বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অপরিশোধিত লভ্যাংশ ব্যবহারের উদ্যোগ

বিবিএ নিউজ.নেট   |   বৃহস্পতিবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২১   |   প্রিন্ট   |   312 বার পঠিত

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অপরিশোধিত লভ্যাংশ ব্যবহারের উদ্যোগ

বছরের পর বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অপরিশোধিত বা অদাবীকৃত লভ্যাংশ পুঞ্জীভূত হয়ে ছিল। এতদিন পর্যন্ত পুঞ্জীভূত এ লভ্যাংশের বিষয়টি একপ্রকার দৃষ্টির আড়ালেই ছিল। সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ খুঁজে বের করে সেটি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়।

স্টক ও নগদ লভ্যাংশ মিলিয়ে এ পর্যন্ত পুঞ্জীভূত অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৪২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৫ হাজার ১০৩ টাকায়। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকাই রয়েছে শীর্ষ ১০ কোম্পানির কাছে।

বিএসইসির পক্ষ থেকে অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) দায়িত্ব দেয়া হয়। ডিএসই ২১৮টি কোম্পানির কাছে অপরিশোধিত লভ্যাংশের তথ্য চেয়েছিল, যার মধ্যে ২০৮টি কোম্পানি তথ্য দিলেও এখনো তথ্য দেয়নি ১০ কোম্পানি। আর সিএসইর পক্ষ থেকে ১৫৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের কাছে তথ্য চাওয়া হলে এর বিপরীতে ১২৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড তাদের অপরিশোধিত লভ্যাংশের তথ্য দিয়েছে। ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুসারে, কোম্পানিগুলোর অপরিশোধিত স্টক লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ১০৪ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৮৩ টাকা।

আর সিএসইর হিসাব অনুসারে কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অপরিশোধিত স্টক লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৮১ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৩ টাকা। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট অপরিশোধিত স্টক লভ্যাংশের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৮৬ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৪৬ টাকায়। অন্যদিকে ডিএসইকে দেয়া তথ্যানুসারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অপরিশোধিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ হচ্ছে ৬৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৮ টাকা। সিএসইকে দেয়া হিসাব অনুযায়ী কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ৩২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার নগদ লভ্যাংশ অপরিশোধিত রয়েছে। আর মোট অপরিশোধিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ হচ্ছে ৯৫৬ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫৭ টাকা।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮ হাজার ৮০৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অপরিশোধিত লভ্যাংশ রয়েছে তামাক খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) কাছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা স্টক লভ্যাংশ এবং ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির কাছে বিনিয়োগকারীদের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা স্টক লভ্যাংশ আর নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ হচ্ছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে বিনিয়োগকারীদের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ২৩ লাখ টাকায়। এর মধ্যে ২২২ কোটি ৯১ লাখ টাকা স্টক লভ্যাংশ এবং ৫৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ।

দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংকের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ হচ্ছে ২৫৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৪৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা স্টক লভ্যাংশ আর ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ।

উত্তরা ব্যাংকের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ হচ্ছে ২৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৯৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা স্টক আর ৪৯ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ।

ন্যাশনাল টিউবসের কাছে বিনিয়োগকারীদের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯০ কোটি ৯০ লাখ টাকায়। এর মধ্যে স্টক লভ্যাংশ ১৯০ কোটি ১৩ লাখ টাকা আর নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ হচ্ছে ৭৭ লাখ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত এটলাস বাংলাদেশের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ ১৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা স্টক আর ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ।

ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের কাছে বিনিয়োগকারীদের অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা স্টক আর ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ।

ব্যাংক এশিয়ার অপরিশোধিত লভ্যাংশের পরিমাণ হচ্ছে ৯৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্টক লভ্যাংশ ৯৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং নগদ লভ্যাংশ ৩ কোটি টাকা।

বিএসইসির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বিপুল অংকের এ অপরিশোধিত লভ্যাংশ পুঁজিবাজারে কাছে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে কোম্পানিগুলোর জন্য একটি নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে, যা শিগগিরই জারি করা হবে। নির্দেশনায় লভ্যাংশ ঘোষণা বা অনুমোদনের এক বছরের মধ্যে অপরিশোধিত লভ্যাংশ একটি আলাদা ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। স্টক লভ্যাংশ ৩০ দিনের মধ্যে বিও হিসাবে পাঠিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে অপরিশোধিত স্টক লভ্যাংশের জন্য একটি আলাদা সাসপেন্স বিও হিসাব রাখতে হবে কোম্পানিগুলোকে। তাছাড়া লভ্যাংশ ঘোষণা কিংবা অনুমোদনের তিন বছর অপরিশোধিত স্টক ও নগদ লভ্যাংশ ‘বিএসইসির পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল’ নামক একটি বিশেষ তহবিলে স্থানান্তর করা হবে। এ তহবিল থেকে শেয়ার ধারের মাধ্যমে বাজারে শেয়ার সরবরাহের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় ব্যবহার করা হবে। কীভাবে অপরিশোধিত লভ্যাংশ কাজে লাগানো হবে, এ-সংক্রান্ত একটি বিধিমালা প্রস্তুত করেছে কমিশন। শিগগিরই এ বিষয়ে জনমত যাচাই করা হবে।

জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শাসসুদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, এতদিন পর্যন্ত এ অপরিশোধিত লভ্যাংশ কোম্পানির অধীনে ছিল এবং সেটি বিনিয়োগকারীর কোনো কাজেও লাগছিল না। সেটি কমিশন তার হেফাজতে নিয়ে এসে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে কিন্তু স্টক বা নগদ লভ্যাংশ কোনোটাই বাজেয়াপ্ত করা হবে না। এ তহবিলটি সব সময় থাকবে। যখনই বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় প্রমাণসাপেক্ষে লভ্যাংশ দাবি করবেন সেটি তাদের পরিশোধ করে দেয়া হবে। আমরা শুধু একটি ট্রাস্টির মাধ্যমে অপরিশোধিত লভ্যাংশ মার্কেট মেকিংসহ বাজার স্থিতিশীলতায় কাজে লাগাব।

 

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৪:১৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২১

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।