• শিরোনাম

    বার্ষিক প্রতিবেদনে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশনের অন্তর্ভুক্তি

    প্রগতি লাইফের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনে মুনীরুজ্জামানসহ বিনিয়োগকারীদের আইডিআরএ অভিযোগ

    বিশেষ প্রতিবেদক | ২৭ আগস্ট ২০১৯ | ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

    প্রগতি লাইফের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনে মুনীরুজ্জামানসহ বিনিয়োগকারীদের আইডিআরএ অভিযোগ

    বেসরকারি লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট’ উল্লেখ না থাকাসহ নানারকম অসঙ্গতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে, মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান ও গোলাম ফারুক নামে দুজন বিনিয়োগকারী এই অভিযোগ দাখিল করেন।

    প্রগতি লাইফের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৮) নানারকম অসঙ্গতি উল্লেখ করাসহ শেয়ারবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীরা যেন ‘অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট’ বার্ষিক প্রতিবেদনে পেতে পারে এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জোরালো অনুরোধ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছেঃ চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন; চেয়ারম্যান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ; ড. সোহরাব উদ্দিন, অ্যাকচ্যুয়ারি এবং চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড বরাবরে।

    বিনিয়োগকারীরা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, প্রগতি লাইফের ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ‘অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন প্রতিবেদন’ উপস্থাপিত হয়নি। বিশেষত. অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশনের ওপর নির্ভর করে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশের প্রস্তাব করে থাকেন। অন্যান্য কোম্পানিতে যেমন- নিট লাভ ও শেয়ারপ্রতি আয় দেখানো হয় এবং এর ভিত্তিতে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয় সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা স্পষ্টতই বুঝতে পারেন তার কোম্পানির কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ডিভিডেন্ড দেয়া হয়েছে এবং কত টাকা উদ্বৃত্ত বা রিটেইন আর্নিং হিসাবে জমা আছে। কিন্তু জীবন বীমার ক্ষেত্রে হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে যে উদ্বৃত্ত দেখানো হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই লভ্যাংশ ঘোষিত হয়। সুতরাং শেয়ার মালিকরা যদি অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন প্রতিবেদনের উল্লিখিত উদ্বৃত্ত কত টাকা জানতে না পারে। তবে সে কীভাবে বুঝবে তাদের প্রদত্ত লভ্যাংশ যথাযথ কিনা। এক্ষেত্রে এই অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশনের কত টাকা উদ্বৃত্ত হয়েছে, তা জানা শেয়ার মালিকদের আইনগত অধিকার।

    এছাড়া ২০১৮ সালের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্লেইম মোট প্রিমিয়াম আয়ের ৬৫% এবং ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স ৩৫.৯০% অর্থাৎ দুটি মিলিয়ে ১০০.৯০%। অর্থাৎ এই দুই খাতের ব্যয় প্রিমিয়াম আয়ের চেয়ে ১% বেশি। ক্লেইম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ২০০৬ সালে ছিলঃ মোট প্রিমিয়াম আয়ের মাত্র ১৩.৩১%, ২০১০ সালে ১৬.৬০%, ২০১৩ সালে ৪৫.৬০%, ২০১৮ সালে ৬৫% অর্থাৎ এই হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এর ফলে লাইফ ফান্ডের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে গিয়েছে এবং ইনভেস্টমেন্ট ইনকাম গত ৫ বছর প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন প্রতিবেদন শেয়ার মালিক বা বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিবে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার।

    অভিযোগপত্রে তারা আরো উল্লেখ করেন, বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন অডিটরস্ রিপোর্টে (পৃষ্ঠা: ৭৫) ৪টি অর্থবছরে ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে যা আদালতে বিচারাধীন। শেয়ারমার্কেটে বিনিয়োগে ২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে (পৃষ্ঠা: ১০৬; নোট:-১০)। এছাড়া পৃষ্ঠা: ১০৪; নোট: ৮-এর সানরি ডেটরস্ হেডে ট্রেড সাসপেন্স ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা থেকে ৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

    প্রগতি লাইফ কিছু কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার কিনে কোম্পানি বিপুল লোকসান গুনছে। যেমন নিটল ইন্স্যুরেন্সে ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লোকসান যথাক্রমে- ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরন্স ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, মাইডাস ফাইন্যান্স ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, বিআইএফসিতে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা রয়েছে। এ লোকসান কোনোভাবেই পূরণযোগ্য নয়। এ শেয়ারগুলো কার পরামর্শে কেনা হয়েছে তার তদন্ত প্রয়োজন। এ বছর আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়াম ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা থেকে ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ বকেয়া ব্যবসার প্রবণতা বাড়ছে, যা আইডিআরএ’র নির্দেশনার পরিপন্থী।

    এ প্রেক্ষাপটে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানার জন্য প্রগতি লাইফের অ্যাকচ্যুয়ারি ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট’ বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশে কোনো আইনগত বাধা নেই। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো কৌশল অবলম্বন করে থাকে মাত্র।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর কেআইবিসি অডিটোরিয়ামে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সকাল সাড়ে ১০টায় ও সকাল ১১টায় ২য় এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিং (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে অতি উৎসাহী কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার নামধারীদের গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগ ওঠে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। যেখানে কোম্পানির অন্যতম পরিচালক আবদুল আউয়াল মিন্টুকেও নীরব ভ‚মিকা পালন করতে দেখা গেছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি