রবিবার ২১ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ডলার বিক্রয় ৮৫ টাকা, ক্রয় ৮৩

বিবিএনিউজ.নেট   |   সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   965 বার পঠিত

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ডলার বিক্রয় ৮৫ টাকা, ক্রয় ৮৩

ইন্দোনেশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি এমআর করিম রেজা সম্প্রতি তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন: ‘বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মার্কিন ডলার কিনছে ৮৩ টাকায় অথচ বিক্রি করছে ৮৫ টাকায়! কেনাবেচায় এ পার্থক্য সম্পর্কে গত ১০ মার্চ ওই স্ট্যাটাসে ‘লাইক’ দেওয়ার পাশাপাশি ৩৩টি মন্তব্য রয়েছে। যাদের কেউ কেউ ওই স্ট্যাটাসকে সমর্থন করে নানা ধরনের মন্তব্যও করেছেন।
ওই স্ট্যাটাসের সত্যতা যাচাইয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের মুদ্রাবিনিময় হার-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে দেখা যায়, গত ১০ মার্চ ব্যাংকটিতে নগদ ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৩ দশমিক ২৫ টাকা এবং বিক্রিমূল্য ছিল ৮৫ টাকা। অর্থাৎ ক্রয়মূল্য ও বিক্রিমূল্যে পার্থক্য এক টাকা ৭৫ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ব্যাংকগুলোর ঘোষিত মুদ্রা বিনিময় হারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, গত ২৮ মার্চ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের নগদ ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৩ দশমিক ৩০ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ছিল ৮৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ডলারের দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পক্ষপাতী নয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে ডলারসহ সব ধরনের মুদ্রার প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে ব্যাংকগুলো। এখানে কোনো ব্যাংক যদি বাজারের তুলনায় দর অনেক কম-বেশি করে, তাহলে ওই ব্যাংক গ্রাহক হারাবে। গ্রাহক যে ব্যাংকে বেশি সুবিধা দেখবেন, সে ব্যাংকেই যাবেন। যে কোনো ব্যাংকের যে কোনো অথরাইজড ডিলার শাখাতেই বিদেশি মুদ্রার লেনদেন করা যায়।
জানা গেছে, ‘বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৪৭’ অনুযায়ী দেশের ব্যাংকগুলোয় বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন পরিচালিত হয়। এ আইন পরিপালনে একটি নীতিমালাও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নীতিমালায় ডলারসহ কোনো মুদ্রারই বিনিময় হার বা কেনাবেচার হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তবে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠন ‘বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) নেতাদের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি পর্যায়ের তরল ডলার এবং বিদেশ ভ্রমণসহ অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহৃত বিনিময়ের মাধ্যম ‘নগদ ডলার’-এর ক্রয় ও বিক্রিমূল্যের মধ্যে সর্বোচ্চ এক টাকা ব্যবধান রাখার মৌখিক একটি নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হারের সঙ্গে ব্যাংকের ডলারের দরের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই টাকা পার্থক্য করারও একটি মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে। তবে সে নির্দেশনাও অনেক ব্যাংক মানছে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে। বিগত সময়ে নির্দেশনা অমান্য করায় কোনো কোনো ব্যাংককে ‘কারণ দর্শাও’ নোটিশ প্রদান করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এমআর করিম রেজার প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, এই স্ট্যাটাসদাতা একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তিনি ২০১৪ সাল থেকে জাকার্তায় রয়েছেন। স্ট্যাটাসের বিষয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ওই প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, ‘এরপর ওই স্ট্যাটাসের বিষয়বস্তু নিয়ে আর কোনো মতামত তিনি পাননি।’

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সঙ্গেও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওই প্রবাসীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকটির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার চৌধুরী বিটপী দাস বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলেন। গত ১ ও ২ এপ্রিল এ বিষয়ে দু’দফা ই-মেইল পাঠানোর পর ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো জবাব না দেওয়ায় চৌধুরী বিটপী দাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা কোনো জবাব এখনও দেয়নি।’ রোববার জবাবের জন্য ব্যাংকটির ওই কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
তবে এমআর করিম রেজার স্ট্যাটাসটির মন্তব্যের ঘরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে কড়া সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে। কেউ কেউ ব্যাংকটির পক্ষ থেকে গ্রাহকের সঙ্গে চরম অসহযোগিতার অভিযোগও তুলেছেন।
বাফেদা’র সভাপতি সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘ডলার বা বিদেশি মুদ্রার দর ওঠানামা করে। ওঠানামাটা নির্ভর করে চাহিদা ও জোগানের ওপর। কোনো ব্যাংক যাতে অযৌক্তিকভাবে ডলারের দর না নেয়, সে বিষয়ে বাফেদা’র পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।’
এমআর করিম রেজার ওই স্ট্যাটাসে মন্তব্যদাতাদের মধ্যে আখতার আহমেদ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ‘লাভ’ শব্দটি লেখেন। করিম রেজা জবাবে লিখেছেন, ‘তাই বলে এত লাভ? ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিময় মূল্য অনেক ওঠানামা করে; কিন্তু কেনাবেচার পার্থক্য সর্বোচ্চ ৩০-৫০ বাংলাদেশি পয়সা।’

ড. শহিদুল ফেরদৌস নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘দেখেন, এটাতো মুক্তবাজার অর্থনীতি… ওদের দর পছন্দ না হলে অন্য জায়গা থেকে কিনবেন।’ ওই মন্তবের
জবাবে করিম রেজা লেখেন, ‘ব্যাংক ডলার সংকটে ভুগছে বলে সংবাদমাধ্যমে জেনেছি। অথচ আমার মতো প্রবাসীরা তুলনামূলক বেশি দামের কারণে মানিচেঞ্জারের কাছে ডলার বিক্রি করছে।’

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11188 বার পঠিত)

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।