শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম বেড়েই চলছে

২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ : ক্যাব

আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্উদ   |   রবিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   820 বার পঠিত

২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ : ক্যাব

২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। এমন ব্যয় বাড়ার পেছেন রয়েছে বেশ কিছু খাদ্যপণ্য, যার মধ্যে অন্যতম চাল। এসব তথ্য উঠে এসেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিবেদনে। ২০১৮ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ক্যাব।

রাজধানীর পনেরোটি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ও বিভিন্ন সেবা সার্ভিস থেকে তথ্য নিয়ে ক্যাব তৈরি করেছে জীবনযাত্রার ব্যয় সংক্রান্ত ২০১৮ সালের প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে বেড়েছিলো ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে। ২০১৮ সালে পণ্য ও সেবার দাম বাড়ে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ হারে যা ২০১৭ সালে ছিলো ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে সবধরনের চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। সেখানে মাছের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। সবজি ও চা পাতার দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ আর তরল দুধের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ করে। এছাড়াও ডিম, মাংস ও মুরগির দাম ৮, ৩ ও ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এক বছরে সাবানের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ।

তবে এসব পণ্যের মধ্যে চালের দাম বাড়া নিয়ে ক্যাব আলাদাভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে, কারণ এই একটি পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে কষ্ট পেতে হয় সবচেয়ে বেশি, যা গত কিছুদিনে আরো প্রকট হয়ে উঠেছে।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রত্যেক দিনই চালের দাম কিছুু না কিছু বাড়ছে, বিশেষ করে মোটা চাল যেটা সাধারণ মানুষ বেশি ব্যবহার করে, তাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেছে নতুন সরকার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবস্ত থাকবে, এই সুযোগে যদি আমরা সাতদিন দশদিন ব্যবসা করতে পারি, লাভবান হওয়া যাবে। এই অজুহাতে তারা এটা করেছে, তাছাড়া যৌক্তিক কোনো কারণ নাই।’

বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দামই বাড়ছে। গত এক মাসে মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম, গড়ে চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। চালের দামের এই ঊর্ধ্বগতির জন্য মিল মালিকদের দায়ী করছেন আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা। চালের দাম না কমায় সাধারণ ক্রেতারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

সরকারি হিসেবে ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বর্তমানে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবু বাজারে চালের বাড়তি দামে হতাশ সাধারণ মানুষ। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত এক মাসে প্রতি কেজি মিনিকেট চালের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য চালের দামও বাড়তি বলে জানান তারা।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে একজন ক্রেতা বলছিলেন, কেজিতে যদি পাঁচ টাকা করে বাড়ে তাহলে চিন্তা করেন বস্তায় কতো করে বাড়ে। বাড়ার তো একটা সীমা আছে। চালের বাজারটা আরো কম থাকা উচিত। ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৬০০ টাকা, এটা অনেক বেশিই হয়ে যায়।

চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের অসম প্রতিযোগিতাকেই দায়ী করছেন আড়তদাররা। রাজধানীর অন্যতম চালের আড়ত বাবুবাজারের একজন পাইকারি চাল বিক্রেতা বলছিলেন, ‘নির্বাচনের এক সপ্তাহ ১০ দিন আগ হইতে চালের দামটা বাড়া শুরু হইছে। নির্বাচনের পর হইতে আরো বেশি বাইড়া গেলোগা।’ অপর এক চাল ব্যবসায়ী বলছিলেন, মিল মালিকরা এমনভাবে বাজারকে আয়ত্বে নিয়ে গেছে, তারা ইচ্ছে করলে দাম কমাতে পারে, ইচ্ছা করলে দাম বাড়াতে পারে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের এক পাইকারি চাল বিক্রেতা বলেন, প্রতিটা মিল মালিকই বলছে, ধানের দাম বেশি। ধানের দাম বৃদ্ধি হওয়াতে চালের দাম বেশি। প্রত্যেকটা মিল মালিক যদি একসঙ্গে ধান কিনতে যায়। নতুন অবস্থায়ই তো ধানের দাম বেশি থাকবে, কারণ সবারই ধান দরকার, দাম তো বাড়বেই। চালের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে, সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রীর সামনে এই বাড়তি চালের দাম কমানোই চ্যালেঞ্জ আকারে দেখা দিয়েছে।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘যেই মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, তা আমরা অযৌক্তিক মনে করি। সরকারের কাছে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল থাকে তাহলে মূল্য সহসাই সহনীয় পর্যায়ে আসবে। আর না হলে যারা কারসাজি করেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’

খাদ্য পণ্যের পর মানুষের দুশ্চিন্তা যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে, সেখানেও দেখা যায় ২০১৮ সালে দুই রুমের বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আর সেবা খাতে যে মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে সেখানে চিকিৎসা ব্যয়ের বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে মনে করছে ক্যাব।

তবে ক্যাবের রিপোর্টে স্বস্তিদায়ক কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে দাম কমেছে বেশ কয়েকটি পন্যের। যার মধ্যে রয়েছে ডাল, লবণ, মসলা, চিনি, রসুন, কাঁচা মরিস, ঝিংগা, ঢেঁড়স ও লাল শাকসহ কিছু সবজি।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ৮:৪২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রডের দাম বাড়ছে
(11110 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।