শুক্রবার ২৪ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদন হিমাগারে সিআইডির তদন্তে কচ্ছপ গতি

আদম মালেক   |   বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০   |   প্রিন্ট   |   259 বার পঠিত

ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদন হিমাগারে সিআইডির তদন্তে কচ্ছপ গতি

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হিমাগারে রেখে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির তদন্ত চলছে কচ্ছপ গতিতে। ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদন দাখিলের সাড়ে চার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ না দেখা যেমন রহস্যজনক, তেমনি প্রতিবেদন দাখিলে সিআইডির গড়িমসিতে সে রহস্য আরো ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

তাদের কথা, রিজার্ভ চুরির দায়ে ফিলিপাইনের ব্যাংক কর্মকর্তা মায়া দেগুইতির কারাদণ্ড দিয়েছে সে দেশের আদালত, কিন্তু আজো ধরাছোঁয়ার বাইরে চুরির জন্য দায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। গ্রেফতার তো দূরের কথা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। বহাল তবিয়তেই আছে এসব কর্মকর্তা। পদোন্নতি হয়েছে কারো কারো। তাই চুরি হওয়া টাকা আদৌ উদ্ধার হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তারা।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমদ বলেন, এতো বড় রিজার্ভ চুরি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। একজন ডেপুটি গভর্নর চুরির টাকা উদ্ধারে কয়েকবার বিদেশেও গিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আরো কিছু টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকা উদ্ধার হবে না। এখন ভুলে যাওয়ার পালা। আসলে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সূত্র মতে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উভয় সংকটে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শঙ্কা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বিদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তাছাড়া এসব ব্যক্তির পরিচয় ফাঁস হলে চুরির সঙ্গে জড়িত বিদেশিরা পার পেয়ে যেতে পারে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ী ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেশের মানুষ আজো জানতে পারেনি, তাদের কষ্টার্জিত অর্থ চুরি যাওয়ার নেপথ্যের মানুষগুলো কারা। বাংলাদেশের কেউ রিজার্ভ চুরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল কি না, কিংবা কারো দায়িত্বহীনতা বা অবহেলায় চুরি হয়েছে কি না তাও জানা যায়নি।

সূত্র মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ চুরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অরক্ষিত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন দায়িত্বহীন। আর চ‚ড়ান্ত সর্বনাশ ঘটানো হয় সুইফট সার্ভারের সঙ্গে স্থানীয় নেটওয়ার্ক জুড়ে দিয়ে। এর ছয় মাসের মধ্যেই গোপন সংকেত বা পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে চুরি হয় ৮ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬২৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১০ কোটি টাকা)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি হয় প্রায় সাড়ে চার বছর আগে, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি রাতে। বাংলাদেশ ব্যাংক একদিন পর চুরির তথ্য জানতে পারলেও তা গোপন রাখে আরো ২৪ দিন। আর বিষয়টি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় ৩৩তম দিনে।

ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মচারী সম্বন্ধে বক্তব্য আছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিদের চিঠি পাঠায়। এ চিঠি ছাড়াও অর্থমন্ত্রী রিজার্ভ চুরি এবং তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে একই বছরের ১২ বা ১৪ জুন একটি বিবৃতিও দিতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাও করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর পাঁচ বছর পার হতে চলেছে। চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরির ঘটনায় মামলা দায়েরের পরদিন তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তবে এখনো ওই ঘটনার কোনো কুলকিনারা হলো না। এখন পর্যন্ত তদন্তই শেষ হয়নি। কারণ হিসেবে তদন্ত সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য যেসব দেশের অপরাধীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছে তথ্য চেয়েও আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছেন না তারা। এ পর্যন্ত মাত্র ফিলিপাইন ছাড়া আর কোনো দেশই তথ্য সরবরাহ করেনি। যে কারণে তদন্তের সমাপ্তি টানতে পারছে না সিআইডি।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৫:১০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11231 বার পঠিত)

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।