• বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ জানুয়ারি ২০২২ | ৭:৫১ অপরাহ্ণ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব
    apps

    ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের এ চার কর্মকর্তাকে ২৪ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

    দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সই করা চিঠিতে যাদের বক্তব্য জানতে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস কবির ও এবিএম মোবারক হোসেন, উপপরিচালক হামিদুল আলম ও সহকারী পরিচালক কাদের আলী

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    বুধবার (১৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। ওইদিন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বাধীন টিমের সদস্যরা।

    জানা যায়, দুদক উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃতে গঠিত দুদক টিমের সদস্যরা এ পর্যন্ত টিম পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে বিভিন্ন তারিখে পৃথক ১৫টি মামলা করেছে। মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ভুয়া ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে ওই প্রতষ্ঠানের ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দায়ের এবং ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’র ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ৫ মামলা করেছে দুদক।
    ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথমে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর ২০২১ সালে নভেম্বরে ৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি পি কে হালদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিনের তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


    তবে ২০২১ সালের নভেম্বরে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিকে হালদারসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১এ পৃথক পাঁচটি মামলা করা হয়। পরে আরও ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য উপাত্ত উদঘাটন করেছেন দুদক কর্মকর্তারা। ‘কাগুজে’ প্রতিষ্ঠান জি অ্যান্ড জি এন্টারপ্রাইজের নামে ৩০ কোটি করে, তামিম অ্যান্ড তালহা ব্রার্দাস লিমিটেডের নামে ৩০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে আরো দু’টি মামলা দায়ের করেন।
    আরো জানা যায়, গ্রিনলাইন ডেভেলমেন্ট লিমিটেডের নামে ৬০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে ওই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। এমটিবি মেরিন লিমিটেডের নামে ৬০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ও পি অ্যান্ড এল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান বাদী হয়ে পৃথক আরো দুটি মামলা করেন।

    ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতায় এখন পর্যন্ত ৮৩ ব্যক্তির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে ফ্রিজ করেছে দুদক। পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে এখন পর্যন্ত ৫২ আসামি ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি দুদকের অনুরোধে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করে। পিকে হালদারর কেলেঙ্কারিতে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে দুদক। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল কুমার নন্দী, পি কে হালদারের সহযোগী শংখ বেপারী, রাশেদুল হক, অবান্তিকা বড়াল ও নাহিদা রুনাইসহ ৮জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    তবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ার আগেই ২০১৯ সালে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করেনে পি কে হালদার। তবে দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞার চিঠি পৌঁছানোর দুই ঘণ্টা ৯ মিনিট আগেই ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করেন পি কে হালদার। ইমিগ্রেশন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে এমন তথ্য দিয়েছে।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৭:৫১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রডের দাম বাড়ছে

    ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি