বুধবার ৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

Ad
x

বিশ্বের সর্বাধিক মূল্যবান ১০টি প্রতিষ্ঠান

সজল সরকার

রবিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৫   প্রিন্ট   ৪২৪ বার পঠিত

বিশ্বের সর্বাধিক মূল্যবান ১০টি প্রতিষ্ঠান

আমরা আজ এমন এক যুগে দাঁড়িয়েছি যেখানে প্রযুক্তি, তথ্য ও উদ্যোগ একসাথে বিশ্ববাজারের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। বাজার মূলধারা বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন-এর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলো শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, তারা ভবিষ্যতের অর্থনীতির রূপকারও। ২০২৫ সালের দিকে দেখা গেছে- এই মূল্যমানের তালিকায় প্রায় এক বিরল রূপান্তর ঘটেছে: প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এত এগিয়ে গেছে যে বিশ্বে ‘সবচেয়ে বড়’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা বহু মাস ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

নিচে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০টি কোম্পানির সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো:

এনভিডিয়া (যুক্তরাষ্ট্র):
এই অবস্থানে রয়েছে চিপ উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-প্রসেসিং খাতে এক বৃহৎ কোম্পানি এনভিডিয়া। গত বছরে তার বাজার মূল্য চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও ওপর উঠে গেছে।
দ্রুত বর্ধনশীল এআই চিপস, গেমিং ও ডেটা-সেন্টার চাহিদা-ই এ প্রতিষ্ঠানকে ওপরে তুলেছে। এর ফল দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন শুধু ভবিষ্যতের নয়, নির্বাচিত আজকের ল্যান্ডমার্কও।

মাইক্রোসফ্ট (যুক্তরাষ্ট্র):
সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা ও এআই রূপান্তরে এই কোম্পানিটির অবদান সবচেয়ে বড়। আগের দশকে অপারেটিং সিস্টেম ও অফিস স্যুটের জন্য পরিচিত হলেও এখন তার মূলে রয়েছে ক্লাউড ও এআই-ভিত্তিক সেবা। শুধু পণ্য নয়, সেবা-মডেল ও প্ল্যাটফর্মকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হলে বাজারে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি হয়।

এ্যাপল (যুক্তরাষ্ট্র):
গ্রাহক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় বিশেষ এই ব্র্যান্ড বহু বছর ধরেই আলোচনায়। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার এবং ঘরোয়া ডিজিটাল যন্ত্রের ক্ষেত্রে তার শক্ত অবস্থান ছিল। তবে বর্তমানে শুধু পণ্য নয়- সেই পণ্যকে গ্রাহক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করা তার সবচেয়ে বড় কৌশল। এতে বুঝা যায় ব্র্যান্ড-বিশ্বাস এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা আজ বাজারে বড় ভেল্যু তৈরি করে।

অ্যামাজন ডট কম (যুক্তরাষ্ট্র):
অনলাইন বিক্রয়, সরবরাহ-শৃঙ্খলা, লজিস্টিকস এবং ক্লাউড সার্ভিস একসাথে নিয়ে এই কোম্পানিটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাহক-সেবা, দ্রুত ডেলিভারি ও গ্রাহক-আকর্ষণ তন্নতন্নভাবে হাতিয়ার করেছে। তার ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম আজ বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও সরকারী সংস্থার জন্য এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অ্যালফাবেট (গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান)-(যুক্তরাষ্ট্র):
ডিজিটাল সার্চ, বিজ্ঞাপন, ভিডিও ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম-এর সঙ্গে যুক্ত এই কোম্পানিটি ‘অনুসন্ধান’ থেকে আজ তথ্য প্রযুক্তির এক বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। শুধু সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন নয়, ক্লাউড সেবা, এআই-তথ্য বিশ্লেষণ, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সবই তার অংশ। শিক্ষনীয় হলো যে এক-এক ক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে বহু প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্কেল আপ করলে বাজারে নতুন মাত্রা আসে।

মেটা প্ল্যাটফর্ম (যুক্তরাষ্ট্র):
সামাজিক যোগাযোগ, ভার্চুয়াল বাস্তবতা ও বিজ্ঞাপন রপ্তানিতে বিশেষ এই প্রতিষ্ঠান। তার প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক মডেল দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে, এবং তথ্য-ভিত্তিক মনিটরিং ও রেভিনিউ বেড়েছে। আজকের যুগে সামাজিক মিডিয়া ও ডিজিটাল যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম-সাধনাই বড় ব্যবসায়িক শক্তির অংশ হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরামকো (সৌদি আরব):
প্রযুক্তি-চালিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া এই তালিকায় উঠে এসেছে এক তেলের ও গ্যাস খাতের কোম্পানি যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যদিও প্রযুক্তি দিক এগিয়ে আছে, রিসোর্সভিত্তিক খাতও এখনও গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ট্রান্সফরমেশনমাত্রায় প্রযুক্তি আগাচ্ছে, তেলের খাতের শক্তি আর রিয়েল অ্যাসেট-ভিত্তিক খাতের মূল্য এখনও কম হয়নি।

ব্রডকম (যুক্তরাষ্ট্র):
বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও অটোমোবাইল প্রযুক্তিতে এই প্রতিষ্ঠান দ্রুত এগিয়েছে। শুধু গাড়ি বানানো নয়, শক্তি সঞ্চয়, সোলার প্রযুক্তি ও স্তরগত উদ্ভাবনও তার কৌশল।

টিএসএমসি (তাইওয়ান):
সেমিকন্ডাকটর বা চিপ উৎপাদন ক্ষেত্রে দক্ষ এই প্রতিষ্ঠান- বিশ্বের নানা বড় প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য চিপ তৈরি করছে। এআই-চিপের উচ্চ চাহিদায় এই কোম্পানিটি বড় অংশ দখল করেছে। প্রযুক্তি উৎপাদন-সাপ্লাই চেইন-এর গুরুত্ব যত বাড়ছে, চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও বাজারে বড় দখল নিতে শুরু করেছে।

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (যুক্তরাষ্ট্র):
বহুমুখী বিনিয়োগ ও বিভিন্ন শিল্পে কার্যকর এই প্রতিষ্ঠান- ইতিহাসে দুর্লভ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও প্রযুক্তি খাতে না হলেও, তার বিনিয়োগ ও বাজার-নিবেশ পরিবর্তনে যথেষ্ট স্পন্দন রয়েছে যাতে মনে করা হচ্ছে একক খাতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হলে প্রতিষ্ঠান স্থিতিস্থাপকতা পায়।

বর্তমান তালিকার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি-ভিত্তিক বা তথ্যপ্রযুক্তি-চালিত। এতেই বুঝা যায় যে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তিই এখন বাজার নিয়ন্ত্রক। একই সঙ্গে দেখা যায়- গ্রাহক অভিজ্ঞতা, প্ল্যাটফর্ম-মডেল, নতুন প্রযুক্তি (বিশেষ করে এআই)-এর ওপর শক্ত দৃষ্টি রাখা ছাড়া বড় মূল্য অর্জন করা কঠিন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি শিক্ষা দেয় যে- আমাদের দেশেও প্রযুক্তি সেক্টরের ওপর নজর দেয়া জরুরি। স্থানীয় স্টার্টআপ, ফিনটেক, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর বিনিয়োগ বাড়লে আমরা বিশ্ববাজার-এর সুযোগ পেতে পারি। তবে শুধুই এগিয়ে যাওয়া নয়, বাজারের অনিশ্চয়তা, নীতিগত পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এসব বিষয়েও প্রস্তুত থাকতে হবে। বড় কোম্পানির মূল্যমান দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে- তাই স্থিতিশীলতা ও নমনীয়তা দুইই প্রয়োজন।

 

Facebook Comments Box

Posted` ৫:২০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

প্রধান সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com