নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৪ মে ২০২০ | প্রিন্ট | 433 বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এবার একটু ভিন্নভাবে পালন হচ্ছে। কেন এভাবে পালিত হচ্ছে তা আপনারা সবাই জানেন। করোনাভাইরাস আমাদের মাঝে মহাবিপর্যয় হিসেবে এসেছে।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আপনারা আমার শহীদ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করবেন। এছাড়া আমি দেশবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
সোমবার রংপুর বিভাগের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে রংপুর বিভাগ একসময় মঙ্গাপীড়িত এলাকা ছিল, সেই রংপুর বিভাগ এখন সবুজে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকটা জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। সে ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, করোনা চলা অবস্থায় দেশের অর্থনীতির চাকা যেন সুরক্ষিত থাকে মানুষকে একেবারে ঘরে বন্দি না করে সীমিত অবস্থায় জরুরি কিছু কিছু কাজ চলতে হবে। যাতে মানুষের কষ্ট না হয়। ঈদের আগে যদিও আমরা বড় জমায়েত করি এ জমায়েত করা যাবে না। সবাই যার যার মতো দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম এবং এর সুফলও দেশবাসী পাচ্ছিল কিন্তু ভয়াবহ করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি থমকে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার সকালে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স পরিচালনা করা হয়।
সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনাভাইরাস মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে এবং সারাবিশ্বে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এরমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আছেন। মরহুম সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতি থমকে দাঁড়িয়েছে। আমি জানি এটার প্রভাব পড়বে আগামীতেও। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই পরিস্থিতিকে মহামারি ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম জাতি এর সুফল পেতে শুরু করেছিল হঠাৎ করে আঘাত আসলো। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বে যেহেতু এটা এসেছে স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা ধনী তাদের অগাধ সম্পদ, অনেকের অত্যধিক অস্ত্রশস্ত্র। সেই শক্তি সবই যেন দেখা গেছে ব্যর্থ। একটা অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাস। সর্বশক্তিমান আল্লাহ কী খেলা দেখাচ্ছেন যার ফলে ধন-সম্পদ অর্থ কোনো কাজে লাগছে না। ধনী-দরিদ্র সবাই যেন একাকার হয়ে গেছে। এই অবস্থা মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আমাদের দেশবাসীকে সুরক্ষিত করা, মানুষের সুরক্ষিত নিশ্চিত করা এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ জন্য আমরা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি। ধীরে ধীরে শিল্প-কারখানা খুলে দিচ্ছি। সেখানে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে মেনে চলবেন।
মুখে মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাস্ক সবসময় ব্যবহার করা একান্তভাবেই জরুরি।
তিনি বলেন, রমজান মাসে যেন লোকজন চলতে পারে সে জন্য দোকানপাট খোলা রোজার সময়, ইফতারের দোকান যাতে চলতে পারে সেদিকে দৃষ্টি রেখে চালু রাখার জন্য বলেছি। জেলাভিত্তিক ক্ষুদ্রশিল্প রয়েছে সেগুলো চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। মানুষকে সুরক্ষিত রেখে আমাদের অর্থনীতি যাতে গতিশীল থাকে সেভাবে পরিচালিত হতে পারে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
Posted ১২:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ মে ২০২০
bankbimaarthonity.com | saed khan


