সজল সরকার
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রিন্ট ১২৬ বার পঠিত
বিশ্বের অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই অর্থ বা সেরা পণ্যের জন্য নামকরা, তবে সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবই কাজের পরিবেশের দিক দিয়ে সেরা নয়। সেরা কর্ম পরিবেশের দিক দিয়ে বিশ্বের ১০ টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিম্বরূপঃ
১. গুগল: সার্চ ইঞ্ছিন গুগল এমনিতেই গোটা বিশ্বে নামকরা। ৫৬ হাজারেরও বেশি কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্য গুগল আগে থেকেই কাজের পরিবেশের দিক থেকে বিশ্বের সেরা। কর্মীরা যেন আরও চিন্তাবিহীনভাবে কাজে মনোযোগ দিতে পারে সেজন্য গুগল কর্তৃপক্ষ এবার পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করেছে। শুধু তাই নয়, গুগলে চাকুরীরত নতুন বাবারা পায় বেতনের বাড়তি ডলার যা দিয়ে বাচ্চার প্রথম ৩ মাসের খরচ চলে।
২. সাস ইন্সটিটিউট: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘সাস’ তাদের অফিসে বেবি কেয়ার সেন্টারসহ চিকিৎসা ও জিমনেসিয়াম রেখেছে যাতে কর্মীরা এসব নিত্যদিনের বিষয়াদি নিয়ে মোটেও ভাবনাচিন্তা না করেন। আর তাতে সুবিধা হচ্ছে কর্মীরা মন নিয়ে কাজ করতে পারছেন। প্রতিষ্ঠানটির সারা বিশ্বে ২৩ হাজারের বেশি কর্মী আছে।
৩. নেট এ্যাপ: তথ্য সংরক্ষণের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করে নেট এ্যাপ নামের প্রতিষ্ঠানটি। কর্ম পরিবেশের দিক দিয়ে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে এটি। কর্মীদের নিয়মিত ছুটির বাইরেও আছে ৪০ ঘন্টার ছুটি যা তাদের মনোবল ঠিক রাখে কাজ করার ক্ষেত্রে। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৩ হাজার কর্মী রয়েছে।
৪. টেলিফানিয়া: আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান টেলিফোনিয়ার প্রধান কার্যালয় স্পেনে অবিস্থিত। কর্মীদের দক্ষতা ও কর্ম ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির জুড়ি নেই। এখানে কর্মীদের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে এবং ইচ্ছামত কাজ করে তা সময়মত প্রদান করলেই হয়। অফিস পালনের কড়া নিয়মনীতি এখানে থোরায় কেয়ার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজারের মত।
৫. ইএমসি: তথ্য সংরক্ষণ, মোবাইল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের কষ্ট নিজের কাঁধে নেয়। সুন্দর কর্ম পরিবেশের এ প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য সম্প্রতি কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেল ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয়।
৬. মাইক্রোসফ্ট: অফিস যেতে ইচ্ছা করছে না- তাহলে চাকুরী নিয়ে চলে যান মাইক্রোসফটে। সম্প্রতি তারা কর্মীদের জন্য বাড়ি বসে কাজের নিয়ম করেছে অর্থাৎ কাউকে অফিস যেতে ভাল না লাগলে বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারবে এবং তা অফিসের ইমেইলে পাঠিয়ে দিলেই হবে। মাইক্রোসফটের কর্মী সংখ্যা এখন ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি।
৭. অটোডেস্ক: ত্রিমাত্রিক ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অটোডেস্ক কর্মীদের উদ্ভাবনী বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েবসাইটে শেয়ার করার ক্ষমতা দিয়েছে যার মাধ্যমে কর্মীরা নিজের কাজ অন্যকে জানাতে পারেন এবং সেরা কাজের জন্য আবার নিজের অফিস থেকেও পুরষ্কৃত হতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার।
৮. সিসকো: নেটওয়ার্কিং এ কাজ করা বিশ্বের নামী প্রতিষ্ঠান সিসকো বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তাদের ৭০ হাজার কর্মীদের মনোরঞ্জনের জন্য অনেক কিছুই করে থাকে। সস্প্রতি তারা সিলিকন ভ্যালিতে ৩০ হাজার কর্মী ও তাদের প্রিয়জনদের জন্য আয়োজন করে কনসার্টের যেখানে বিশ্বের খ্যাতনামা সঙ্গীত শিল্পীরা গান গান।
৯. অ্যাটেন্টো: সফ্টওয়ার নির্র্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাটেন্টো তাদের কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে নানামূখী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে থাকে। দেড় লাখ কর্মী সমস্বয়ের এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মীদের ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নায়ু ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে।
১০. এনভিডিয়া: উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক কাজের সংস্কৃতি বিরাজ করে এনভিডিয়া কোম্পানিতে। এআই ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে এখানে। কর্মীদের বাধা সময়সূচিতে কাজ করতে হয় না এখানে। ইচ্ছা করলে বাসায় বসেও কর্মীরা কাজ করতে পারে (হাইব্রিড/রিমোট কাজ)। অফিসে মুক্ত মতপ্রকাশ ও আইডিয়া শেয়ারিং পরিবেশ রয়েছে এবং টিমওয়ার্ক ও সহযোগিতামূলক নেতৃত্ব বিরাজমান। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যাতে অফিসের কাজে কেউ অস্বস্থি বোধ না করে।
Posted ০৮:১৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com