• শেখ হাসিনা-আবে বৈঠক

    ২৫০ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি সই

    বিবিএনিউজ.নেট | ৩০ মে ২০১৯ | ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

    ২৫০ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি সই
    apps

    জাপানের সঙ্গে ২৫০ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ ও ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের উপস্থিতিতে গতকাল এ চুক্তি সই হয়।

    চার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় হবে। এগুলো হলো মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (লাইন-১), বিদেশী বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রকল্প (২) এবং জ্বালানি দক্ষতা ও সুরক্ষা সহায়ক প্রকল্প (পর্যায়-২)।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    এর আগে শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরো গভীর ও শক্তিশালী করতে আমরা একমত হয়েছি। আমরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছি, যেগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে।

    এদিন সন্ধ্যায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিল ও রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশ একগুচ্ছ বদলে যাওয়ার মতো উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাপান সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে আমাদের পাশে রয়েছে।


    এর আগে গত বুধবার সকালে জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে রফতানিমুখী খাতগুলোয় বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানে জাপানি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, আমরা আমাদের রফতানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য দেখতে চাই। এক্ষেত্রে জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে রফতানিমুখী খাতগুলোয় বিনিয়োগের জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের আহ্বান জানাচ্ছি। আমন্ত্রণ জানাচ্ছি বাংলাদেশে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে সব সম্ভাবনা কাজে লাগানোর।

    বিদেশী বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অন্যতম উদার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আইনের মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগ সুরক্ষা, উদার কর নীতি, মেশিনারি আমদানিতে কর রেয়াত সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ। শতভাগ বিদেশী মালিকানা, লভ্যাংশ এবং মূলধনের পূর্ণ প্রত্যাবাসন সুবিধা দিচ্ছি।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, জাপানসহ বিশ্বের বেশির ভাগ শীর্ষ বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যয়, মানবসম্পদ, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সুবিধা, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ সুরক্ষা ইত্যাদির বিচারে বাংলাদেশ দ্রুত উদীয়মান আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য।

    গত বছর জাপান টোব্যাকোর বাংলাদেশে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এ ধরনের আরো বিনিয়োগ দেখতে চাই। এশিয়ায় জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি গন্তব্য।

    ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ দুই অংকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে শীর্ষ ৩২টি দেশের মধ্যে রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী দেশের একটি হবে বাংলাদেশ।
    বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি উদ্যোক্তা তৈরি ও বেসরকারি বিনিয়োগে। এটা দেশী বা বিদেশী হতে পারে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আড়াইহাজারে জাপানের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্দিষ্ট করা আছে। সরকার টু সরকার এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরীতে প্রচুর জায়গা নেয়া হয়েছে।

    আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের কাজ চলছে এবং আরো ২৬টি হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণাধীন রয়েছে। বাংলাদেশের ৮০০ আইটি কোম্পানির মধ্যে ১৫০ কোম্পানি বিদেশী গ্রাহকদের বিশেষ আইটি সেবা দিচ্ছে। মাইক্রোসফট, ইনটেল, আইবিএম, ওরাকল, সিসকোসহ স্বনামধন্য কোম্পানিতে বাংলাদেশের ২০ হাজার আইটি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন।

    তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক সুনামের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওষুধ শিল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বড় একটা কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকাসহ ১০০টির বেশি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে।

    জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বমানের সমুদ্র্র্রগামী জাহাজ নির্মাণ করে বাংলাদেশ বিশ্বের নজর কেড়েছে। ইউরোপসহ ১৪টি দেশে বাংলাদেশ যাত্রী ও কার্গো জাহাজ সরবরাহ করছে।

    অনুষ্ঠানে জাপানের ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে বাংলাদেশ সরকারের নীতিরও প্রশংসা করেন তারা। দেশটির ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন জাপানের অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্য। বর্তমানে ২৮০টির মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ আছে।

    বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক জাপান-বাংলাদেশ যৌথ কমিটির (জেবিসিসিইসি) তেরুয়া আসাদা, জাইকার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজুহিকো কোশিকাওয়া, জিত্রো প্রেসিডেন্ট ইসুশি আকাহোশি, সুমিতমো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসায়ুকি হাইদো, মিত্সুই অ্যান্ড কো. লিমিটেডের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট শিনসুকি ফুজি, সজিতজ করপোরেশনের সিনিয়র ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়তারো হিরাই, মিত্সুবিশি মোটরসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ুজিরো কোবাশি, হোন্ডা মটরসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নোরিয়াকি আবে, মারোহিসা কো. লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট কিমিনবু হিরাইসি প্রমুখ। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান প্রমুখ।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০১৯

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রডের দাম বাড়ছে

    ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি