বুধবার ২২ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি ও অর্থআত্মসাতের অভিযোগ

বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০২ জানুয়ারি ২০২২   |   প্রিন্ট   |   178 বার পঠিত

বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট ক্রয়ে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক (কারিগরি ) ড . জ্ঞান রঞ্জন শীলসহ ঊর্ধ্বতন সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২ জানুয়ারি) দুপুরে কমিশনের এক সভায় আসামীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের অনমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে যে কোন সময় দুদকের সহকারী পরিচালক সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে ওই সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দুদকের কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করবেন।

এদিকে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক। তিনি জানান, অভিযুক্ত ওই সাত জনের মধ্যে রয়েছে, বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক (কারিগরি ) ড . জ্ঞান রঞ্জন শীল, মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন শওকত সরদার, মহাব্যবস্থাপক নরুল হুদা, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পঙ্কজ কুমার পাল, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) সাবেক মহাব্যবস্থাপক (মেকানিক্যাল) ইঞ্জিনিয়ার মো. রহমত উল্লা, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) মেকানিক্যাল বিভাগের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জনি করপোরেশনের মালিক ওমর আলী। তবে অভিযোগ অনুসন্ধানকালে বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক (কারিগরি) ড. জ্ঞান রঞ্জন শীল ও জিএম শওকত সরদারসহ ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরো জানান, মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৫ সালের জুনে আরিচা ও মাওয়া ঘাটে ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১০ কিলোমিটার দেখা যায় এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট স্থাপন করার কথা জানায় বিআইডব্লিউটিসি। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে কাগজপত্রে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট স্থাপনের কথা বলা হলেও, ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইটের পরিবর্তে স্থাপন করা হয় শুধুমাত্র সার্চ লাইট। এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারের পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের তথ্য প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আরো বেরিয়ে এসেছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পিএসআই কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে সার্চ অ্যান্ড ফগ লাইটের পরিবর্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্চ লাইটসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কিনে সরকারের পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। ২০১৫ সালের ৪ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত মাওয়া ও আরিচার ১০টি ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট স্থাপন করা হয়েছে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিসি। ফেরিগুলো হলো-আরিচায় চলাচলকারী ফেরি খাঁন জাহান আলী, ফেরি জাহাঙ্গীর, ফেরি এনায়েতপুরী, ফেরি কপোতী, ফেরি কুমারী। মাওয়ার ফেরিগুলো হলো-বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, আমানতশাহ, শাহ আলী, কাকলী ও ক্যামেলিয়া। কিন্তু ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বলছে, ফেরিগুলোতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইটের অস্তিত্ব নেই।

২০১৪ সালে বিআইডব্লিউটিসির টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ৭ হাজার ওয়াটের একটি আধুনিক রিমোট কন্ট্রোল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট, যা ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত দেখা যাবে-এমন ছয়টি লাইট পরীক্ষামূলকভাবে কেনার সিদ্ধান্ত হয়। যার প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছিল ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা। কিন্ত সাধারণ সার্চ লাইটের মূল্য প্রায় এক থেকে দুই লাখ টাকা মাত্র।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেও একই সত্যতা মেলে। সার্চ অ্যান্ড ফগ লাইটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য তৎকালীন সহ-ব্যবস্থাপক (মেরিন) হারুনুর রশিদ, ব্যবস্থাপক ( মেরিন) মো. আব্দুস সাত্তার ও মো. আব্দুস সোবহানের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির ভাষ্য, সংযোজিত ফগ ও সার্চ লাইটিগুলো হালকা কুয়াশার মধ্যে কাজ করছে। তবে ঘন কুয়াশায় কাজ করছে না। ঘন কুয়াশায় সার্চ লাইট প্রজ্জ্বলিত করলে কুয়াশার জলকণাগুলো অধিকতর ঝাপসা হয়ে যায়। ফলে ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল সম্ভব হয় না।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৬:৪৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ জানুয়ারি ২০২২

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11229 বার পঠিত)

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।