রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

২৭ বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আইডিআরএ

বিবিএনিউজ.নেট   |   বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   561 বার পঠিত

২৭ বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আইডিআরএ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া ২৭ বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এ জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন বাতিল করার চিন্তা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা শুরু করার তিন বছরের মধ্যে বীমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিন বছরের মধ্যে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে না পারলে প্রতিদিনের জন্য জরিমানার বিধান রয়েছে।

তিন বছর পার হওয়ার পর যতদিন কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হতে না পারবে ততদিন প্রতিদিনের জন্য ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে একটি কোম্পানিকে বছরে ১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গুণতে হয়।

এদিকে বছরে এমন বড় অঙ্কের জরিমনা গুণতে হলেও দেশের ১৮টি জীবন বীমা এবং ৯টি সাধারণ বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। এর মধ্যে ২৩ বছরেও তালিকাভুক্ত হতে না পারা কোম্পানিও রয়েছে।

বীমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না, তার অধিকাংশই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থাও বেশ দুর্বল। শত শত গ্রাহকের বীমা দাবি টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে এসব কোম্পানি বিরুদ্ধে।

বছরের পর বছর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ৭৮টি বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠক করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

অর্থমন্ত্রীর ওই হুঁশিয়ারির পর আইডিআরএ থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২৭টি কোম্পানিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আইডিআরএ সদস্য গকুল চাঁদ দাসের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্ত না হলে বীমা আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেয়া হলেও বীমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে লাইসেন্স বাতিল করার সুযোগ নেই।’ বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে আইডিআরএ এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান বীমা আইনে যা আছে তাতে তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে কোনো কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার সুযোগ নেই। আইনে তালিকাভুক্ত না হওয়ার শাস্তি হিসেবে জরিমানার বিধান রয়েছে। এ কারণে আইনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যাতে তালিকাভুক্ত না হওয়ার অপরাধে কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা যায়।

এদিকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দেয়া চিঠিতে আইডিআরএ বলছে, যেসব জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব আহ্বানের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে দেশের পুঁজিবাজারে এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হয়ে শর্ত পূরণে সক্ষম হয়নি তারদেরকে আগামী ডিসেম্বর তথা ৩ মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বীমা আইন ২০১০ এর ২১ ধারা এবং বীমাকারীর মূলধন ও শেয়ার ধারণ বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধান মোতাবেক এ নির্দেশ পালন করতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ডিসেম্বরের মধ্যে কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হতে না পারলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইডিআরএর সদস্য ড. এম মোশারফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি বেশ জটিল। কোম্পানিগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে তালিকাভুক্ত হতেই হতে। এ বিষয়ে কী করা যায় তা আমরা ভেবে দেখছি।

আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত না হলে কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ নেই, তাহলে এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইন সংশোধন করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মোটা অঙ্কের জরিমনা করার পরও কোম্পানিগুলো কেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না? -এমন প্রশ্নের জবাবে আইডিআরএর এ সদস্য বলেন, তালিকাভুক্ত হলে অনেক কিছু কমপ্লায়েন্স করতে হয়। তালিকাভুক্ত না হলে কমপ্লায়েন্স না করলেও চলে। তালিকাভুক্ত না হওয়ার পেছনে এটি একটি বড় কারণ।

বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশ।

ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স এবং সিকদার ইন্স্যুরেন্স।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১:৫৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।