সোমবার ২৪ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বোর্ড সভা

হোমল্যান্ড লাইফ রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে ১০ পরিচালকের আবেদন

বিশেষ প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   322 বার পঠিত

হোমল্যান্ড লাইফ রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে ১০ পরিচালকের আবেদন

পরিচালনা পর্ষদ ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যেই হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স
রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে আবেদন করেছেন কোম্পানিটির ১০ পরিচালক। বৃহস্পতিবার পরিচালকদের পক্ষে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন পরিচালনা পর্ষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রাজ্জাক আইডিআরএ’ চেয়ারম্যান বরাবর এই আবেদন জমা দেন।

আবেদনকারীরা হলেন নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রাজ্জাক , ভাইস চেয়ারম্যান
মোঃ জামাল মিয়া, উদ্যোক্তা পরিচালক মোঃ কামাল মিয়া, উদ্যোক্তা পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন, উদ্যোক্তা পরিচালক আবদুর রব, উদ্যোক্তা পরিচালক মোঃ আব্দুল আহাদ, উদ্যোক্তা পরিচালক মোঃ আবদুল হাই, উদ্যোক্তা পরিচালক শামীম আহমেদ, স্বতন্ত্র পরিচালক ইসতিয়াক হোসেন চৌধুরী ও শওকতুর রহমান।

‘হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বা নির্দেশনা দানের আবেদন’ শিরোনামে দেয়া ওই চিঠিতে উদ্যোক্তা পরিচালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাককে নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান করার বিষয়টি অবহিত করা হয় আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে।
একইসঙ্গে আব্দুর রাজ্জাককে পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোম্পানির চেয়াম্যানের দায়িত্বভার অর্পণ, ৭ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেফতারের নেপথ্যে কী ছিলো, কোম্পানিটির গ্রাহকের অর্থ লুটপাটে কারা জড়িত সেসব বিষয় উঠে এসেছে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া ওই চিঠিতে। চিঠিতে কোম্পানিটিতে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ গ্রাহকের আমানত ও স্বার্থ সুরক্ষায় যাতে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে সে বিষয়ে আইডিআরএ’র প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান নতুন পরিচালনা পর্ষদ। একইসঙ্গে মোঃ জুলহাস, সালেহ হোসেন, বর্তমান সিইও , কোম্পানি সেক্রেটারি ও সিএফও যাতে কোম্পানি থেকে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন হোমল্যান্ড লাইফের ওই ১০ পরিচালক।
হোমল্যান্ড লাইফের নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক কোম্পানি গঠনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ওই আবেদনে লিখেছেন, মাতৃভূমির প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং দেশের জনগণের কল্যাণে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিসহ দেশে বিদেশে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন তারা। কিন্তু কোম্পানিটির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম তালুকদারের দুর্নীতির ফিরিস্তি নিয়ে দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতিতে প্রকাশিত ‘হোমল্যান্ড লাইফে দুর্নীতি: এক আজিজুল ইসলামই লোপাট করেছে কোটি কোটি টাকা, মেয়ের প্রেমিককে হত্যার অভিযোগ’ শীর্ষক খবরটি তাদের টনক নাড়িয়ে দেয়।
আব্দুর রাজ্জাক ওই আবেদনে লিখেছেন, “সংবাদটি দৃষ্টি গোচর হওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কোম্পানির তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ জুলহাসকে অবহিত করি এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলি। এছাড়া কোম্পানির ভুয়া ব্যবসার বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলি।”
“হোমল্যান্ড লাইফের এসব দুর্নীতি, অনিয়ম তদন্তের দাবি তোলায় তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ জুলহাস ও পরিচালক মোঃ সালেহ হোসেন আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। আমরা বলি, কোম্পানির বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম বিষয়ে তদন্ত করতে। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জুলহাস বলেন, আমি তদন্ত করবো না, কোন ব্যবস্থা নিব না। এ বিষয়ে কোন কথা বলবেন না এবং দেশে আসবেন না। আমরা বলি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অসুবিধা কোথায়? আমরা আরো বললাম গ্রাহক এবং কোম্পানির মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এত অসন্তোষ কেন? জবাবে তিনি (জুলহাস) বলেন, তদন্ত তো দূরের কথা, আপনারা যদি দেশে এসে কোম্পানি চালাতে চান, তাহলে আমাকে চেয়ারম্যান বানাতে হবে এবং পাঁচ কোটি টাকা দিতে হবে। নতুবা দেশে আসবেন না। এই টাকা না দিলে আপনাদেরকে দেশে আসলে জেল খাটাবো এবং জানে মেরে ফেলবো ইত্যাদি। তারপর কোম্পানির বোর্ডে কথা হবে বললে, সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমরা এজিএম অনুষ্ঠানের দিন অর্থাৎ ২১-০৯-২০২২ তারিখে এজিএম চলাকালীন আনুমানিক দুপুর ১ টার দিকে পূর্বপরিকল্পিত বর্তমান এমডি জনাব বিশ্বজিৎ মন্ডল, কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, মোঃ জুলহাস ও আইন বিভাগের কর্মকর্তা জুবায়েরসহ অজ্ঞাত আরো দুই-তিন জন পরস্পর সহযোগিতায় এবং আয়োজন করে (সেটআপ) মতিঝিল থানায় গোপনে গ্রেফতারি পরোয়ানা এনে রেখে আমাদেরকে ধরিয়ে দেয়, কোম্পানিকে দখল নিতে। কোরাম না থাকায় এজিএম হয় নাই। এবং ২২-০৯-২২ তারিখে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় কোরাম না থাকায় অর্থাৎ আমরা ৭ জন জেলে থাকায় পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু জুলহাস পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অপূর্ব আয়োজন করে একটি কথিত বোর্ড সভা করে, যা বেআইনি। আমরা জেল থেকে মুক্তির পর ১৪ জন পরিচালকের মধ্যে ১০ জনের উপস্থিতিতে মুলতবি বোর্ডসভা সম্পন্ন করে সভার কার্যবিবরণী আপনার বরাবর (আইডিআর চেয়ারম্যান) দাখিল করি। উক্ত সভায় সর্বসম্মতভাবে আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আমি ও ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জামাল মিয়া, উদ্যোক্তা পরিচালক ৭ জন এবং স্বতন্ত্র পরিচালক দুইজনসহ মোট ১১ জন কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আমার আমার দপ্তরে ০৩-১০-২০২২ তারিখে উপস্থিত হলে দেখতে পাই যে মোঃ জুলহাস বহিরাগতদের নিয়ে কোম্পানির পরিচালনা পরিষদ কক্ষে অবস্থান করছেন এবং আমাদেরকে অফিস থেকে চলে যেতে বিভিন্ন হুমকিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। একপর্যায়ে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালকগণ তাকে চেয়ারম্যানের জন্য সংরক্ষিত চেয়ার থেকে উঠতে বললে সে আমার দিকে তেড়ে আসে এবং
ধস্তাধস্তি করে। আমার সহকর্মীগণ আমাকে তার হাত থেকে প্রাণে রক্ষা করে।”

হোমল্যান্ড লাইফের নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া ওই আবেদনে অভিযোগ করেছেন, হোমল্যান্ড লাইফ থেকে “মোঃ জুলহাস ও অন্যদের পরস্পর সহযোগিতায় শত শত কোটি টাকা লোপাটের বিষয়টি যাতে সামনে না আসে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ যাতে তারা নির্বিঘেœ ভোগ করতে পারে সে জন্যই ব্রিটিশ বাংলাদেশি এই বিনিয়োগকারীদেরকে এভাবে অপদস্ত করে কোম্পানি দখলে নিতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
আইডিআরএ দেয়া ওই আবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়, “ মোঃ জুলহাস হোমল্যান্ড লাইফের লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের প্রিমিয়াম বাবদ দেয়া আমানতের অর্থ ও বীমা দাবির টাকা আত্মসাৎ করছেন। এই কাজে তাকে বর্তমানে সহযোগিতা করছেন কোম্পানির বর্তমান মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা , সেক্রেটারি ও সিএফও।”

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, কোম্পানিটির ১৪ জন পরিচালকের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ১১ জনই কোম্পানি ও গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় ঐকমত্যে রয়েছেন। তা সত্তে¡ও মোঃ জুলহাস ও সালেহ হোসেন সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামত উপেক্ষা করে তাদের সঙ্গে বেআইনি ও অপারাধমূলক কর্মকাÐ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থমন্ত্রী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও বিআইএ চেয়ারম্যান বরাবরেও চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আইডিআরএ ওই চিঠি দেয়ার পরপরই বৃহস্পতিবার বিকেলে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে পরিচালকরা বোর্ড রুমে মিটিং করছেন। আব্দুর রাজ্জাককে চেয়ারম্যানের আসনেও বসতে দেখা যায় এসময়। এ সময় আব্দুর রাজ্জাক জানান, পরিচালক আব্দুর রব, শামীম আহমেদ, স্বতন্ত্র পরিচালক ইসতিয়াক হোসেন চৌধুরী, শওকতুর রহমান তাদের সাথে ভার্চুয়ালি মিটিংয়ে যুক্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, পরিচালনা পর্ষদ আমাকে কোম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি।
কোম্পানির গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষায় যা যা করণীয় আমি তা করব। সমস্ত লুটপাট, দুর্নীতি ও জালিয়াতির যথাযথ তদন্ত হবে। গ্রাহকের আমানত, কোম্পানির অর্থ ও সম্পদ আত্মাসাৎ করে কেউ হজম করতে পারবে না। এ বিষয়ে যা যা করণীয় আমরা তা করব।

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদকে ঘিরে অচলাবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ চেয়ারম্যান
মোহাম্মদ জয়নুল বারী ব্যাংক-বীমা-অর্থনীতিকে বলেন, হোমল্যান্ড লাইফের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। ইতিমধ্যে আব্দুর রাজ্জাককে চেয়ারম্যান করে যে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়েছে কোম্পানির সিইও’র স্বাক্ষরসহ সেই সভার রেজুলেশন আমাদের কাছে জমা হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে আরো একটি পর্ষদ গঠন হয়েছে বলে খবর দেখছি। কিন্তু আমরা একটি পর্ষদের রেজুলেশন পেয়েছি। আজ ১০ পরিচালকের পক্ষ থেকে একটি আবেদনও দেয়া হয়েছে। এমন অবস্থায়
হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদকে কেন্দ্র করে ও গ্রাহকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ নিয়ে যা ঘটেছে তার প্রেক্ষিতে আমরা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী সপ্তাহে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। মোট কথা, গ্রাহকদের স্বার্থে যা যা করণীয় আমরা তা করব।##

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৯:১৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11255 বার পঠিত)

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।