• মূলধন বাড়ছে দুই বীমা সংস্থার

    বিবিএনিউজ.নেট | ২১ এপ্রিল ২০১৯ | ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

    মূলধন বাড়ছে দুই বীমা সংস্থার
    apps

    রাষ্ট্রীয় দুই বীমা সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) ও জীবন বীমা করপোরেশনের (জেবিসি) সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সংস্থা দুটির পরিশোধিত ও অনুমোদিত মূলধন বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসংখ্যাও বাড়ছে। এ জন্য ৪৬ বছর পর নতুন করে প্রণয়ন করা হচ্ছে বিমা করপোরেশন আইন।

    জাতীয় সংসদে গত ৬ মার্চ ‘বিমা করপোরেশন আইন, ২০১৯’-এর বিল উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার আগে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা আইনটির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গত মঙ্গলবার এ নিয়ে আলোচনা করে। নতুন বিমা করপোরেশন আইন সংসদে পাস হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে বিদ্যমান ‘বিমা করপোরেশন আইন, ১৯৭৩ ’।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    বীমা কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘মূলধন বৃদ্ধিসহ দুই করপোরেশনের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এর ইতিবাচক প্রভাব পুরো বীমা খাতেই পড়বে। তবে আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আইন ঠিকভাবে বাস্তবায়নও করতে হবে। বাস্তবায়নের দিক থেকে আইডিআরএর দায়িত্বই মূল।’

    পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নতুন আইনে বলা হয়েছে, এসবিসির অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা আর পরিশোধিত মূলধন হবে ১২৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে জেবিসির অনুমোদিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০ কোটি টাকা। সরকার যেকোনো সময় অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন পরিবর্তন করতে পারবে।


    বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসবিসি ও জেবিসির মূলধন আরও বেশি হওয়া উচিত। তাদের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন হওয়া উচিত ৫০০ কোটি টাকা করে। উভয় সংস্থারই অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ২০ কোটি টাকা করে।

    এসবিসি ও জেবিসির পর্ষদ বর্তমানে সাত সদস্যের। নতুন আইনে তা ১০ সদস্যের করা হচ্ছে। পর্ষদের মধ্যে থাকবেন সরকার মনোনীত একজন চেয়ারম্যান ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের চারজন। এই চারজনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুজন, অর্থ বিভাগের একজন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে পর্ষদে থাকবেন। এর বাইরে থাকবেন বিমা ব্যবসা পরিচালনায় অভিজ্ঞ দুজন বিমাবিদ ও একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ। এ ছাড়া পদাধিকারবলে পর্ষদের সদস্য থাকবেন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স একাডেমির পরিচালক এবং নিজ নিজ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

    পরিচালকেরা তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন এবং পুনর্নিয়োগের যোগ্য হবেন এক মেয়াদের জন্য। পর্ষদ সভায় কোরাম হতে গেলে পাঁচ সদস্যের উপস্থিতি লাগবে, বর্তমানে লাগে তিন সদস্যের উপস্থিতি।

    বর্তমানে পুনর্বিমাসংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘনকারীর জন্য জরিমানার বিধান আছে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। নতুন আইনে তা ৫ লাখ টাকা করা হচ্ছে।

    মোট ৩৩টি ধারাসংবলিত নতুন আইনের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী করপোরেশন দুটির যে মূলধন, তা বর্তমান প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাই মূলধনের ভিত্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সাধারণ বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান বলেন, নতুন আইন পাস হলে সংস্থা দুটির পক্ষে আরও বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

    আইডিআরএর চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘আইন বাস্তবায়নে আমরা দায়িত্ব পালন করব। তবে আমরাও মনে করি, দুই করপোরেশনের পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা হওয়া উচিত’।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রডের দাম বাড়ছে

    ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি