নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 237 বার পঠিত
বীমা আইন ২০১০ এর সংশোধনী নিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) ওয়ার্কিং কমিটির সঙ্গে সভা করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
১৪ ডিসেম্বর (রোববার) আইডিআরএ’র সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য বিআইএ’র প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আদিবা রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য হোসেন আখতার, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিন হেলালী, তায়েফ বিন ইউসুফ, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান রিজওয়ান উর রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সভায় বীমা আইন ২০১০ এর সংশোধিত খসড়ায় বিআইএ’র টেকনিক্যাল কমিটির পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ওয়ার্কিং কমিটির একজন সদস্য জানান, অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পর আইডিআরএ এ সভা ডেকেছে।
বিআইএ’র টেকনিক্যাল কমিটি যেসব বিষয় বিবেচনার জন্য মতামত দিয়েছে সেসব বিষয়ের যৌক্তিক নিষ্পত্তি হতে হবে। সংশোধিত আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে আশা করছি এ ধরনের বৈঠক আরো হবে।
বীমা আইন ২০১০ সংশোধনীর খসড়া প্রকাশের পরপরই খাতের বিভিন্ন পক্ষ থেকে কিছু ধারা-উপধারা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। অংশীজনরা মনে করেন, খসড়ার কয়েকটি প্রস্তাব বীমা খাতের বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকের মতে, বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে বীমা খাতের উন্নয়ন ও সংস্কার সম্ভব। বীমা কোম্পানিতে নিরীক্ষা, তদন্ত, প্রশাসক নিয়োগ, আইন লঙ্ঘন ও অর্থ আত্মসাতে দোষী ব্যক্তিদের অপসারণ এবং আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের বিধান বীমা আইন-২০১০- এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই বীমা খাত সংস্কারের জন্য প্রয়োজন বীমা আইন-২০১০ এর সঠিক প্রয়োগ।
বীমা আইন-২০১০-এ ১৬০টি ধারা আছে এবং প্রতিটি ধারায় একাধিক উপধারা আছে। আইডিআরএ কর্তৃক আনিত সংশোধনী প্রস্তাবে মূল ১৬০টি ধারার মধ্যে ৯৯টি মূল ধারা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর উপধারাগুলো পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাকি ৬১টি ধারার উপধারাসহ তাদের পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজনের সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল ১৬০টি ধারার মধ্যে- কয়েকটি বিলুপ্ত বা বাতিলের প্রস্তাব করেছে। অধিকন্তু ৬৪ নতুন ধারা, উপ-ধারাসহ সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ শুধু যে বীমা শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল করার জন্য তৈরি করা হয়েছে তা নয়। এই শিল্পের বিকাশে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনে বীমা উন্নয়নে কোন ধরনের প্রস্তাব করা হয় নাই।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে, বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালকদের নিয়োগ অনুমোদন ও তাদের সর্বোচ্চ সময়কাল ৬ বছর প্রস্তাব করেছে। উদ্যোক্তা ৭ জন, শেয়ারহোল্ডার ৭ জন ও নিরপেক্ষ পরিচালক ৭ জনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোম্পানির ৫% শেয়ারহোল্ডারকে ‘উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার’ ঘোষণা করেছে। পরিবারের সংজ্ঞায় জামাতা এবং পুত্রবধূ সংযোজন করেছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম অর্থ বীমাকারীর চেয়ারম্যান, পরিচালক, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও কোম্পানি সেক্রেটারিকে বোঝানো হয়েছে এবং তাদের নিয়োগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।
যেসকল আইনের ধারা ইতিমধ্যেই বিধি বা প্রবিধিতে আছে সেগুলোকে মূল আইনে সংযোজনের প্রস্তাব করেছে। উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে- প্রস্তাব করেছে।
সংশোধনী প্রস্তাবনায় টপ ম্যানেজমেন্টের কথা বলা হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে- সিএফও পর্যন্ত নিয়োগ অনুমোদন করবে আইডিআরএ। কিন্তু তাদের যোগ্যতা বা অন্যান্য শর্তাবলী কি হবে তা স্পষ্ট নয়।
Posted ৮:১৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy