• ভারতে আক্রান্তের ৮০ শতাংশের মধ্যে নেই লক্ষণ

    | ২১ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ

    ভারতে আক্রান্তের ৮০ শতাংশের মধ্যে নেই লক্ষণ
    apps

    করোনা মোকাবেলায় অসহায় ও চিন্তিত হয়ে পড়েছে ভারত। আক্রান্ত রোগীদের ৮০ শতাংশের মধ্যে রোগের কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। ফলে চিন্তিত ভারতের বিজ্ঞানীরাও। দেশটির শীর্ষ চিকিৎসা গবেষণা সংগঠন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) বিজ্ঞানী রামন আর গঙ্গাখেড়কর এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন।

    এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ৮০ শতাংশ আক্রান্তের শরীরেই হাঁচি, কাশি, সর্দি-জ্বর, গলাব্যথার মতো কোনো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। এই প্রবণতাকে ইংরেজিতে বলা হয় এসিম্পটোমেটিক’ বা উপসর্গহীন, যেখানে রোগের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় না।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    তিনি বলেন, এই রোগীদের শনাক্ত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এদের খুঁজে বের করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। ভারতের মতো জনবহুল দেশে এই অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগের।

    দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, রাজধানী-রাজ্যে সম্প্রতি ৭৩৬ জনের লালা পরীক্ষা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৮৬ জনের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস ধরা পড়ে। এঁদের কারও মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। কেউ টেরও পাননি। বিজ্ঞানী রামন গঙ্গাখেড়কর বলেন, ওই সংক্রামিত ব্যক্তিরা যাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন তাঁদের জনে জনে পরীক্ষা করা ছাড়া গতি নেই।


    এই দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ সত্ত্বেও বিজ্ঞানী গঙ্গাখেড়কর আশাবাদী। এনডিটিভিকে তিনি বলেছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হবে। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে অবস্থা ধীরে ধীরে বদলাবে। ওই সময়ের মধ্যে কোনো একটা উপায়ের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে তাঁর ধারণা।

    সোমবার থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে প্রধানত গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চারের জন্য নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়। কাকতালীয়ভাবে যেদিন থেকে ওই শিথিলতা, সেদিনই দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হন দেড় হাজারেরও বেশি। কিন্তু এরই মধ্যে সরকারিভাবে দাবি জানানো হয়, লকডাউনের সুফলও মিলতে শুরু করেছে। দেশে আক্রান্তের সংখ্যা এখন দ্বিগুণ হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ দিনে।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তা লাভ আগরওয়াল সোমবার বলেন, গত এক সপ্তাহের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আগে যেখানে ৩ দশমিক ৪ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছিল, তা দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫ দিনে।

    দেশের যে সব অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে এবং সে সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা কোনো রাজ্য নিতে পারবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার স্পষ্টভাবে এ কথা রাজ্য সরকারদের জানিয়ে দিয়েছে। এই নির্দেশিকার কারণ কেরালা সরকার। করোনার মোকাবিলায় সফল এই রাজ্য নিজেদের উদ্যোগে জনজীবন স্বাভাবিক করতে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। যেমন রেস্তোরাঁ, বইয়ের দোকান, সেলুন প্রভৃতি খোলা যাবে। কোনো কোনো এলাকায় জোড়-বেজোড় গাড়ি চলাচলের অনুমতিও দেওয়ার কথা ভাবা হয়।

    কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, এমন কিছু করা যাবে না। কোনো রাজ্য কড়াকড়ি বেশি করতে পারে। কিন্তু কেউই বেশি শিথিলতা দেখাতে পারবে না। তাতে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। তেলেঙ্গানা সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ওই রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত চলবে। সর্বভারতীয় মেয়াদ এখনো পর্যন্ত ৩ মে।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১২:০৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি