবিনা হামিদের ভাইয়ের পুত্র। (৬) রায়ান হামিদ, প্রফেসর রুবিনা হামিদের পুত্র। এছাড়া কোম্পানির একমাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ, শাবানা মালেকের ভাই। এই পরিবারের বাইরে দুজন পরিচালক থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কোম্পানির সকল সিদ্ধান্ত মালেক পরিবারই নির্ধারণ করে। তাই কোম্পানির সার্বিক উন্নয়ন পরিবারতন্ত্রের গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

     

    মানিকগঞ্জের শত মানিক:

    সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ৭৫% অফিস স্টাফ মানিকগঞ্জের অধিবাসী। এছাড়া ১৫% স্টাফ আছে, যাদের বাড়ি মানিকগঞ্জে না হলেও মানিকগঞ্জের কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজন বা সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। ৫% অফিস স্টাফ আছে অন্যান্য পরিচালক, উপদেষ্টা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। বাকি ৫% স্টাফ অন্য জেলার বা বিভিন্ন সময়ে কোনো এমডি বা প্রকল্প প্রধানদের সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘‘মালিকদের এলাকার বা পছন্দের লোক নিয়োগ সব কোম্পানিতেই আছে। তবে যেহেতু আমাদের মালিক একজন এমপি ও মন্ত্রী সেহেতু তার নির্বাচনী এলাকার লোক একটু বেশি নিয়োগ হচ্ছে, এতে সমস্যার কিছু দেখছি না। তবে এই উসিলায় কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানিকগঞ্জের অন্যান্য উপজেলার লোক এবং নিজেদের আত্মীয়স্বজন নিয়োগ দিচ্ছেন, যা মালিকরাও অবগত নন’’।

     

    মাথাভারী প্রশাসনে মেধার সংকট প্রকট:

    সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ৪ জুন, ২০১৭ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন একেএম শরিফুল ইসলাম। অত্যন্ত হাসিখুশি ও মিশুক শরিফুল ইসলামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এটা দ্বিতীয় কোম্পানি। ডেল্টা ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে মূলত তিনি গ্রæপ বীমায় কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বীমা পেশার চেয়ে চলচ্চিত্র সোসাইটি আন্দোলনের সংগঠনক হিসেবে পরিচিত। গোল্ডেন লাইফে ডিএমডি হিসেবে কিছুদিন কাজ করে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোম্পানি ছাড়তে হয়েছিল তাকে। তিনিই বীমা সেক্টরে একমাত্র কর্মকর্তা, যিনি গোল্ডেন লাইফে বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার জন্য প্রেস ক্লাবের সামনে একাই অনশন ও ধর্মঘট করেছেন। ডায়মন্ড লাইফে এমডি হিসেবে ব্যর্থতার পর তিনি সানলাইফে যোগদান করেন। ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও একজন বিতর্কিত ও আলোচিত নারী কর্মকর্তাকে ডায়মন্ড লাইফের মতো সানলাইফেও নিজের পিএস হিসেবে উচ্চপদে নিয়োগ দিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন শরিফুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দায়ে গোল্ডেন লাইফ থেকে বরখাস্ত হওয়া চিরকুমারী এই নারী পিএস’কে তেজগাঁও থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একবার আটকও করেছিল। সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের একমাত্র তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানি, যেখানে অর্থ ও হিসাব বিভাগে ব্যবস্থাপনা পর্ষদে উচ্চ বেতনে একইসাথে তিনজন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও ড. কল্যাণ কৃষ্ণ চক্রবর্তী মূলত একজন কবি, নিজেকে কবি কল্যাণ হিসেবে পরিচয় দিতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রবিউল আলমও একজন স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। এছাড়া কোম্পানির ক্ষুদ্র বীমার সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহেদুর রহমানও একজন অভিজ্ঞ হিসাব কর্মকর্তা। কিন্তু এই তিনজন ঊর্ধ্বতন হিসাব কর্মকর্তা কোম্পানির হিসাবে স্বচ্ছতা আনয়ন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় হ্রাসে কার্যকর ভ‚মিকা পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। ২০১৭ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি মোট প্রিমিয়াম আয় করেছে ১০৮ কোটি টাকা।  ২০১৬ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ১২৫ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় করতে ৭৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে। অথচ ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা ছিল ৬২ কোটি ৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটি ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা প্রায় ২৪ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। ২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১৬১ কোটি ১২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করে। ব্যয় করেছে ১১৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ব্যয়ের অনুমোদন ছিল ৮৫ কোটি ৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২৯ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ৩৪ শতাংশ বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। প্রতি বছর প্রিমিয়াম আয়ের প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত হ্রাস এবং আয়-ব্যয়ের এই তুলনামূলক চিত্র দেখলেই বোঝা যায় কোম্পানির মাথাভারী প্রশাসনে মেধার সংকট কতটা প্রকট।

     

    অভিজ্ঞদের গণছাঁটাই ও দুর্নীতিবাজদের পদায়ন:

    সানলাইফে সংস্কারের নামে চলছে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের গণছাঁটাই এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি। কিছুদিন আগে কোম্পানির সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বীমা সংগঠক মাজেজুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে লোকমুখী বীমা প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে সবুজ তালুকদারকে। মানিকগঞ্জের জামাই সবুজ তালুকদার সুনাম উদ্দিন গ্রুপের অন্যতম সদস্য। ইতিপূর্বে লোকমুখী বীমা প্রকল্পের উন্নয়ন প্রশাসন বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রিমিয়াম আত্মসাতে সহযোগিতার জন্য তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এছাড়া কয়েকদিন পূর্বে ইসলামিক আ’সান বীমার প্রকল্প পরিচালক মহিবুর রহমান খাঁন বকুলকে ছাঁটাই করে দায়িত্ব দেয়া হয় কুমিল্লা এরিয়ার সংগঠক সাকিন আহাম্ম সাকিন আহাম্মেদ কুমিল্লা এলাকায় ভাল ব্যবসা করলেও সারা দেশে ব্যবসা করার বা প্রধান কার্যালয়ে বসে সংগঠন পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা  নেই। এছাড়া কুমিল্লা এরিয়ায় কাজ করার সময় প্রিমিয়ামের টাকা ডিউস (বকেয়া) থাকায় সে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে কোম্পানিতে চাকরি করে আসছে। এবিষয়ে সম্প্রতি অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিবুর রহমান খাঁন বকুল এই প্রতিবেদককে জানান, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম, সিএফও কল্যাণ কৃষ্ণ, এএমডি-হিসাব (ক্ষুদ্র বীমা) সাহেদুর রহমান ও সুনামউদ্দিন চেয়েছিলেন প্রকল্প পরিচালক পদে গণমুখী বীমা প্রকল্পের মানিকগঞ্জের সংগঠন প্রধান সাইফুল ইসলাম বা রাজশাহীর সংগঠন প্রধান মোতাহার হোসেনকে দায়িত্ব দিতে। এতে করে গণমুখী বীমা প্রকল্প আসলাম রেজার নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতো। কিন্তু সুচতুর আসলাম রেজা তাদের দুরভিসন্ধি সফল হতে দেননি। তিনি নিজের পছন্দের লোক ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন’ নামে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের একজন সাবেক কর্মকর্তাকে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গণমুখী বীমা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য, একজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হলে স্বাভাবিক নিয়মে কোম্পানির এইচআর থেকে নোট উত্থাপিত হয়, এরপর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও এমডির স্বাক্ষরের পর চেয়ারপারসন অনুমোদন দেন। কিন্তু আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিয়োগ প্রক্রিয়া উল্টোদিক থেকে সম্পন্ন হয়েছে, অর্থাৎ কোনোরকম ঝুঁকি গ্রহণ না করতে আসলাম রেজা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিয়োগ ফাইল সরাসরি চেয়ারপারসনের স্বাক্ষর গ্রহণ করে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের একটি প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান ছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর সাথে সম্পর্কোচ্ছেদ ও তার বিরুদ্ধে স্বীয় স্ত্রী কর্তৃক নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা হলে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। উল্লেখ্য, আব্দুল্লাহ আল মামুন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাবেক ভায়রা ভাই এবং তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলাসহ বর্তমানে প্রায় ১০টি মামলা বিচারাধীন। এ বিষয়ে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত এডিশনাল এমডি এসএম আসলাম রেজার সাথে মোবাইল ফোনে (১৩ সেপ্টেম্বর) যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এখন কক্সবাজারে কোম্পানির একটি প্রোগ্রামে ব্যস্ত আছি; পরে কথা বলবো। পরবর্তীতে তার সাথে আরো কয়েকবার যোগোযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। একই বিষয়ে কোম্পানির সিনিয়র জিএম সুনামউদ্দিনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,  কোম্পানির অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করে অনভিজ্ঞ ও দুর্নীতিবাজদের কেন বড় পদে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে? তিনি বলেন, এসব পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত। এছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিয়োগের বিষয়ে সুনামউদ্দিন বলেন, “সে এডিশনাল এমডি আসলাম রেজার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন এতোটুকু শুনেছি। এর বেশি কিছু বলা আমার ঠিক হবে না।”

     

    নোংরা গ্রুপিংয়ে দ্বিধাবিভক্ত ব্যবস্থাপনা পর্ষদ:

    সানলাইফের ব্যবস্থাপনা পরিষদ দুটি গ্রুপে দ্বিধাবিভক্ত। একটির নেতৃত্বে আছেন সম্প্রতি এডিশনাল এমডি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আসলাম রেজা এবং অন্য গ্রুপটির নেতৃত্বে আছেন জুনিয়র অফিসার থেকে অস্বাভাবিকভাবে পদোন্নতি পেয়ে অডিটের প্রধান ও সিনিয়র জিএম হওয়া সুনামউদ্দিন। দুজনই মানিকগঞ্জের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় মালিকরা এই গ্রæপিং বন্ধ করতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন না মর্মে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকতা পেশায় কর্মজীবন শুরু করা আসলাম রেজা ন্যাশনাল লাইফে উন্নয়নকর্মী হিসেবে কিছুদিন কাজ করলেও বীমা পেশায় উল্লেখযোগ্য কোনো অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি। শুধু মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয়তার পুরস্কার হিসেবে সানলাইফের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রকল্প গণমুখী বীমার প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। চমৎকার উপস্থাপনায় দক্ষ এবং সুচতুর আসলাম রেজা গণমুখী বীমার ব্যবসা উন্নয়নে বা নতুন সংগঠন তৈরিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ভ‚মিকা না রাখতে পারলেও মালিকদের বিশ্বাস অর্জনে এবং সানলাইফের স্টাফদের নিয়ে নিজের একটি শক্ত বলয় তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন। ব্যবসা উন্নয়নে ও প্রকল্পের বকেয়া আদায়ে ব্যর্থতা সত্তে¡ও সম্প্রতি আসলাম রেজাকে এডিশনাল এমডি হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে বলে জানান সুনামউদ্দিন গ্রæপের সদস্যরা। ন্যাশনাল লাইফ থেকে যোগদানকৃত কোম্পানির ক্ষুদ্র বীমার হিসাব বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘‘আসলাম রেজা অতি ধূর্ত একজন লোক। সে মালিকদের আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে এমন অনেক মিথ্যা কথা বা তথ্য গুছিয়ে উপস্থাপন করতে পারে, যা শুনে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়, অর্থাৎ সে মালিকদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবস্থাপনা পর্ষদ থেকে তার স্বার্থ উদ্ধার করে নেয়। আর কাউকে যদি তার নিজের জন্য হুমকি মনে করে, তাকে সে কোম্পানি থেকে সরিয়ে দিতে নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। আসলাম রেজার নোংরা রাজনীতি ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সময়ে চলে যেতে হয়েছে- ড. এমএ আজিজ, মাহফুজুল বারী চৌধুরী ও এম. সোলায়মান হোসেনের মতো অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের।

    সানলাইফের আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা সুনামউদ্দিন মূলত আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। অডিট বিভাগের জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেয়া সুনামউদ্দিন এখন অডিট ও ইন্সপেকশন বিভাগের প্রধান ও কোম্পানির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার। মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থানের কারণে এবং আসলাম রেজা গ্রুপের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে বিকল্প গ্রুপ তৈরিতে মালিকরাই সুনামউদ্দিনকে নেতৃত্বে এনেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। সুনামউদ্দিনও তার ফায়দা হাসিলে পিছ পা হননি। এতো কম সময়ে জুনিয়র অফিসার থেকে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে কোম্পানির সকল প্রিন্টিং সামগ্রী, আসবাবপত্র, এসি, গাড়ি, পুরস্কার ইত্যাদি সকল প্রকার ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রমে পার্টির কাছ থেকে সুনামউদ্দিন কমিশন গ্রহণ করেন। অন্যদিকে যে কোনো বিল অডিট বিভাগে উপস্থাপন করা হলে সেখান থেকেও কিছু অংশ সুনামউদ্দিনকে না দিলে বিল ক্লিয়ারেন্স হয় না। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, কোম্পানির গ্রাহকদের এসবি, মেয়াদপূর্তি বা অন্য কোনো দাবি পরিশোধের চেক গ্রহণের জন্য সুনামউদ্দিন গংকে উৎকোচ প্রদান করতে হয়। এ বিষয়ে সুনামউদ্দিন গ্রুপের হয়ে গ্রাহকদের সাথে সার্বিক আলোচনা ও লেনদেন কার্যক্রম দেখভাল করে ইসলামিক আ’সান বীমা প্রকল্পের ঢাকা বিভাগের উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। উল্লেখ্য, কোম্পানির প্রিমিয়াম আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্তকৃত সাইফুল ইসলামের নামে কোম্পানির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, আত্মসাৎকৃত প্রিমিয়ামের টাকা আদায় না হওয়া এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া সত্তে¡ও সুনামউদ্দিনকে মোটা অংকের উৎকোচ প্রদান করে সানলাইফে আবার যোগদান করেছে সাইফুল ইসলাম।

     

    এজিএম নাটকে সুনামউদ্দিনের কেরামতি:

    গত কয়েক বছর যাবৎ সুনামউদ্দিনের কেরামতিতে সানলাইফের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) প্রতিবেদনের ওপর কোনো আলোচনা ছাড়াই শেষ করা হয়। যাকে শেয়ারহোল্ডাররা ‘এজিএম নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। উল্লেখ্য, দেখভালের দায়িত্বশীলদের নাকের ডগায় এভাবেই প্রতিনিয়ত অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে সানলাইফ কর্তৃপক্ষ। অথচ যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীলরা এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছে। এই এজিএম বা অ্যারেঞ্জ মিটিংসহ এসব অপকর্মের নেতৃত্বে ছিলেন এসজিএম সুনামউদ্দিন। প্রতি বছর সানলাইফের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে সমাপ্ত করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সানলাইফের বার্ষিক সাধারণ সভার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন একাধিক শেয়ারহোল্ডার। তারা উল্লেখ করেন, অনুষ্ঠিত বার্ষিক প্রতিবেদনের ওপর কোনো আলোচনাতো হয়নি উপরন্তু ৪টি এজেন্ডা পাস করার জন্য প্রস্তাব ও সমর্থনের জন্য ৮ জন শেয়ারহোল্ডারের অনুমোদন নেয়া হয়নি। যা কোম্পানি আইনের পরিপন্থী। তাই এই এজিএমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লিখিত কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেয়ারহোল্ডাররা জানান, বিএসইসি’র কাছে প্রতিটি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার আনকাট ভিডিওচিত্র জমা দেয়া হয়। তারা এই ভিডিও বিশ্লেষণ করলেই অনুধাবন করতে পারবে এজিএম নামক নাটকের অনিয়মের চিত্রগুলো। জানা যায়, প্রতি বছর সানলাইফের বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডার নামধারী বেশকিছু জোকার আর ভাড়দের উপস্থিতিতে বিব্রত হয় প্রকৃত শেয়ারহোল্ডাররা। এজিএমে সিংহভাগ শেয়ারহোল্ডার পৌঁছানোর আগেই এসকল উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের সহযোগিতায় পাস হয়ে যায় বিভিন্ন এজেন্ডা। কোম্পানির সারা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয় কোম্পানির সচিব রবিউল আলম। আগে থেকেই কিছু শেয়ারহোল্ডার বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে হাত করে নেয় এবং এজিএম নাটকের মঞ্চস্থ করে। এর প্রেক্ষিতে সার্বিক আলোচনা ছাড়াই পাস হয়ে যায় গোটা বছরের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। ফলে কোম্পানির ভুলত্রæটি, অনিয়ম ও ব্যর্থতার দিকসমূহ অগোচরেই থেকে যায়। বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের অভিযোগ সানলাইফের এসজিএম সুনামউদ্দিন এজিএম পাস করানোর কথা বলে যে বিরাট অংকের অর্থ কোম্পানি থেকে গ্রহণ করেছে, তার একটি বড় অংশ তিনি নিজেই পকেটস্থ করে বাকিটা ‘এজিএম পার্টি’ নামক শেয়ারহোল্ডারদের হাতে গুঁজে দিয়েছে বলে জানা যায়। নাম গোপন রাখার শর্তে আসলাম রেজা গ্রুপের সদস্য এবং কোম্পানির সেন্ট্রাল হিসাব বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘‘গত বছর সানলাইফের এজিএমে ‘এজিএম পার্টি’কে ম্যানেজ করতে সুনামউদ্দিনকে ১৫ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এ বাবদ সে ৫ লাখ টাকা খরচ করেছে এবং বাকি ১০ লাখ টাকা নিজেই হাতিয়ে নিয়েছে। গত ৩ বছর যাবৎ একই ঘটনা ঘটছে।’’

    সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধযোগ্য দাবির তথ্যে গোঁজামিল:

     

    সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে গ্রাহকরা আসলে কত টাকা পায়, আর কত টাকা পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি তার সঠিক তথ্য কেউ দিতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সানলাইফের বীমাকর্মী ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ শত কোটি টাকা বকেয়া। কোনো কোনো অঞ্চলে একটি শাখা বা সার্ভিসিং সেলের ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের পাওনা রয়েছে কোম্পানির কাছে। মাসের পর মাস ধরনা দিয়েও গ্রাহকরা এ টাকা আদায় করতে পারছে না। এমনটাই দাবি দেশের বিভিন্ন এরিয়ার অফিস ইনচার্জ ও সংগঠন প্রধানদের। অন্যদিকে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, ৮২ শতাংশেরও বেশি বীমাদাবি পরিশোধ করা হয়েছে। তাদের দাবি মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সঠিক তথ্য দিচ্ছে না।

    রাজশাহী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া অঞ্চলের গণমুখী বীমা প্রকল্পের সংগঠন প্রধানদের সাথে আলাপকালে তারা অভিযোগ করেন, এ এলাকায় হাজার হাজার গ্রাহক মাসের পর মাস টাকা পাচ্ছে না। গ্রাহকরা দল বেঁধে কখনো অফিস ঘেরাও করছে, কখনো আইনের আশ্রয় নিচ্ছে।

    কখনো বা টাকা আদায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালীদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। অবস্থা এমন, পাওনাদার গ্রাহকদের সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে কর্মী-কর্মকর্তারা; নতুন ব্যবসা করবে কখন? রাজশাহী এরিয়ার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাই কিছু করার নেই। প্রতিদিন শত শত গ্রাহককে সামলাতে হয়। অফিসে আসি লুকিয়ে, অফিসের সামনে গ্রাহকরা বসে পড়ে।  টাকা না দিলে যাবে না। তখন পালানো ছাড়া উপায় থাকে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বললে তারা বলেন, নিজেরা সামলান। নতুন প্রিমিয়াম নেন, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেন। প্রধান কার্যালয়ে গ্রাহকদের তালিকা নিয়ে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও কাজ হয় না। এখন অন্য কোম্পানিতে চলে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    তবে এমন অবস্থার কোনো তথ্যই পাচ্ছে না বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। কোম্পানিটি গ্রাহকদের দাবি না মিটিয়ে তা বিভিন্নভাবে আড়াল করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে। অভিযোগ উঠছে কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের পাওনা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার এসব তথ্য আড়াল করে ফায়দা লুটছে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি শ্রেণী। অন্যদিকে নিজেদের আর্থিক খারাপ অবস্থা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র আড়াল করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যেই সন্তুষ্ট পরিচালনা পর্ষদ। ২০১৮ সালের জুন মাসে লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির একটি ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে আইডিআরএ। এ মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাঠানো হয় সরকারি-বেসরকারি সকল বীমা কোম্পানির কাছে। এ প্রতিবেদেন অনুসারে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ম প্রান্তিকে কোম্পানিটি মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি পরিশোধ করেছে ৯ কোটি ২৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। যা মোট দাবির ৮২.৪৪ শতাংশ। আর বকেয়া রয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ১৯ হাজার ৮৮০ টাকা। অথচ আলোচ্য সময়ে কোম্পানির গণমুখী বীমা প্রকল্পের (কোম্পানির একটি ক্ষুদ্র বীমা প্রকল্প) কুষ্টিয়ার একটি সার্ভিসিং সেলেই গ্রাহকদের টাকা বকেয়া রয়েছে ৭ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪৫ টাকা। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, কোম্পানিটি ৮২.৪৪ শতাংশ দাবি পরিশোধ করলে, এতো টাকা দাবি বকেয়া থাকে কীভাবে? এমন তথ্যে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে আসলে সানলাইফের পরিশোধযোগ্য দাবির পরিমাণ কত?

    শত শত গ্রাহকের লিগ্যাল নোটিশ:

    মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বীমাদাবির টাকা না পেয়ে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে মেহেরপুরের ৫ শতাধিক গ্রাহক। দাবির টাকা না পেলে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে এ নোটিশে। ৫ জন আইনজীবীর পাঠানো পৃথক ৫টি লিগ্যাল নোটিশে এ হুমকি দেয়া হয়। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকেও (আইডিআরএ) এসব লিগ্যাল নোটিশের কপি দেয়া হয়। এসব নোটিশের প্রেক্ষিতে দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি করতে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে চিঠি দেয় আইডিআরএ। এ ব্যাপারে একটি শুনানি ডেকে বীমা কোম্পানিটির বক্তব্যও গ্রহণ করে আইডিআরএ।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি চিঠির জবাবে বীমাগ্রাহকদের পলিসি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলেই দাবি পরিশোধ করা হবে বলে জানায় সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। অথচ কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রেরণ করেও দাবির টাকা পায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। এ ছাড়াও বীমা কোম্পানিটির স্থানীয় কর্মকর্তারা গ্রাহকদের নতুন করে পলিসি করার জন্য চাপ দিচ্ছে। নতুন পলিসি না হলে গ্রাহকরা টাকা পাবেন না বলেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ গ্রাহকদের। মেহেরপুর জেলার প্রায় ৩০০ গ্রাহকের দাবি আদায়ে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন মেহেরপুর নিমতলা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেহেরুন নেসা মনি।

    মোবাইল ফোনে তিনি জানান, শুধু ৩০০ গ্রাহকই নয়, আরো অনেক গ্রাহক রয়েছে আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সানলাইফের ইসলামিক আ’সান বীমা প্রকল্পের  গ্রাহক তারা। তবে লিগ্যাল নোটিশের পরও দাবি পরিশোধ না করলে মামলা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। মেহেরপুর নিমতলা জজকোর্টের আরেক আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, বীমা দাবি আদায়ে আমি প্রায় ১০০ গ্রাহকের পক্ষে সানলাইফকে লিগ্যাল নোটিশ পঠিয়েছি। আমি ছাড়া অন্তত ৬ জন আইনজীবী ৪ শতাধিক গ্রাহকের পক্ষে কোম্পানিটিকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে। তবে এখনো কারো দাবি পরিশোধ হয়নি বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

    এ বিষয়ে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম শরীফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ফান্ড সমস্যার কারণে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করতে পারছেন না। কিন্তু ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচে ৪০০ লোক নিয়ে তিনদিনের আনন্দ ভ্রমণ করেছেন কক্সবাজারে। এটা কি অস্বাভাবিক নয়? তিনি বলেন, ‘‘কোম্পানিতে একটা সংস্কার চলছে। যারা দীর্ঘদিন কাজ করার পরও ব্যবসা উন্নয়নে সফল হতে পারছে না তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, এটা মালিকদের সিদ্ধান্ত। এছাড়া যারা দীর্ঘদিন যাবৎ কোম্পানিতে মেধা ও শ্রম দিচ্ছেন এরকম কিছু তরুণ সংগঠককে একটা সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, তরুণরা ভালো করবে। আর ফান্ড সমস্যাতো আছে, আমরা চেষ্টা করছি ঘুরে দাঁড়াতে। তারই অংশ হিসেবে আমরা একটি প্রণোদনা প্রতিযোগিতা ঘোষণা করেছিলাম, যারা সফল হয়েছে তাদের নিয়ে কক্সবাজারে একটি সম্মেলন করেছি। কর্মী-কর্মকর্তাদের কাজের মাঝে একটু বিনোদন দেয়ার চেষ্টা বলতে পারেন এটি!’’ সাবেক এক কনসালটেন্ট এ বিষয়ে বলেন, যতোদিন পর্যন্ত সানলাইফ পরিবারতন্ত্র ও মানিকগঞ্জপ্রীতির বলয় থেকে বের হতে না পারবে, ততোদিন পর্যন্ত সানলাইফের উন্নতি সম্ভব নয়। এছাড়া গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া আসলাম রেজা ও সুনামউদ্দিন গংয়ের দুর্নীতি ও নোংরা গ্রুপিংয়ের ভয়াল থাবাতো রয়েছেই। মাঝখানে সর্বস্বান্ত হচ্ছে গ্রাহকরা আর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে আছে সানলাইফের শেয়াহোল্ডাররা (ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা)। চলবে…

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি