মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১ পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

Ad
x
বিআইএ’র সাধারণ সভায় বক্তারা

বীমার উন্নয়ন ও সংকট সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান 

বিশেষ প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   500 বার পঠিত

বীমার উন্নয়ন ও সংকট সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান 

কোম্পানিগুলোতে কর্পোরেট সুশাসনের অভাব, যুগোপযোগী বীমা পণ্য না থাকা, যথা সময়ে দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা ও বীমার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট দেশের বীমা খাতের অগ্রগতির অন্তরায় বলে মনে করেন বীমা কোম্পানিগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সংগঠনটির ৩৭ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তারা এ অভিমত প্রকাশ করেন। রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিআইএ’র ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন, সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী নিয়ে আলোচনার পর অনুমোদন দেয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের হিসাব নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নিরীক্ষক নিয়োগ অনুমোদিত হয়। বিআইএ প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেলের সভাপতিত্বে সভায় প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান, পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বীমা শিল্পের উন্নয়নে সংগঠনের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট । তিনি বলেন, আমরা বিচ্ছিন্ন থাকলে অন্যরা সুযোগ পাবে। এ সময় বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আত্মসংশোধনের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট বলেন, বীমা শিল্পকে এগিয়ে নিতে আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নে পলিসি গ্রহণ করতে হবে। কোম্পানিগুলোতে কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। যুগোপযোগী বীমা পণ্য চালুর পাশাপাশি যথা সময়ে দাবি পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে বীমার ইমেজ সংকট কাটবে না। তিনি বলেন, বীমা ব্যবসা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য সেবা। যথাযথভাবে সেবা দিলে ব্যবসা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লাভজনক হবে। এসময় বীমা শিল্প বা বীমার বাজার নিয়ে গবেষণার জন্য বিআইএ’র তহবিল ব্যবহারের প্রস্তাব করেন পাভেল।

সাধারণ বীমা কর্পোরেশন যথা সময়ে পুনঃবীমা দাবির অর্থ পরিশোধ না করায় নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর দায় ও ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়ছে। বীমা দাবি বছরের পর বছর ধরে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। সভায় বিআইএ সদস্যদের তুলে ধরা এসব অভিযোগের বিষয়ে আলোচনার জন্য সাধারণ বীমার সঙ্গে শিগগিরই সভা হচ্ছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট।

সভায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চালু করা ইউএমপি (ইউনিফায়েড ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম) বাতিলের দাবি জানান বিআইএ’র একাধিক নেতা। এছাড়া নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কমিশন বন্ধ করে গেজেট প্রকাশেরও দাবি তোলেন তারা।

এ সময় বিগত সরকারের আমলে বীমা কোম্পানিগুলোর অর্থ লুটপাট ও আত্মসাতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধি।
সভায় দেশের বীমা খাতে অ্যাকচুয়ারি (ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তার আর্থিক খরচ বিশ্লেষণকারী) সংকটের সমাধানে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিআইএ সদস্যরা।

সদস্যদের ইউএমপি বাতিলের দাবিতে সমর্থন জানিয়ে বিআইএ’ প্রেসিডেন্ট বলেন, মূলত বিশ্বের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা আইডিআরএ’কে তথ্য দিতে পারি। কিন্তু অর্থ নেয়ার আইন তার কাছে নেই। আমরা সকলেই জানি ইউএমপি’র বিষয়টি কী ছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসত। আইডিআরএ ভুল পথে ছিল। সভায় অধ্যাদেশ জারি করে থার্ড পার্টি মোটর ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান বিআইএ প্রেসিডেন্ট। বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়নে নানা ধরনের জরিমানা পরিশোধের শর্তারোপের সংস্কৃতিরও বিরোধিতা করেন তিনি। তিনি বলেন, আইনানুযায়ী শুধু নবায়ন ফি দিলেই লাইসেন্স নবায়ন হতে হবে। অ্যাকচুয়ারি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসে অনেক বাংলাদেশি অ্যাকচ্যুয়ারি রয়েছেন। আমরা তাদের সেবা নিতে পারি। এ জন্য স্বশরীরে তাকে দেশে থাকতে হবে বা আসতে হবে এটি কাম্য নয়।

সভায় খুব শিগগিরই সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা উচিত। কারণ এতদিন আমরা দেখেছি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বলে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। গত দেড় দশকে বীমা শিল্পে লুটপাট হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মার্কেট রিসার্স না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকগুলো কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কর্পোরেট গাইডলাইন না মেনে একেকটি কোম্পানি পারিবারিক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। বীমায় আস্থা ও কোম্পানিগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সঙ্গে বিআইএ’র এক হয়ে কাজ করা উচিত বলে অভিমত প্রকাশ করেন তিনি। ফারইস্ট লাইফের চেয়ারম্যান বলেন, বীমা শিল্পকে বাঁচাতে বিআইএ’কে উদ্যোগ নিতে হবে। আইএডিআরএ’কে দুর্নীতিমুক্ত করতে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিগত সরকারের আমলে বীমা কোম্পানিগুলোর অর্থ লুটপাট ও আত্মসাতে জাড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ফারইস্ট লাইফের পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, মানুষ এখন ইন্স্যুরেন্সকে বিশ্বাস করে না। বিভিন্ন জায়গায় অফিস ভাঙচুর হয়। বীমার ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে লুটেরাদের দৃষ্টামূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান আমিন হেলালী বলেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো এখনো সনাতন পদ্ধতিতে চলছে। আমাদের বিশাল মানবসম্পদকে, তরুণদেরকে বীমামুখী করতে হবে; বীমার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে যাতে গ্রাহকের অর্থ কেউ নিয়ে আসতে না পারে সেজন্য মাঠে নৈতিক মানুষ থাকতে হবে কোম্পানিগুলোতে কীভাবে আরো যোগ্য, দক্ষ তথা আধুনিক জ্ঞান ও যোগ্যতাসম্পন্ন মুখ্য নির্বাহী নিয়ে আসা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার আনতে হবে।

সভায় মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বীমা কোম্পানির অর্থ মূলত গ্রাহকের। এটি যাতে আমরা নিজেদের সম্পদ মনে না করি। যথেচ্ছা ব্যবহার না করি। গ্রাহকদের ঠকানো যাবে না।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার বলেন, দেশের অ্যাকচ্যুয়ারি সংকট দূর করতে আমরা সবাই মিলে একটি ইনস্টিটিউট গড়তে পারি কি না সেটি ভেবে দেখবেন।


বীমা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই মন্তব্য করে বিআইএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির এ চৌধুরী বলেন, থিউরি এবং প্র্যাকটিক্যাল সবভাবেই শিখতে হবে। তাহলেই বীমা ব্যবসায় সাফল্য আসবে। থিউরি না জানলে প্র্যাকটিক্যাললি কাজ করতে পারবেন না।


ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ও আইসিসি-বাংলাদেশ’র প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান বলেন, নন লাইফ বীমা ব্যবসায় কমিশন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে কমিশন বাতিলের ব্যাপারে সম্মত হয়েছি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে ডাবল ট্যাক্স। আমরা পলিসি ইস্যুর সময় ভ্যাট দিচ্ছি আবার পুনঃবীমার প্রিমিয়াম দেয়ার সময় ভ্যাট দিতে হচ্ছে; এটি বাতিল হওয়া দরকার।

এছাড়াও সভায় এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র ভাইস-চেয়ারম্যান এম. মাহফুজুর রহমান, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এস এম নুরুজ্জামান, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র নূর মোহাম্মদ ভূঁইয়া, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র মামুন খান, সিটি ইন্স্যুরেন্স’র মো. শামীম হোসেন এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স’র ড. এ কে এম সরোয়ার জাহান জামিল বক্তব্য রাখেন।

Facebook Comments Box

Posted ৮:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Page 1

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।