শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

Ad
x

বকুলতলায় ছায়ানট আয়োজনে শরৎ বন্দনা

বিবিএনিউজ.নেট   |   শনিবার, ০৫ অক্টোবর ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   878 বার পঠিত

বকুলতলায় ছায়ানট আয়োজনে শরৎ বন্দনা

তখনো হালকা কুয়াশার মায়াবী চাদর বকুলতলায়। এমন মায়াবী শারদপ্রাতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ছন্দে শরৎ বন্দনা করলেন ছায়ানটের শিল্পীরা। শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ছায়ানট আয়োজন করে শরতের অনুষ্ঠানের। এ সময় ‘ওগো শেফালি বনের মনের কামনা’ গানটির সম্মিলিত পরিবেশনায় শুরু হয় শরৎ বন্দনা। প্রকৃতিতে শরৎ এসেছে অনেক আগেই।

 

শুক্রবার সকালে ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে বাঙালি সনাতনধর্মীরাও মেতেছেন শারদোৎসবে। আর শরতের এই শেষভাগে আশ্বিনের সকালে রাজধানীতে সুর-গীতি-নৃত্যে শরৎকে আবারও নতুন করে উদ্‌যাপন করল ছায়ানট। আয়োজনে সম্মেলক পরিবেশনার পরে শিল্পী অভয়া দত্ত শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার রাত পোহাল’। এর পরের পরিবেশনায় রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী শ্রাবণী মজুমদার শোনান ‘অমল ধবল পালে লেগেছে…’। সুতপা সাহা শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘ওগো কে যায় বাঁশরি’, মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য পরিবেশন করেন ‘আমি চঞ্চল হে’, তানিয়া মান্নান শোনান ‘এসো শরতের অমল মহিমা’। এরপর শ্রেয়া ঘোষের কণ্ঠে ‘সকরুণ বেণু বাজায়ে কে যায়’, আইরিন পারভীন অন্না ‘এই তো আমার প্রেম’, শুক্লা পাল সেতু শোনান ‘যে ছায়ারে ধরব বলে’, অসীম দত্ত পরিবেশন করেন ‘তোমার সোনার থালায়’, নাঈমা ইসলাম নাজ গেয়ে শোনান ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’, প্রার্থ প্রতিম রায় ‘আমি চিনি গো চিনি’ এবং সেঁজুতি বড়ুয়া নিবেদন করেন ‘কেন যে মন ভোলে’।

সম্মেলক নৃত্য পর্বেও সব ছিল রবীন্দ্রসংগীত। ছায়ানটের খুদে ও বড় শিল্পীদের দল ‘আলোর অমল কমল খানি’, ‘শরতে আজ কোন অতিথি’, ‘আমার নয়ন ভুলানো এলে’, ‘শরত তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’, ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। ‘তোমার যা বল তাই বল’ গানটির সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা তাথৈ।

আয়োজন নিয়ে কথা হয় ছায়ানট সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো ছয় ঋতুর দেশ তো কোথাও পাওয়া যাবে না। আমরা যে প্রকৃতির সন্তান, তা এ ঋতুচক্রের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারি। এ আয়োজনের মধ্যদিয়ে ঋতু চক্রের মতোই আমরা মিলেমিশে আছি। একইসঙ্গে এ উৎসবের মধ্যে দিয়ে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের চর্চা করি। গানের মধ্য দিয়ে আমরা ঋতুর মতো সবার সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরি করি। সেই জায়গা থেকেই প্রীতি ও ভালোবাসার টানে সবার একত্রিত হওয়া। সেই বিষয়টিই সত্য বনে গেল ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস শোভার কথায়। তার বন্ধুরা এসেছিলেন শরতের সাচে, খোঁপায় ছিল হরেক রকমের ফুল।

শোভা বলেন, এই ঢাকা শহরে কখন কোন ঋতু আসে-যায়, তা তো সহজে বোঝা যায় না, এই আয়োজনগুলোর মধ্যদিয়েই যা একটু বুঝতে পারি। আর বাঙালি সংস্কৃতিও আয়োজনগুলোর মধ্যদিয়ে নতুন করে উপভোগ করতে পারি। তবে সবচেয়ে ভালো লাগে বন্ধুরা মিলে একত্রিত হওয়াটা। বকুলতলায় পরিবার এবং বন্ধুদের নিয়ে আয়োজনে যোগ দিতে দেখা গেছে অনেককেই। এ সময় মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে সবাই উপভোগ করেছেন শরতের রাঙা সকালটা। অনুষ্ঠানস্থলে এসেছিলেন ছায়ানট সভাপতি সন্‌জীদা খাতুনও।

Facebook Comments Box

Posted ২:০৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৫ অক্টোবর ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Page 1

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।