নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 104 বার পঠিত

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামীকাল বেলা ১১টায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা তুলে ধরবেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর দুই দফায় মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়। এই নীতির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, অর্থ সরবরাহ, বৈদেশিক লেনদেন এবং আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিঘোষণা আসছে।
তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের মুদ্রানীতিকে অনেকটাই নিয়মতান্ত্রিক ঘোষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কাঙ্খিত মাত্রায় না নামা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। নীতি সুদহার এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আগের কাঠামোর মধ্যেই রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে ব্যবসায়িক মহলে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমে গেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহারে কোনো পরিবর্তন না আনার অবস্থানেই রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতেও বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে না। এবারের নীতির প্রধান লক্ষ্যও থাকবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।
নতুন মুদ্রানীতিতে মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের কৌশল স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। যদিও নীতি সুদহার মুদ্রা ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার, তবে তা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর পরপর তিন দফায় সুদহার বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে একসময় দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছানো মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে। সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছানোর পর তা কমলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাজেটে ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নির্বাচন-পরবর্তী বাড়তি অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এসব লক্ষ্য অর্জন বাস্তবসম্মত।
Posted ৮:০৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy


