অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এবং কৃষিখাতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ-এ একথা বলেন তিনি। বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে নীতিগত সুদের হার প্রায় ১০ শতাংশে অবস্থান করায় ঋণের সুদের হার বেড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর থাকছে না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং কম মুনাফাভিত্তিক শিল্পগুলো বেশি চাপে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি নীতিগত সুদের হার ধাপে ধাপে কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং এসএমই খাতের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ঋণ গ্রহণ ও প্রদানের সুদের হারের মধ্যে ব্যবধান ৫ শতাংশের বেশি হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে স্প্রেড রেট বেড়েছে যা স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিনিয়োগ পরিবেশে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সুশাসন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি উল্লেখ করেন, ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালার সময়সীমা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনা, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং বাজারে কম চাহিদাÑএসব কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকৃত বা অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পুনর্বিবেচনা এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা অন্তত ৬ মাসে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি কিছু নির্দিষ্ট পণ্য, সেবা ও রপ্তানি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। তিনি বিশেষভাবে সিএমএসএমই ও কৃষিখাতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে লজিস্টিক ও পণ্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে দেশ। এই অবস্থার উন্নয়নে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোঃ সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Posted` ৫:৩৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com