• শিরোনাম

    বছরের ব্যবধানে ৩১৫ শতাংশ দর বৃদ্ধি

    সোনালি আঁশে কারসাজির গুঞ্জন

    বিবিএনিউজ.নেট | ১৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ

    সোনালি আঁশে কারসাজির গুঞ্জন

    বছরের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোনালি আঁশের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১৫ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কাছে একাধিকবার দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিবারই জানানো হয়েছে, তাদের কাছে কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বৃদ্ধির নেপথ্যে কারসাজির ঘটনা ঘটছে- বাজারে এমন গুঞ্জন রয়েছে।

    সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস দিলে তারা একই রকম তথ্য (কোনো কারণ নেই) জানায়। কিন্তু তারপর গতকাল প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক সময় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। ৪২৭ টাকা থেকে দর বেড়ে স্থির হয় ৪৫৮ টাকা ৬০ পয়সায়। এদিন শেয়ারদর ৪২৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৪৫৮ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হতে দেখা যায়।

    বাজারচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কিছুদিন নিম্নমুখী থাকার পর মঙ্গলবার আবারও সোনালি আঁশের শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। এদিকে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির নেপথ্যে কারসাজি চক্রের হাত রয়েছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এ কোম্পানির শেয়ার রয়েছে কতিপয় নামধারী বিনিয়োগকারীর কাছে। তারাই বছরজুড়ে ইচ্ছামতো কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর হ্রাস-বৃদ্ধি করে। মূলত এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারসংখ্যা কম হওয়ায় তারা এ সুযোগ নেয়। এ কোম্পানিতে মোট শেয়ার রয়েছে ২৭ লাখ ১২ হাজার। কর্তৃপক্ষ চাইলে সহজেই এই কারসাজিকারীদের শনাক্ত করতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

    এদিকে গত এক বছরের শেয়ারদর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার সর্বনিম্ন ২৬৩ টাকায় লেনদেন হতে দেখা যায়। তবে দাম বাড়তে বাড়তে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সর্বোচ্চ ৮৩০ টাকায় লেনদেন হয়।

    প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর শেয়ারদর বৃদ্ধির কোনো ইতিবাচক খবর নেই। নেই ভালো লভ্যাংশ দেওয়ার রেকর্ডও। কোম্পানিটি গত পাঁচ বছর ধরে ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ পয়সা। আগের বছর একই সময় যার পরিমাণ ছিল ৬২ পয়সা। প্রতিষ্ঠানটির মুনাফাতেও নেই কোনো চমক।

    ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৪৬ লাখ টাকা। এর আগের বছর মুনাফা করে ৪৪ লাখ টাকা।

    প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটি ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর মোট ২৭ লাখ ১২ হাজার শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৫০ দশমিক ৮০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে পাঁচ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ৪৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বশেষ ২০১০ সালে বোনাস শেয়ার দেওয়া হয়।

    এদিকে পূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অডিট আপত্তিও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত সোনালি আঁশ কর্তৃপক্ষ মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখিয়ে আসছে। পুনর্মূল্যায়ন বাড়ায় স্থায়ী সম্পদের ওপর অবচয় চার্জ না করে কোম্পানি এ মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখিয়ে আসছে। ফলে এটাকে নিরীক্ষকরা কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন (আপত্তিকর) মন্তব্য করেন।

    বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) অনুযায়ী, স্থায়ী সম্পদের ওপর অবচয় চার্জ করতে হয়। ফলে মুনাফা ও সম্পদ কমে আসে। কিন্তু সোনালি আঁশে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে পুনর্মূল্যায়নে স্থায়ী সম্পদ বাড়লে তার ওপর অবচয় চার্জ করা হচ্ছে না। যে কারণে ওই সময় থেকেই মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখানো হচ্ছে।

    এদিকে কোম্পানির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাট খাতের অন্য এক কোম্পানির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এ খাতে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, সেগুলোর একটিরও আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। এ বিবেচনায় সব শেয়ারই অতিমূল্যায়িত।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    নভেম্বর ২০১৯
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    « অক্টোবর    
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি