নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 182 বার পঠিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনী ইশতেহারে বীমা খাত কখনোই খুব দৃশ্যমান কোনো জায়গা দখল করে রাখেনি। ব্যাংক খাত, মূল্যস্ফীতি, শিক্ষাব্যবস্থা বা দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতিগুলোই সাধারণত ইশতেহারের মূল ফোকাস হয়। কিন্তু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঘোষিত ইশতেহারগুলোতে প্রথমবারের মতো একাধিক রাজনৈতিক দল বীমাকে জনসুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার একটি বড় নীতি-অস্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
এই পরিবর্তন আকস্মিক নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা, স্বাস্থ্য খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি, কৃষির উচ্চ ঝুঁকি, শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু-আহতের অস্বাভাবিক হার। তাই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে বীমাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এনেছে।
কেন প্রথম সারিতে উঠল বীমা খাত
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে যখন গৃহস্থালি ব্যয়, স্বাস্থ্যব্যয়, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা, সড়ক দুর্ঘটনা বা কৃষিজ ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে, তখন বীমা একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। এ কারণে দলগুলো ঝুঁকি ভাগাভাগির এই ধারণাকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে স্থান দিতে বাধ্য হয়েছে।
বিএনপি বীমা খাতে দুটি স্পষ্ট লক্ষ্য দেখিয়েছে—১) কৃষি বীমার সম্প্রসারণ, ২) মোটর বীমাকে ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করা।
কৃষি বীমার প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। নিয়মিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বীমা ভর্তুকি রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় একটি প্রতিশ্রুতি।
একইসঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার উচ্চ হার বিএনপিকে মোটর বীমাকে জনসুরক্ষার প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে স্বাস্থ্য বীমা, শিক্ষার্থী বীমা এবং কর্ম বীমা—এই তিনটি কাঠামো তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয়ের হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। চিকিৎসা খরচে পরিবার দারিদ্র্যসীমায় নেমে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। জামায়াতের জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা প্রস্তাব তাই অর্থনৈতিকভাবে বহুল আলোচিত একটি প্রস্তাব।
শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ফান্ড ও বীমা চালুর প্রতিশ্রুতি তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করেই দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এনসিপির ইশতেহারে বাধ্যতামূলক কর্ম–সুরক্ষা বীমা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।
বাংলাদেশে শ্রমিক সুরক্ষায় বীমা এখনো খুবই সীমিত। পোশাকশ্রমিকসহ অধিকাংশ কর্মজীবী জনগোষ্ঠী কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা বা আঘাতের আর্থিক ঝুঁকি বহন করে থাকে নিজেরাই। তাই এনসিপির ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও কর্মবীমার প্রতিশ্রুতি সরাসরি শ্রমজীবী ভোটারদের লক্ষ্য করে।
এছাড়া ন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড প্রস্তাব ডিজিটাল সেবা যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নীতি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বীমা খাত শুধু প্রসারিতই হবে না, নাগরিকদের ঝুঁকি বহনক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো সম্পূর্ণ নতুন স্তরে উন্নীত হতে পারে।
Posted ৯:১১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy


