সোমবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২ বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বীমা খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে আইডিআরএ’র সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   136 বার পঠিত

বীমা খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে আইডিআরএ’র সেমিনার

দেশের বীমা খাতে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত এবং বাংলাদশে ইন্স্যুরেন্স সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’র (বিআইএসডিপি) সহযোগিতায় সোমবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন অবহিতকরণ বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) মো. দলিল উদ্দিন। এছাড়া বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রতিনিধিগণ; বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সকল সদস্য, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যের মধ্যে বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী।
দুই পর্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারের উদ্বোধন করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) যুগ্মসচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

 

কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে- বি এম ইউসুফ আলী

 

সেমিনারে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও পুপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী বলেন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হলেও ব্যাংকিং সেক্টরে তেমন প্রভাব পরে না। বীমা খাতে ১০০ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করা না হলে এখানে এক লাখ গ্রাহক জরিত থাকার কারণে সবাই বলে বীমা খাতে দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে না। তখন এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য বীমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু বোর্ড ভেঙে দিলেই সমাধান হবে না, সমাধান হয়নি। টাকা লুটপাট হওয়ার পর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন বোর্ড বসিয়ে কোন সমাধান করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, দেশের যে কয়টি বড় কোম্পানি ধ্বংস হয়েছে সেগুলোর জন্য কারা দায়ি, সিইও’দের ভূমিকা কি ছিল? দেখা যায়, সিংহভাগ দায়-দায়িত্ব বোর্ডের। এখানে ম্যানেজমেন্টের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তারা শুধু পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনা মেনেছে। বীমা কোম্পানিগুলোর অর্থ চুরির জন্য একজন সিইও’র বিরুদ্ধেও কোন মামলা হয়নি। কারণ, তারা জানে আসলে তারা টাকা নেয়নি; টাকা যারা নেয়ার তারাই নিয়েছে।
তিনি বলেন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনে যে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে সেগুলো যদি যথাযথভাবে পরিপালন করেন কোন কোম্পানির সিইও’র নেতৃত্বে একটি টাকারও দুর্নীতি হবে না। তিনি আইডিআরএ’র উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যাতে কোম্পানিতে টিকে থাকতে পারি সে ব্যবস্থাও করবেন। দেখা যায়, অনেক কোম্পানিতে সিইও কথা বললে চাকরি থাকে না। সেখানেও আমাদের সুরক্ষা দিতে হবে। তাহলে আমরাও যে পারি সেটা আপনাদের দেখিয়ে দিতে পারবো। যদি আমাদের আইনগত সুরক্ষা দেন। অনৈতিকতার সাথে যদি কোন সিইও জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে যেকোন ব্যবস্থা আমরা মেনে নিবো। আমাদের কোন আপত্তি নেই।

সেমিনারে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রূপালী ইন্স্যুরেন্সের উপদেষ্টা পি কে রায়, এফসিএ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ২০১৮ সালে কর্পোরেট গভন্যান্স কোড প্রবর্তন করেন। দীর্ঘদিন পরে হলেও আইডিআরএ উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন প্রণয়ন করেছেন। বিএসইসি কর্তৃপক্ষ যে কর্পোরেট গভন্যান্স কোড তার সাথে সামঞ্জ্য রেখেই বীমা খাতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। দু’একটি জায়গায় একটু সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের ক্ষেত্রে পরিচালক ২০ জন সেটা দু’জায়গায় একই থাকলেও স্বতন্ত্র পরিচালকের ক্ষেত্রে বিএসইসি যেখানে ১/৫ করা হয়েছে ক্ষেত্রে আইডিআরএ ২ জন স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়েছে, এখানে একটু সমস্যা রয়েছে। কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন্সে স্বতন্ত্র পরিচালকের শেয়ার সংখ্যা শূন্য হতে হবে বলা হয়েছে কিন্তু বিএসইসি’র যে কোড রয়েছে সেখানে ১ শতাংশের নিচে শেয়ার ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। এখানেও একটু সমস্যা হতে পারে। বীমা খাতে যে ৮১টি কোম্পানি রয়েছে তার প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কোম্পানি লিস্টেড। এই লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচালকের কোডে যে শেয়ার রয়েছে সেটা নিয়ে সমস্যা হবে। বিএসইসি’র যে কর্পোরেট গর্ভন্যান্স কোড রয়েছে সেটা প্রতিবছর নিরীক্ষিত হয়। কিন্তু আমাদের আইনে বা গাইডলাইনে এই নিরীক্ষার বিষয়টি রয়েছে কিনা আমি জানি না। তবে আমি অনুরোধ করবো একইভাবে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনেও যেন নিরীক্ষার বিষয়টি বাধ্যতামূলক থাকে। আমি একটি কথাই বলবো, আমরা অনেক নীতি তৈরি করি। রুলস এন্ড রেগুলেশন তৈরি করি। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়না। যে উদ্দেশ্যে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন প্রণয়ন করা হচ্ছে তার স্বার্থকতা যেন নিশ্চিত হয়। যেভাবেই হোক কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন বাস্তবায়ন করা হলে কোম্পানিগুলো শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসবে। তা না হলে যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমি বলবো এই গাইডলাইনটি যেভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার জন্য অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শতভাগ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

 

কর্পোরেট গর্ভন্যান্স পরিপালন করা হলে বীমা খাতের বিকাশ ঘটবে- মো. দলিল উদ্দিন

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) মো. দলিল উদ্দিন সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, জীবন ও সম্পত্তির ঝুঁকি মোকাবেলায় বীমা সেবার পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরী। বীমা আইন ২০১০, জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বীমা কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রদত্ত আইন ও বিধি পরিপালন ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্পোরেট গর্ভন্যান্স গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কর্পোরেট গর্ভন্যান্স গাইডলাইন পরিপালন করা হলে বীমা খাতের বিকাশ ঘটবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, পেশা এবং সার্ভিসের কোড অব কন্ডাক্টস থাকে। এই গাইডলাইনে সেসব বিষয়ের উল্লেখ থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বশীল আচরণ, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কাঠামো, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডার, স্টেকহোল্ডার ও বীমা গ্রাহকদের অধিকার সংরক্ষণ করবে। কর্পোরেট গর্ভন্যান্স গাইডলাইনে বীমা খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমপ্লায়েন্সের দিকে নজর দিবো। প্রত্যেক কোম্পানি যাতে শৃঙ্খলামতো চলতে পারে পাশাপাশি বীমা খাতের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা করবো।

 

ঝুঁকিমুক্ত থাকার জন্যই করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন জারি করা হয়েছে- মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ


সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, আইডিআরএ যে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন চালু করেছে তার সাথে আমি একমত না। তিনি বলেন, ছাত্র জীবনে আমি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম। তখনকার একটি গানের কথা আমরা মনে পরে। ‘মানবো না বন্ধনে থাকবো না শৃঙ্খলে’। আমরা শিক্ষাই গ্রহণ করেছি এমন যেখানে বন্ধন মানা আমাদের জন্য কষ্টকর।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৮১টি কোম্পানি আছে, আরো বীমা কোম্পানি আসবে। এখানে ডিমান্ড (চাহিদা) আছে তাই সাপ্লাই (সরবরাহ) প্রয়োজন। তবে প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়বে। একইসাথে বাড়বে ঝুঁকি। প্রয়োজন হবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও। আর এ জন্য প্রয়োজন বীমার।
তিনি বীমা কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, যারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে তাদের আগে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে হবে। এই ঝুঁকিমুক্ত থাকার জন্যই কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। দু’একটি কোম্পানির কারণেও এই অবস্থান নষ্ট হতে পারে। বীমা খাতের অবস্থান ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের পাশর্^বতী দেশ ভারতে বীমা কোম্পানি লাইফ ও নন-লাইফ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬০টির মতো হবে। অথচ আমাদের দেশে সেই তুলনায় বীমা কোম্পানি অনেক বেশি। আমাদের এতো কিছু থাকতে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। বীমা কোম্পানি সংখ্যায় বেশি হলেও প্রেনিট্রেশন আমাদের অনেক কম। যেহেতু উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশের প্রেনিট্রেশন কম সেহেতু আমাদের একটি প্রত্যাশার জায়গা রয়েছে। আমাদের যেহেতু জনসংখ্যাও বেশি সেহেতু প্রেনিট্রেশন বাড়ার একটি সুযোগ রয়েছে। একারণেই আমি আশাবাদী।

 

বীমা খাতের উন্নয়নে কর্পোরেট গর্ভন্যান্স গাইডলাইন চালু করা হয়েছে-মোহাম্মদ জয়নুল বারী


সেমিনারের সভাপতির বক্তব্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, বীমা খাতের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করার জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পুরনো বীমা আইন বাতিল করে নতুন বীমা আইন-২০১০ প্রণয়ন করা হয়। এই বীমা আইন ২০১০ বাস্তবায়ন করার জন্য বীমা সেক্টরের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ প্রণয়ন করা হয়। বীমা খাতের আধুনিকায়ন ২০১০ সাল থেকেই শুরু হয়েছে। সেই বীমা আইনের অধীনে আমরা বিভিন্ন বিধিমালা জারি করেছি। প্রবিধান জারি করা হয়েছে কিছু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান বলেন, বীমা খাতের উন্নয়ন আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। বীমা আইন ২০১০ এ অনেক কিছুই বিস্তারিত নেই। সেগুলোর জন্য বিধি-প্রবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই গাইডলাইন করার আগে সবার মতামত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বীমা খাতের উন্নয়নে কর্পোরেট গর্ভন্যান্স গাইডলাইন চালু করা হয়েছে। এই কর্পোরেট গর্ভন্যান্স বিষয়টি তা আপনারা সকলেই জানেন। কোম্পানি কিভাবে পরিচালিত হবে, কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে সেই নিয়ম হলো কর্পোরেট গর্ভন্যান্স। মূলতঃ পরিচালনা পদ্ধতিই হলো কর্পোরেট গর্ভন্যান্স। সঠিকভাবে চললেও কর্পোরেট গর্ভন্যান্স আছে সঠিকভাবে না চললেও কর্পোরেট গর্ভন্যান্স রয়েছে। আমাদের বীমা খাতে যতো সমস্যা রয়েছে সেটা মূলত কর্পোরেট গর্ভন্যান্স অথাৎ সুশাসনের অভাবেই। অনেকে বলতে পারে আস্থা সংকট রয়েছে। সেটাও কর্পোরেট গর্ভন্যান্সের অভাবেই। আমাদের আস্থা সংকট কি? আমরা সময়মতো গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ করতে পারছি না। কেন পারছি না সেখানেও সুশাসনের অভাব। বীমা গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নিয়ে টাকা জমিয়েছেন এখন টাকা দিতে পারছেন তার মানে এটা সঠিকভাবে করা হয়নি। যারা এখনো বীমা দাবি পরিশোধ করতে পারছে না, যাদের কারণে বীমা খাতে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে এদের মধ্যে কর্পোরেট গর্ভন্যান্স বলতে কিছুই ছিলো না। কর্পোরেট গর্ভন্যান্স সময়ের দাবি। আমরা যে কাজ করছি সেটার জবাবদিহি করার জন্য কর্পোরেট গর্ভন্যান্স চালু করা দরকার। আমরা সেটাই করেছি।
তিনি বলেন, বীমা আইনে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নিরপেক্ষ পরিচালকের সংখ্যা রয়েছে ১০ শতাংশ। আমরা চাইলেই সার্কুলার দিয়ে নিরপেক্ষ পরিচালক ২০ শতাংশ করতে পারি না। আইনের বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।
বীমা খাতে সুশাসনের অভাব আছে; আস্থার সংকট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বীমা আইনে সুশাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে আইডিআরএ’র একার পক্ষে বীমা খাতকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন উপস্থাপন করেন আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (নন-লাইফ) যগ্মসচিব মোহাম্মদ খালেদ হোসেন। উপস্থাপিত গাইডলাইনের বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির পরিচালক এস এম ইব্রাহিম হোসাইন এসিআইআই, অ্যাকচ্যুয়ারি ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (লাইফ) যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান।
সবশেষে উপস্থাপিত কর্পোরেট গাইডলাইনের বিষয়ে প্রশ্ন উত্তর পর্ব ও উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত আলোচনা শেষে সেমিনারের সভাপতি এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্পোরেট গভর্নেস গাইড লাইন এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্পোরেট গভর্নেস দুই রেগুলেটরির গাইড লাইন পরিপালনে যাতে কোন চাপ তৈরী না হয় সেদিক বিবেচনা করেই বীমা কোম্পানির জন্য আলাদা গাইড লাইন উপস্থাপন করা হয়েছে। যাতে একটি দৃঢ় আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৯:১৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।